ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঢাবিতে চা-শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরল নাটক ‘১৭০ টাকা’ Logo ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের হুমকি ট্রাম্পের Logo মধ্যপ্রাচ্য থেকে চলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বিমানবাহী রণতরী Logo আমিও শ্রমিক পরিবার থেকে এসে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি : হান্নান মাসউদ Logo অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয়ের অভিযানে আইআরজিসির ১৪ সদস্য নিহত Logo ফের হামলা হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোও তাদের ঘাঁটির মতো পুড়বে : আইআরজিসি Logo লাকসামে বাল্যবিবাহ বন্ধে ছুটে গেলেন এমপি নিজেই Logo অসুস্থ সারজিস আলমকে দেখতে গেলেন বিরোধীদলীয় নেতা Logo আগামী মে দিবসে ৯ লাখ শ্রমিক নিয়ে সমাবেশ করতে চান নজরুল ইসলাম খান Logo ‘সব ফসল শেষ, পুরো বছর কেমনে চলবাম’

ঢাবিতে চা-শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরল নাটক ‘১৭০ টাকা’

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:১৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শোষণ ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরতে মঞ্চস্থ হয়েছে পথনাটক ‘১৭০ টাকা’। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন পায়রা চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।

আয়োজকরা বলেন, এই প্রযোজনার মাধ্যমে তারা একটি ‘অস্বস্তিকর কিন্তু বাস্তব’ সত্য সামনে আনতে চেয়েছেন।

নাটকের শুরুতেই ‘চল মিনি আসাম যাবো, দেশে বড় দুখ রে’ গানের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের ইতিহাস ও যন্ত্রণার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়। কাহিনির বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রমিকদের দৈনন্দিন সংগ্রাম, অপ্রতুল মজুরি, স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষার অভাব এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা দাসত্বসদৃশ জীবনযাপন তুলে ধরা হয়।

নাটকের মাঝামাঝি সময়ে ‘মালিক সম্প্রদায়’ বা শোষণমূলক ব্যবস্থার প্রতীকী চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে। এর মাধ্যমে চা-বাগানের শ্রমিকদের ওপর চলমান নিপীড়ন ও অমানবিক শ্রমপরিবেশ ফুটিয়ে তোলা হয়। ‘ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রি, এখানে থেমো না’ গানের মাধ্যমে নাটকটির সমাপ্তি ঘটে।

নাটকটির লেখক ও নির্দেশক মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় বলেন, দেশের অন্যতম পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে চা-শ্রমিকরা এখনো ন্যূনতম মানবিক জীবন থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার—সব ক্ষেত্রেই তারা বৈষম্যের শিকার।

তিনি বলেন, আমরা সংস্কৃতির মানুষ, আমাদের কাজ প্রশ্ন তোলা। এই নাটকের মাধ্যমে আমরা সেই প্রশ্নই তুলেছি, এর উত্তর রাষ্ট্র ও সমাজকে দিতে হবে।

নাটকের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের নিয়ে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন আয়োজকরা। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা ও নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা, চা-বাগানের শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং চা-শ্রমিকদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার ও জমির মালিকানা প্রদান।

অভিনয়ে অংশ নেওয়া ওহিদুজ্জামান টনি বলেন, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কোনো দয়া বা সহানুভূতির বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নাটকে আরও অভিনয় করেন নিলয় বালা, আফরীনা আবতাহি আতীশা, তাসনিয়াদ শাওলিন, নাহিদ আলম ও তাসকিন খাঁন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবিতে চা-শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরল নাটক ‘১৭০ টাকা’

ঢাবিতে চা-শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরল নাটক ‘১৭০ টাকা’

আপডেট সময় ০২:১৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

বাংলাদেশের চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শোষণ ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরতে মঞ্চস্থ হয়েছে পথনাটক ‘১৭০ টাকা’। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন পায়রা চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।

আয়োজকরা বলেন, এই প্রযোজনার মাধ্যমে তারা একটি ‘অস্বস্তিকর কিন্তু বাস্তব’ সত্য সামনে আনতে চেয়েছেন।

নাটকের শুরুতেই ‘চল মিনি আসাম যাবো, দেশে বড় দুখ রে’ গানের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের ইতিহাস ও যন্ত্রণার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়। কাহিনির বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রমিকদের দৈনন্দিন সংগ্রাম, অপ্রতুল মজুরি, স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষার অভাব এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা দাসত্বসদৃশ জীবনযাপন তুলে ধরা হয়।

নাটকের মাঝামাঝি সময়ে ‘মালিক সম্প্রদায়’ বা শোষণমূলক ব্যবস্থার প্রতীকী চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে। এর মাধ্যমে চা-বাগানের শ্রমিকদের ওপর চলমান নিপীড়ন ও অমানবিক শ্রমপরিবেশ ফুটিয়ে তোলা হয়। ‘ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রি, এখানে থেমো না’ গানের মাধ্যমে নাটকটির সমাপ্তি ঘটে।

নাটকটির লেখক ও নির্দেশক মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় বলেন, দেশের অন্যতম পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে চা-শ্রমিকরা এখনো ন্যূনতম মানবিক জীবন থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার—সব ক্ষেত্রেই তারা বৈষম্যের শিকার।

তিনি বলেন, আমরা সংস্কৃতির মানুষ, আমাদের কাজ প্রশ্ন তোলা। এই নাটকের মাধ্যমে আমরা সেই প্রশ্নই তুলেছি, এর উত্তর রাষ্ট্র ও সমাজকে দিতে হবে।

নাটকের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের নিয়ে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন আয়োজকরা। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা ও নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা, চা-বাগানের শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং চা-শ্রমিকদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার ও জমির মালিকানা প্রদান।

অভিনয়ে অংশ নেওয়া ওহিদুজ্জামান টনি বলেন, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কোনো দয়া বা সহানুভূতির বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নাটকে আরও অভিনয় করেন নিলয় বালা, আফরীনা আবতাহি আতীশা, তাসনিয়াদ শাওলিন, নাহিদ আলম ও তাসকিন খাঁন।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481