Deprecated: Creation of dynamic property ReduxFramework::$core_instance is deprecated in /home2/somokontho/public_html/wp-content/themes/template-pro/lib/redux/redux-core/inc/classes/class-redux-args.php on line 210

Deprecated: Creation of dynamic property ReduxFramework::$core_thread is deprecated in /home2/somokontho/public_html/wp-content/themes/template-pro/lib/redux/redux-core/inc/classes/class-redux-args.php on line 211
সংসদ হবে সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু
Deprecated: Creation of dynamic property ReduxFramework::$google_array is deprecated in /home2/somokontho/public_html/wp-content/themes/template-pro/lib/redux/redux-core/inc/fields/typography/class-redux-typography.php on line 1370

Deprecated: Creation of dynamic property Redux_Import_Export::$is_field is deprecated in /home2/somokontho/public_html/wp-content/themes/template-pro/lib/redux/redux-core/inc/extensions/import_export/import_export/class-redux-import-export.php on line 35
ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধকে ‘ভুল’ মনে করেন: জরিপ Logo ঢাবিতে চা-শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরল নাটক ‘১৭০ টাকা’ Logo ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের হুমকি ট্রাম্পের Logo মধ্যপ্রাচ্য থেকে চলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বিমানবাহী রণতরী Logo আমিও শ্রমিক পরিবার থেকে এসে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি : হান্নান মাসউদ Logo অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয়ের অভিযানে আইআরজিসির ১৪ সদস্য নিহত Logo ফের হামলা হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোও তাদের ঘাঁটির মতো পুড়বে : আইআরজিসি Logo লাকসামে বাল্যবিবাহ বন্ধে ছুটে গেলেন এমপি নিজেই Logo অসুস্থ সারজিস আলমকে দেখতে গেলেন বিরোধীদলীয় নেতা Logo আগামী মে দিবসে ৯ লাখ শ্রমিক নিয়ে সমাবেশ করতে চান নজরুল ইসলাম খান

সংসদ হবে সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাজনীতিকে পুঁজি করে অনেক নেতা নির্বাচনের পূর্বে অতি-কথন আক্রমণাত্মক আচরণ কথার ফুলঝুরি আশ্বাসে আশ্বাসে মানুষকে নাভিশ্বাস করে তুলেছিল। নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার পর সেগুলো হাওয়ায় উড়তে থাকে। চায়ের দোকানে অফিস আদালতে বিষয়গুলো টকশোতে পরিণত হয়। আবার এক সময় কালের গর্ভে সেগুলো বিলীন হয়ে যায়। মানুষ কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ভুলে যায় সবকিছু। আর ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক।

২০২৬ সালের শতাব্দীর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন জনসভায় তারেক রহমান তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড সারা বাংলাদেশে বিতরণ করেছেন। গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের কাছে ছিল এটা বেঁচে থাকার সম্বল।

এটাকে অবলম্বন করে তারা তিন বেলা তিন মুঠো স্বামী সন্তান নিয়ে ভাত খেতে পারবে। তাদের চোখে মুখে ছিল আনন্দের উচ্ছ্বাস। এই টাকা হাতে পেয়ে তারা অনেকে অনেক স্বপ্নের কথা বলেছেন। এটা নিয়ে বিরোধী দল নির্বাচনের সময় অনেক তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সমালোচনার কোনো উত্তর না দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমালোচকদের সময়োচিত সমুচিত জবাব দিয়েছেন।

বিগত সরকার ঘরে ঘরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছিল। এই সুযোগে স্থানীয় নেতারা শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে শুরু করে সামর্থ্য অনুযায়ী অধিক অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। পরিশেষে চাকরি তো দূরের কথা তারা টাকাগুলো শেষ পর্যন্ত ফিরে পায়নি। উদাহরণটা এজন্য যে, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসবেন, তাই যাতে স্থানীয় নেতারা কোনো অনৈতিক অর্থনৈতিক সুবিধা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করতে না পারে- সেদিকে সরকারকে কড়া বার্তা ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। তা না হলে হিতে বিপরীত হবে।

পর্যায়ক্রমে কৃষি ঋণ মাফ, কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান, তাছাড়া দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে যাকাত ব্যবস্থাকে আরও কীভাবে সুদৃঢ় করা যায়- সে ব্যাপারে প্রখ্যাত আলেম শায়েখ আহমাদুল্লাহসহ অন্য আলেমদের পরামর্শ নিয়েছেন। যা হবে স্বাধীনতা পরবর্তী কোন সরকারের নেওয়া যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে আলেম ওলামাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়েছেন তা থেকে তিনি শিক্ষা নিয়ে দেশ পরিচালনায় আলেমদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি পরিকল্পনার মধ্যে রেখেছেন।

ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে তিনি বদ্ধপরিকর। তিনি যে কতদূর যেতে চান সুশীল সমাজের অনুধাবন করার বা বোঝার বাকি নেই। কথায় বলে যে গাছটা বাড়ে অংকুরেই তার পাতা দেখলেই বোঝা যায়।

যমুনায় ইফতার পার্টিতে আলেমদের পেছনে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে কথা বলেছেন। কেন আলেমরা উঠে দাঁড়ালেন না। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো আহমাদুল্লাহ যখন একখানা কাগজ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলেন তখন প্রধানমন্ত্রী উঠে দাঁড়িয়ে তার কাছ থেকে কাগজটা নিয়েছেন। দিন দিন তিনি মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন। শান্তির প্রতীক সাদা একটা শার্ট পরিধান করে সাধারণভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে দিনে দিনে তিনি অসাধারণ হয়ে উঠেছেন। রাস্তাঘাটে তেমন প্রটোকল নেই। সাধারণ মানুষ গাড়ির মধ্য থেকে সালাম দিচ্ছে, তিনিও হাত বাড়িয়ে মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। সিগন্যালে অন্য পথচারীদের মত দাঁড়িয়ে আছেন। এ এক বিরল দৃষ্টান্ত। দেশের মানুষ তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। মানুষ তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছে।

খাল খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আরেকটি স্বপ্ন ছিল। আমি যখন নবম শ্রেণির ছাত্র ১৯৮১ সাল। তখন তিনি খাল খনন কর্মসূচিতে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বামন খালি গ্রামে এবং তালা উপজেলার ৩০ মাইল ভৈরব নগরে গিয়েছিলেন। খুব কাছ থেকে তাকে দেখেছি,যা আজও স্মৃতিতে অম্লান। ইতোমধ্যে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন নিজে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। এটা হবে কৃষি ক্ষেত্রে সবুজ বিপ্লব, কারণ জাতি আয়ের শতকরা ৭৫শতাংশ আসে কৃষি থেকে। সেটার উন্নয়ন হলে কৃষকের উন্নয়ন হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে। দেশ সমৃদ্ধ হবে।

গত ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল ওয়াক আউট করলেও পরে বিরোধীদল সরকারকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতার কথা বলেছে। তবে রাজনীতিবিদদের ভাষার মধ্যে শালীনতা ও মাধুর্য থাকাটা বাঞ্ছনীয়। রাষ্ট্রপতিকে আমরা অপমান করতে পারি না।

আপনারা তার কাছ থেকে শপথ বাক্য পড়লেন, অথচ একটা বক্তব্য বসে শুনতে পারলেন না। বিষয়টা সরকারি দলের সঙ্গে আগেই বোঝাপড়া করা উচিত ছিল। তাহলে জাতি এই দৃশ্য দেখার সুযোগ পেত না। আমরাও বিব্রত বোধ করতাম না। জাতির জন্য এটা দুঃখ ও লজ্জাজনক বিষয়।

সংসদকে প্রাণবন্ত করে গড়ে তোলার দায়িত্ব সরকারি এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সবার। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,সংসদই হবে সব সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থ নয়, জনগণ আপনাদের মধ্যে দেশপ্রেম দেখতে চায়। সবকিছুর ঊর্ধ্বে অবস্থান নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী হাজারো সমস্যা কীভাবে দূর করা যায় সে ব্যাপারে সরকারকে সাহায্য করুন। হরতাল অবরোধ রাজপথ নয়,মারামারি হানাহানি বিদ্বেষ নয়, সংসদেই সব সমস্যার সমাধান শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করুন।

প্রধানমন্ত্রী অফিস কক্ষে ছবি টাঙানোর পরিবর্তে সেখানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লিখেছেন। এটা একটা ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ, যা তিনি মানুষকে আল্লাহ এবং রাসূলের পথ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অল্প দিনে তিনি মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।  প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনাকে হারাতে চাই না। একটু নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আপনি আমাদের সম্পদ, রাষ্ট্রের সম্পদ, জনগণের সম্পদ। যে কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন সেই পথ এখনো কণ্টকাকীর্ণ। এই দুর্গম পথ আপনাকে পাড়ি দিতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে বিশ্বস্ত বন্ধু।

ইতোমধ্যে আপনার দেশসেবা মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট আপনার উদারতা ভালোবাসা, যা শত্রুদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। আপনার কোনো ভুল খুঁজে পাচ্ছে না। তবে চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য আপনি যে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছেন, তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

নিজে দলের এমপি মন্ত্রীদের জবাবদিহির মধ্যে রাখবেন। দেশের মানুষ আপনার সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। আপনাকে পারতে হবে, আপনি পারবেন, আপনি হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। আপনি জিতে গেলে বাংলাদেশ জিতে যাবে। বাংলাদেশ হাসবে।

মো. আব্দুর রাজ্জাক, লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অধ্যাপক, সমাজকর্ম বিভাগ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, ঢাকা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধকে ‘ভুল’ মনে করেন: জরিপ

সংসদ হবে সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু

আপডেট সময় ১২:৩১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাজনীতিকে পুঁজি করে অনেক নেতা নির্বাচনের পূর্বে অতি-কথন আক্রমণাত্মক আচরণ কথার ফুলঝুরি আশ্বাসে আশ্বাসে মানুষকে নাভিশ্বাস করে তুলেছিল। নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার পর সেগুলো হাওয়ায় উড়তে থাকে। চায়ের দোকানে অফিস আদালতে বিষয়গুলো টকশোতে পরিণত হয়। আবার এক সময় কালের গর্ভে সেগুলো বিলীন হয়ে যায়। মানুষ কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ভুলে যায় সবকিছু। আর ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক।

২০২৬ সালের শতাব্দীর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন জনসভায় তারেক রহমান তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড সারা বাংলাদেশে বিতরণ করেছেন। গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের কাছে ছিল এটা বেঁচে থাকার সম্বল।

এটাকে অবলম্বন করে তারা তিন বেলা তিন মুঠো স্বামী সন্তান নিয়ে ভাত খেতে পারবে। তাদের চোখে মুখে ছিল আনন্দের উচ্ছ্বাস। এই টাকা হাতে পেয়ে তারা অনেকে অনেক স্বপ্নের কথা বলেছেন। এটা নিয়ে বিরোধী দল নির্বাচনের সময় অনেক তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সমালোচনার কোনো উত্তর না দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমালোচকদের সময়োচিত সমুচিত জবাব দিয়েছেন।

বিগত সরকার ঘরে ঘরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছিল। এই সুযোগে স্থানীয় নেতারা শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে শুরু করে সামর্থ্য অনুযায়ী অধিক অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। পরিশেষে চাকরি তো দূরের কথা তারা টাকাগুলো শেষ পর্যন্ত ফিরে পায়নি। উদাহরণটা এজন্য যে, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসবেন, তাই যাতে স্থানীয় নেতারা কোনো অনৈতিক অর্থনৈতিক সুবিধা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করতে না পারে- সেদিকে সরকারকে কড়া বার্তা ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। তা না হলে হিতে বিপরীত হবে।

পর্যায়ক্রমে কৃষি ঋণ মাফ, কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান, তাছাড়া দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে যাকাত ব্যবস্থাকে আরও কীভাবে সুদৃঢ় করা যায়- সে ব্যাপারে প্রখ্যাত আলেম শায়েখ আহমাদুল্লাহসহ অন্য আলেমদের পরামর্শ নিয়েছেন। যা হবে স্বাধীনতা পরবর্তী কোন সরকারের নেওয়া যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে আলেম ওলামাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়েছেন তা থেকে তিনি শিক্ষা নিয়ে দেশ পরিচালনায় আলেমদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি পরিকল্পনার মধ্যে রেখেছেন।

ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে তিনি বদ্ধপরিকর। তিনি যে কতদূর যেতে চান সুশীল সমাজের অনুধাবন করার বা বোঝার বাকি নেই। কথায় বলে যে গাছটা বাড়ে অংকুরেই তার পাতা দেখলেই বোঝা যায়।

যমুনায় ইফতার পার্টিতে আলেমদের পেছনে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে কথা বলেছেন। কেন আলেমরা উঠে দাঁড়ালেন না। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো আহমাদুল্লাহ যখন একখানা কাগজ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলেন তখন প্রধানমন্ত্রী উঠে দাঁড়িয়ে তার কাছ থেকে কাগজটা নিয়েছেন। দিন দিন তিনি মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন। শান্তির প্রতীক সাদা একটা শার্ট পরিধান করে সাধারণভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে দিনে দিনে তিনি অসাধারণ হয়ে উঠেছেন। রাস্তাঘাটে তেমন প্রটোকল নেই। সাধারণ মানুষ গাড়ির মধ্য থেকে সালাম দিচ্ছে, তিনিও হাত বাড়িয়ে মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। সিগন্যালে অন্য পথচারীদের মত দাঁড়িয়ে আছেন। এ এক বিরল দৃষ্টান্ত। দেশের মানুষ তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। মানুষ তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছে।

খাল খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আরেকটি স্বপ্ন ছিল। আমি যখন নবম শ্রেণির ছাত্র ১৯৮১ সাল। তখন তিনি খাল খনন কর্মসূচিতে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বামন খালি গ্রামে এবং তালা উপজেলার ৩০ মাইল ভৈরব নগরে গিয়েছিলেন। খুব কাছ থেকে তাকে দেখেছি,যা আজও স্মৃতিতে অম্লান। ইতোমধ্যে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন নিজে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। এটা হবে কৃষি ক্ষেত্রে সবুজ বিপ্লব, কারণ জাতি আয়ের শতকরা ৭৫শতাংশ আসে কৃষি থেকে। সেটার উন্নয়ন হলে কৃষকের উন্নয়ন হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে। দেশ সমৃদ্ধ হবে।

গত ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল ওয়াক আউট করলেও পরে বিরোধীদল সরকারকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতার কথা বলেছে। তবে রাজনীতিবিদদের ভাষার মধ্যে শালীনতা ও মাধুর্য থাকাটা বাঞ্ছনীয়। রাষ্ট্রপতিকে আমরা অপমান করতে পারি না।

আপনারা তার কাছ থেকে শপথ বাক্য পড়লেন, অথচ একটা বক্তব্য বসে শুনতে পারলেন না। বিষয়টা সরকারি দলের সঙ্গে আগেই বোঝাপড়া করা উচিত ছিল। তাহলে জাতি এই দৃশ্য দেখার সুযোগ পেত না। আমরাও বিব্রত বোধ করতাম না। জাতির জন্য এটা দুঃখ ও লজ্জাজনক বিষয়।

সংসদকে প্রাণবন্ত করে গড়ে তোলার দায়িত্ব সরকারি এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সবার। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,সংসদই হবে সব সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থ নয়, জনগণ আপনাদের মধ্যে দেশপ্রেম দেখতে চায়। সবকিছুর ঊর্ধ্বে অবস্থান নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী হাজারো সমস্যা কীভাবে দূর করা যায় সে ব্যাপারে সরকারকে সাহায্য করুন। হরতাল অবরোধ রাজপথ নয়,মারামারি হানাহানি বিদ্বেষ নয়, সংসদেই সব সমস্যার সমাধান শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করুন।

প্রধানমন্ত্রী অফিস কক্ষে ছবি টাঙানোর পরিবর্তে সেখানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লিখেছেন। এটা একটা ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ, যা তিনি মানুষকে আল্লাহ এবং রাসূলের পথ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অল্প দিনে তিনি মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।  প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনাকে হারাতে চাই না। একটু নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আপনি আমাদের সম্পদ, রাষ্ট্রের সম্পদ, জনগণের সম্পদ। যে কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন সেই পথ এখনো কণ্টকাকীর্ণ। এই দুর্গম পথ আপনাকে পাড়ি দিতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে বিশ্বস্ত বন্ধু।

ইতোমধ্যে আপনার দেশসেবা মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট আপনার উদারতা ভালোবাসা, যা শত্রুদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। আপনার কোনো ভুল খুঁজে পাচ্ছে না। তবে চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য আপনি যে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছেন, তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

নিজে দলের এমপি মন্ত্রীদের জবাবদিহির মধ্যে রাখবেন। দেশের মানুষ আপনার সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। আপনাকে পারতে হবে, আপনি পারবেন, আপনি হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। আপনি জিতে গেলে বাংলাদেশ জিতে যাবে। বাংলাদেশ হাসবে।

মো. আব্দুর রাজ্জাক, লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অধ্যাপক, সমাজকর্ম বিভাগ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, ঢাকা।