ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সালাহউদ্দিনের নির্বাচনী জনসভায় দুই ‘খুদে খালেদা জিয়া’ Logo ৩ জেলার ভোটের ফল সংগ্রহে ওয়্যারলেস সিস্টেম ব্যবহার করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: ইসি Logo বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে : মির্জা ফখরুল Logo যথেষ্ট প্রমাণ থাকাতেই গ্রেফতার বঙ্গভবনের সেই কর্মকর্তা: ডিবি Logo বিএনপি, বঙ্গভবন মিলে জামায়াতের ওপর সাইবার অ্যাটাক চালাচ্ছে: গোলাম পরওয়ার Logo শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনের তফসিল নিয়ে যা জানালেন ইসি Logo মাটির ব্যাংকে আগামীর স্বপ্ন, আবেগাপ্লুত ফখরুল Logo ইইউ চুক্তির পর পর্তুগালে ভারতীয় পণ্যের আগ্রাসনের আশঙ্কা Logo ‘সুশাসন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির বিকল্প নেই’ Logo সংখ্যালঘু ভোটেই জয়-পরাজয়!

শীতকালে ভোরে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন কেন?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

শীতকাল এলেই ভোরের ঘুম থেকে ওঠা কঠিন হয়ে পরে। অ্যালার্ম বাজলেও তা উপেক্ষা করে অনেকে ঘুমিয়ে পরেন। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ, শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠতে প্রায় সবাইকেই বেগ পোহাতে হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে এ সমস্যার পেছনে রয়েছে শরীর ও মনের স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন যা ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সক্রিয় হয়। স্বাভাবিকভাবেই মানবদেহ ঠান্ডা আবহাওয়ায় শক্তি সঞ্চয় করতে চায়। শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে বিপাকক্রিয়ার গতি কমে যায়। ফলে অবসন্নতা ও ঘুমভাব বেড়ে যায়, যা সকালে দ্রুত সতেজ হতে বাধা সৃষ্টি করে। এ জৈবিক প্রতিক্রিয়ার কারণেই শীতকালে ভোরে ঘুম ভাঙা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। দেরিতে ঘুম ভাঙ্গার আরও কিছু কারণ রয়েছে।

ছোট দিন, বড় রাত

শীতকালে দিন ছোট হয় এবং রাত দীর্ঘ হয়। সূর্য দেরিতে ওঠায় দিনের আলো খুব কম পাওয়া যায়। এ কম আলো শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যালোকের অভাবে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এ হরমোন ঘুমের জন্য দায়ী, যার ফলে সকালে ঘুম ভাঙতে দেরি হয়।

ভিটামিন ডি এর ঘাটতি

শীতকালে পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পাওয়ায় অনেকের শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি দেখা দেয়। এই ভিটামিন শুধু হাড়ের জন্যই নয়, শরীরের শক্তি ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে ক্লান্তি, অবসন্নতা ও হালকা বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে, যা ভোরে ঘুম থেকে উঠা কঠিন করে তোলে।

 

শীতকালে অনেকেই বেশি ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার খান। এসব খাবার হজমে সময় লাগে, ফলে ঘুম গভীর হলেও সকালে শরীর অলস করে তোলে। এ ছাড়া রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা টিভি দেখার প্রবণতা ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করে, যার ফলে সকালে ক্লান্তি আরও বেড়ে যায়।

ঠান্ডার কারণে হাঁটাচলা ও ব্যায়াম কমে যায়। শারীরিক কার্যকলাপ কম হলে শরীরের শক্তিও কমে, ফলে সকালে সতেজ বোধ করা কঠিন হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা শীতকালেও হালকা ব্যায়াম চালিয়ে যান, তুলনামূলকভাবে ভোরে উঠতে তাদের কম সমস্যা হয়।

মানসিক প্রভাব

কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, মেঘলা আকাশ ও বাইরে যাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকের মধ্যে মন খারাপের অনুভূতি দেখা দেয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শীতকালে মানসিক চাপ বা মনমরা ভাব থাকলে ভোরে ওঠার আগ্রহ কমে যায়, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শীতকালে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বজায় রেখে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

রাতে একটু আগেভাগে ঘুমানো, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমানো, শাকসবজি, ডাল ও স্যুপের মতো হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, আগের রাতেই কাপড় প্রস্তুত রাখা এবং ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখার ব্যাপারেও তারা পরামর্শ দেন। এসব অভ্যাস শীতের সকালে ঘুম থেকে ওঠাকে তুলনামূলকভাবে সহজ করে তুলতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সালাহউদ্দিনের নির্বাচনী জনসভায় দুই ‘খুদে খালেদা জিয়া’

শীতকালে ভোরে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন কেন?

আপডেট সময় ০১:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

শীতকাল এলেই ভোরের ঘুম থেকে ওঠা কঠিন হয়ে পরে। অ্যালার্ম বাজলেও তা উপেক্ষা করে অনেকে ঘুমিয়ে পরেন। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ, শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠতে প্রায় সবাইকেই বেগ পোহাতে হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে এ সমস্যার পেছনে রয়েছে শরীর ও মনের স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন যা ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সক্রিয় হয়। স্বাভাবিকভাবেই মানবদেহ ঠান্ডা আবহাওয়ায় শক্তি সঞ্চয় করতে চায়। শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে বিপাকক্রিয়ার গতি কমে যায়। ফলে অবসন্নতা ও ঘুমভাব বেড়ে যায়, যা সকালে দ্রুত সতেজ হতে বাধা সৃষ্টি করে। এ জৈবিক প্রতিক্রিয়ার কারণেই শীতকালে ভোরে ঘুম ভাঙা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। দেরিতে ঘুম ভাঙ্গার আরও কিছু কারণ রয়েছে।

ছোট দিন, বড় রাত

শীতকালে দিন ছোট হয় এবং রাত দীর্ঘ হয়। সূর্য দেরিতে ওঠায় দিনের আলো খুব কম পাওয়া যায়। এ কম আলো শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যালোকের অভাবে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এ হরমোন ঘুমের জন্য দায়ী, যার ফলে সকালে ঘুম ভাঙতে দেরি হয়।

ভিটামিন ডি এর ঘাটতি

শীতকালে পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পাওয়ায় অনেকের শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি দেখা দেয়। এই ভিটামিন শুধু হাড়ের জন্যই নয়, শরীরের শক্তি ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে ক্লান্তি, অবসন্নতা ও হালকা বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে, যা ভোরে ঘুম থেকে উঠা কঠিন করে তোলে।

 

শীতকালে অনেকেই বেশি ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার খান। এসব খাবার হজমে সময় লাগে, ফলে ঘুম গভীর হলেও সকালে শরীর অলস করে তোলে। এ ছাড়া রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা টিভি দেখার প্রবণতা ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করে, যার ফলে সকালে ক্লান্তি আরও বেড়ে যায়।

ঠান্ডার কারণে হাঁটাচলা ও ব্যায়াম কমে যায়। শারীরিক কার্যকলাপ কম হলে শরীরের শক্তিও কমে, ফলে সকালে সতেজ বোধ করা কঠিন হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা শীতকালেও হালকা ব্যায়াম চালিয়ে যান, তুলনামূলকভাবে ভোরে উঠতে তাদের কম সমস্যা হয়।

মানসিক প্রভাব

কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, মেঘলা আকাশ ও বাইরে যাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকের মধ্যে মন খারাপের অনুভূতি দেখা দেয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শীতকালে মানসিক চাপ বা মনমরা ভাব থাকলে ভোরে ওঠার আগ্রহ কমে যায়, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শীতকালে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বজায় রেখে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

রাতে একটু আগেভাগে ঘুমানো, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমানো, শাকসবজি, ডাল ও স্যুপের মতো হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, আগের রাতেই কাপড় প্রস্তুত রাখা এবং ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখার ব্যাপারেও তারা পরামর্শ দেন। এসব অভ্যাস শীতের সকালে ঘুম থেকে ওঠাকে তুলনামূলকভাবে সহজ করে তুলতে পারে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481