ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস Logo দিল্লিতে বসে হুংকার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী Logo ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা ৭৯ শতাংশ মার্কিনির Logo ফ্রান্সকে বিদায় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন Logo স্পেনকে পেনাল্টি দেওয়াটা কি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল? Logo ৯৮ হাজার টাকায় হজযাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের Logo নারায়ণগঞ্জে বিদেশি পিস্ত\লসহ গ্রেপ্তার যুবক Logo ফ্রান্স ও স্পেনের শুরুর একাদশে কারা আছেন Logo ‘ফকল্যান্ড নয়, ফুটবলে মনোযোগ দিন’- ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে বললেন আর্জেন্টাইন যোদ্ধারা Logo শিক্ষামন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

শীতকালে ভোরে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন কেন?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

শীতকাল এলেই ভোরের ঘুম থেকে ওঠা কঠিন হয়ে পরে। অ্যালার্ম বাজলেও তা উপেক্ষা করে অনেকে ঘুমিয়ে পরেন। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ, শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠতে প্রায় সবাইকেই বেগ পোহাতে হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে এ সমস্যার পেছনে রয়েছে শরীর ও মনের স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন যা ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সক্রিয় হয়। স্বাভাবিকভাবেই মানবদেহ ঠান্ডা আবহাওয়ায় শক্তি সঞ্চয় করতে চায়। শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে বিপাকক্রিয়ার গতি কমে যায়। ফলে অবসন্নতা ও ঘুমভাব বেড়ে যায়, যা সকালে দ্রুত সতেজ হতে বাধা সৃষ্টি করে। এ জৈবিক প্রতিক্রিয়ার কারণেই শীতকালে ভোরে ঘুম ভাঙা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। দেরিতে ঘুম ভাঙ্গার আরও কিছু কারণ রয়েছে।

ছোট দিন, বড় রাত

শীতকালে দিন ছোট হয় এবং রাত দীর্ঘ হয়। সূর্য দেরিতে ওঠায় দিনের আলো খুব কম পাওয়া যায়। এ কম আলো শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যালোকের অভাবে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এ হরমোন ঘুমের জন্য দায়ী, যার ফলে সকালে ঘুম ভাঙতে দেরি হয়।

ভিটামিন ডি এর ঘাটতি

শীতকালে পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পাওয়ায় অনেকের শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি দেখা দেয়। এই ভিটামিন শুধু হাড়ের জন্যই নয়, শরীরের শক্তি ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে ক্লান্তি, অবসন্নতা ও হালকা বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে, যা ভোরে ঘুম থেকে উঠা কঠিন করে তোলে।

 

শীতকালে অনেকেই বেশি ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার খান। এসব খাবার হজমে সময় লাগে, ফলে ঘুম গভীর হলেও সকালে শরীর অলস করে তোলে। এ ছাড়া রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা টিভি দেখার প্রবণতা ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করে, যার ফলে সকালে ক্লান্তি আরও বেড়ে যায়।

ঠান্ডার কারণে হাঁটাচলা ও ব্যায়াম কমে যায়। শারীরিক কার্যকলাপ কম হলে শরীরের শক্তিও কমে, ফলে সকালে সতেজ বোধ করা কঠিন হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা শীতকালেও হালকা ব্যায়াম চালিয়ে যান, তুলনামূলকভাবে ভোরে উঠতে তাদের কম সমস্যা হয়।

মানসিক প্রভাব

কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, মেঘলা আকাশ ও বাইরে যাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকের মধ্যে মন খারাপের অনুভূতি দেখা দেয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শীতকালে মানসিক চাপ বা মনমরা ভাব থাকলে ভোরে ওঠার আগ্রহ কমে যায়, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শীতকালে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বজায় রেখে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

রাতে একটু আগেভাগে ঘুমানো, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমানো, শাকসবজি, ডাল ও স্যুপের মতো হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, আগের রাতেই কাপড় প্রস্তুত রাখা এবং ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখার ব্যাপারেও তারা পরামর্শ দেন। এসব অভ্যাস শীতের সকালে ঘুম থেকে ওঠাকে তুলনামূলকভাবে সহজ করে তুলতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস

শীতকালে ভোরে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন কেন?

আপডেট সময় ০১:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

শীতকাল এলেই ভোরের ঘুম থেকে ওঠা কঠিন হয়ে পরে। অ্যালার্ম বাজলেও তা উপেক্ষা করে অনেকে ঘুমিয়ে পরেন। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ, শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠতে প্রায় সবাইকেই বেগ পোহাতে হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে এ সমস্যার পেছনে রয়েছে শরীর ও মনের স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন যা ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সক্রিয় হয়। স্বাভাবিকভাবেই মানবদেহ ঠান্ডা আবহাওয়ায় শক্তি সঞ্চয় করতে চায়। শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে বিপাকক্রিয়ার গতি কমে যায়। ফলে অবসন্নতা ও ঘুমভাব বেড়ে যায়, যা সকালে দ্রুত সতেজ হতে বাধা সৃষ্টি করে। এ জৈবিক প্রতিক্রিয়ার কারণেই শীতকালে ভোরে ঘুম ভাঙা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। দেরিতে ঘুম ভাঙ্গার আরও কিছু কারণ রয়েছে।

ছোট দিন, বড় রাত

শীতকালে দিন ছোট হয় এবং রাত দীর্ঘ হয়। সূর্য দেরিতে ওঠায় দিনের আলো খুব কম পাওয়া যায়। এ কম আলো শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যালোকের অভাবে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এ হরমোন ঘুমের জন্য দায়ী, যার ফলে সকালে ঘুম ভাঙতে দেরি হয়।

ভিটামিন ডি এর ঘাটতি

শীতকালে পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পাওয়ায় অনেকের শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি দেখা দেয়। এই ভিটামিন শুধু হাড়ের জন্যই নয়, শরীরের শক্তি ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে ক্লান্তি, অবসন্নতা ও হালকা বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে, যা ভোরে ঘুম থেকে উঠা কঠিন করে তোলে।

 

শীতকালে অনেকেই বেশি ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার খান। এসব খাবার হজমে সময় লাগে, ফলে ঘুম গভীর হলেও সকালে শরীর অলস করে তোলে। এ ছাড়া রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা টিভি দেখার প্রবণতা ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করে, যার ফলে সকালে ক্লান্তি আরও বেড়ে যায়।

ঠান্ডার কারণে হাঁটাচলা ও ব্যায়াম কমে যায়। শারীরিক কার্যকলাপ কম হলে শরীরের শক্তিও কমে, ফলে সকালে সতেজ বোধ করা কঠিন হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা শীতকালেও হালকা ব্যায়াম চালিয়ে যান, তুলনামূলকভাবে ভোরে উঠতে তাদের কম সমস্যা হয়।

মানসিক প্রভাব

কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, মেঘলা আকাশ ও বাইরে যাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকের মধ্যে মন খারাপের অনুভূতি দেখা দেয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শীতকালে মানসিক চাপ বা মনমরা ভাব থাকলে ভোরে ওঠার আগ্রহ কমে যায়, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শীতকালে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বজায় রেখে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

রাতে একটু আগেভাগে ঘুমানো, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমানো, শাকসবজি, ডাল ও স্যুপের মতো হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, আগের রাতেই কাপড় প্রস্তুত রাখা এবং ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখার ব্যাপারেও তারা পরামর্শ দেন। এসব অভ্যাস শীতের সকালে ঘুম থেকে ওঠাকে তুলনামূলকভাবে সহজ করে তুলতে পারে।