এক যুগ পর বিশ্বকাপের মূল আসরে ফেরার আনন্দে নতুন জার্সি উন্মোচন করেছিল মিশর। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাদের সেই উচ্ছ্বাসে কিছুটা ভাটা পড়েছে। কারণ জার্সির নকশা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে ফিফা।
ফিফার আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে দুটি বিষয়—মিশরের লোগোতে থাকা সাতটি তারকা এবং খেলোয়াড়দের নাম ও নম্বর লেখার জন্য ব্যবহৃত সোনালি রং।
আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সফল দেশ মিশর। আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে সর্বোচ্চ সাতবার শিরোপা জয়ের স্মারক হিসেবে জাতীয় দলের প্রতীকে সাতটি তারকা ব্যবহার করা হয়। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই তারকাগুলো আর রাখা যাচ্ছে না।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় দলের জার্সিতে থাকা তারকা শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। সে কারণেই ব্রাজিলের জার্সিতে পাঁচটি, ইতালি ও জার্মানির জার্সিতে চারটি এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে তিনটি তারকা রয়েছে। বিশ্বকাপ না জিতেও উরুগুয়ে বিশেষ অনুমতিতে চারটি তারকা ব্যবহার করে, কারণ তারা ১৯২৪ ও ১৯২৮ অলিম্পিকে ফুটবলে স্বর্ণপদক জিতেছিল।
অন্যদিকে মিশরের সাতটি তারকা আফ্রিকান সাফল্যের প্রতিনিধিত্ব করলেও বিশ্বকাপের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দলটি কখনো গ্রুপ পর্বও অতিক্রম করতে পারেনি। ফলে ফিফার বিধি অনুসারে বিশ্বকাপে তাদের জার্সি থেকে তারকাগুলো সরিয়ে ফেলতে হচ্ছে।
তবে এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপেও একই কারণে তারকাবিহীন লোগো ব্যবহার করেছিল মিশর। এবারও সেই নিয়ম মেনেই মাঠে নামতে হবে তাদের।
এদিকে খেলোয়াড়দের নাম ও নম্বরের জন্য ব্যবহৃত সোনালি রঙ নিয়েও আপত্তি তুলেছে ফিফা। ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পুমা নান্দনিকতা বিবেচনায় এই রং ব্যবহার করলেও ফিফার মতে, টেলিভিশন সম্প্রচার কিংবা স্টেডিয়ামের আলোতে এটি যথেষ্ট স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।
সংস্থাটির মতে, সোনালি রঙের কারণে দূর থেকে খেলোয়াড়দের শনাক্ত করতে রেফারি, কর্মকর্তাসহ দর্শকদেরও সমস্যা হতে পারে। তাই নাম ও নম্বরের ক্ষেত্রে আরও দৃশ্যমান রং, যেমন সাদা বা হালকা রং ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচগুলোতে ব্যবহৃত জার্সি আর মূল টুর্নামেন্টে ব্যবহার করতে পারবে না মিশর। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নতুন সংস্করণের জার্সি প্রস্তুত করতে হচ্ছে পুমাকে।
অবশ্য জার্সি নিয়ে ফিফার কড়াকড়ির মুখে পড়েছে আরও কয়েকটি দলও। হাইতির জার্সিতে ঐতিহাসিক ‘ব্যাটল অব ভার্তিয়ের’-এর চিত্র ব্যবহার করায় তা পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে মরক্কোর জার্সিতেও নাম ও নম্বরের রং নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে ফিফা।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই নয়, জার্সির নকশা ও উপস্থাপনাও ফিফার কঠোর নিয়মের আওতায় থাকে। আর সেই নিয়ম মেনেই নিজেদের সাত তারকার ঐতিহ্য সাময়িকভাবে সরিয়ে রেখে বিশ্বকাপ মিশনে নামতে হচ্ছে মিশরকে।

নিজস্ব সংবাদ : 




























