নিউজ ডেস্ক:
সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে গত এক বছরে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ ছিল, সেখানে ২০২৫ সালে মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, প্রতি সুইস ফ্রাঁর মূল্য প্রায় ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা। সে হিসেবে প্রতি ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরে হিসাব করলে, ২০২৫ সালের শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।
এসএনবির তথ্য বলছে, ২০২১ সালের পর ২০২৫ সালেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে। একই সঙ্গে গত এক দশকের মধ্যে এটিই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমানতের পরিমাণ।
সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের অর্থ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে জমা থাকে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকও বৈধ উপায়ে সেখানে অর্থ সংরক্ষণ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও সরাসরি বা সুইস ব্যাংকের বিদেশি শাখাগুলোর মাধ্যমে অর্থ জমা রাখেন। এসব আমানতও সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট জমার হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হয়।
একসময় অর্থ পাচারের অর্থ রাখার অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য ছিল সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো। কারণ, তখন দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থা গ্রাহকের তথ্য গোপন রাখত এবং অন্য দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ে অনাগ্রহী ছিল। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তির ফলে গত কয়েক বছরে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় সুইজারল্যান্ড প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সরকারকে ব্যাংকিং তথ্য সরবরাহ করে থাকে। তবুও ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ এখনও রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদ : 



























