ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইন্সপেক্টরকে ঝুলিয়ে পেটানোর বক্তব্যের জেরে কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল প্রত্যাহার Logo আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজে টোল বসাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প Logo ‘ইসলামপন্থিদের রাজনৈতিক বিজয়ে শক্তিশালী মিডিয়া কাঠামো গড়ে তুলতে হবে’ Logo আজ মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo যুক্তরাজ্যে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ! Logo মেসির সতীর্থ হচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার Logo শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি জার্মানি-আইভরি কোস্ট Logo তথ্য ফাঁস করলে ইন্সপেক্টরকে গাছে ঝুলাইয়া পে/টাব: পুলিশ কমিশনারের ভিডিও ভাইরাল Logo হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ নেতানিয়াহুর Logo পানিসম্পদমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে ‘কটূক্তি’, ২০ দিন ধরে কারাগারে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা

ঢাবিতে রি-অ্যাডমিশনভিত্তিক আবাসিক সুবিধার বিরোধিতা শিবিরের, উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:১৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সিট বণ্টন নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগের বিরোধিতা এবং শাহবাগ থানায় হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসনে স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খানের নেতৃত্বে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন।

 

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)।

মতবিনিময়কালে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ সংকট মোকাবেলায় একটি স্বচ্ছ, শিক্ষার্থীবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

 

তারা প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির খসড়া সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, অনার্সে দুই বছর এবং মাস্টার্সে এক বছর রি-অ্যাডমিশনসহ আবাসিক সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের হলকেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি করবে। বর্তমানে হলে সাতটি নিয়মিত ব্যাচ অবস্থান করছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে একসঙ্গে ১০টি ব্যাচ হলে অবস্থান করবে, যা নবীন শিক্ষার্থীদের সিট পাওয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত করবে।

 

নেতারা দাবি করেন, জুলাইয়ের পর কঠোর অবস্থানের কারণে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলে সিট পেলেও বর্তমানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ না করা হলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এ সময় শাহবাগ থানায় ডাকসুর নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ তুলে দ্রুত দোষীদের বিচারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সম্প্রতি জগন্নাথ হলে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।

 

পরে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে পূর্বের আবাসিক সিট বণ্টন নীতিমালা বহাল রাখা, ১০ ও ১১ নম্বর ধারা অক্ষুণ্ণ রাখা, রি-অ্যাডমিশনভিত্তিক আবাসিক সুবিধা সীমিত করা, নবীন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা, নীতিমালা সংশোধনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে অনলাইন জরিপ পরিচালনার দাবি জানানো হয়।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্সপেক্টরকে ঝুলিয়ে পেটানোর বক্তব্যের জেরে কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল প্রত্যাহার

ঢাবিতে রি-অ্যাডমিশনভিত্তিক আবাসিক সুবিধার বিরোধিতা শিবিরের, উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি

আপডেট সময় ০২:১৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সিট বণ্টন নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগের বিরোধিতা এবং শাহবাগ থানায় হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসনে স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খানের নেতৃত্বে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন।

 

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)।

মতবিনিময়কালে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ সংকট মোকাবেলায় একটি স্বচ্ছ, শিক্ষার্থীবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

 

তারা প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির খসড়া সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, অনার্সে দুই বছর এবং মাস্টার্সে এক বছর রি-অ্যাডমিশনসহ আবাসিক সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের হলকেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি করবে। বর্তমানে হলে সাতটি নিয়মিত ব্যাচ অবস্থান করছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে একসঙ্গে ১০টি ব্যাচ হলে অবস্থান করবে, যা নবীন শিক্ষার্থীদের সিট পাওয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত করবে।

 

নেতারা দাবি করেন, জুলাইয়ের পর কঠোর অবস্থানের কারণে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলে সিট পেলেও বর্তমানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ না করা হলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এ সময় শাহবাগ থানায় ডাকসুর নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ তুলে দ্রুত দোষীদের বিচারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সম্প্রতি জগন্নাথ হলে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।

 

পরে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে পূর্বের আবাসিক সিট বণ্টন নীতিমালা বহাল রাখা, ১০ ও ১১ নম্বর ধারা অক্ষুণ্ণ রাখা, রি-অ্যাডমিশনভিত্তিক আবাসিক সুবিধা সীমিত করা, নবীন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা, নীতিমালা সংশোধনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে অনলাইন জরিপ পরিচালনার দাবি জানানো হয়।