জাতীয় ঐকমত্য, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের প্রশ্নমালার বৈধতা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং গণসংহতি আন্দোলনের নেতা ও সংসদ সদস্য জোনায়েদ সাকি একে অপরের বক্তব্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অধিবেশনের এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আখতার হোসেন বলেন, “সরকারি দলের সদস্য তার বক্তব্যে গণভোটের চারটি প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে পরোক্ষভাবে বিরোধী দলকে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকা অবস্থায় গণভোটের জন্য চারটি প্রশ্ন নির্ধারণ করেছিলেন, যার মধ্যে দুটিতে তাদের সম্মতি ছিল আর বাকি দুটিতে ছিল না। এটি মূলত একটি বিভ্রান্তিকর দাবি।”
আখতার হোসেন বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন গণভোটের আয়োজন করেন, তার ১৯টি দফা ছিল। আর বেগম খালেদা জিয়া যখন সংবিধানের ব্যাপারে একটা গণভোট করেন তখন সংবিধানের ১৬টা পয়েন্টে গণভোট হয়েছিল। যদি সে সময় ১৯টা পয়েন্ট আর ১৬টা পয়েন্টে প্রশ্ন একটাই হয়, তখনও তো এই প্রশ্নটা আসতে পারতো যে শহীদ জিয়ার সাতটা মানি বাকি ১২টা মানি না। তখন তো এই প্রশ্ন করা হয় নাই। মোটের ওপরে সে জিনিসটা করা হয়েছিল। গণভোটের প্রশ্ন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার কোনও সুযোগ নেই বরং গণভোটের প্রশ্ন না পড়ে তারা ভোট দিয়েছেন বলে যদি বলতে চান, সেটা তাদের দুর্বলতা ও ব্যর্থতা।”
আক্তার হোসেনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে পাল্টা যুক্তি দেন সংসদ সদস্য জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, “সত্যের খাতিরে এবং ইতিহাসের রেকর্ড হিসেবে এটা বলা দরকার। জুলাই জাতীয় সনদ তৈরির ঐকমত্য কমিশনের প্রথম টাস্ক ছিল জুলাই জাতীয় সনদ, সে বিষয়ে আমরা নোট অফ ডিসেন্টসহই ঐকমত্যের জায়গায় পৌঁছাবো, এটাই ছিল সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় পর্বে এসে জুলাই বাস্তবায়ন আদেশের প্রশ্নটা এসেছে। আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি তুলেছিলাম এবং তার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছিলাম।”
জিয়াউর রহমানের দফার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯ দফা নিয়ে যা করেছেন ওটা কিন্তু তিনি তার পক্ষ থেকে দাবিনামা হাজির করেছিলেন। যেটা বেগম খালেদা জিয়া তুলেছেন তখন সরকারের পক্ষ থেকে এটা পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পরে গণভোটে হাজির হয়েছে। আর এটা ছিল একটা জাতীয় ঐকমত্যের জায়গা। এটাতে কোনও একতরফা জিনিস আসতে পারে না। আমাদের পরিষ্কারভাবে মনে রাখা দরকার যে, জুলাই জাতীয় সনদ এটা পুরোটাই ভোটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উনারা যখন এটাকে চারটি পয়েন্টে এনেছেন, সেটা ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য হয়েছিল কিনা— সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। টু বি রেকর্ডেড, এটা জাতীয় ঐকমত্য হয় নাই।”
বিতর্কের এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, “এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। এখানে প্রত্যেকেরই বাক-স্বাধীনতা আছে। যদি সরকারি দলের কোনও সদস্যের বক্তব্যে আপনাদের আপত্তি থাকে, আপনারা যুক্তি খণ্ডন করুন।”

নিজস্ব সংবাদ : 
























