সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণে জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।
আজ সোমবার (২৫ মে) পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট-এর একটি প্রতিনিধি দল গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণে অবস্থিত বিতর্কিত ডাকবাংলো পুকুরটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
হাইকোর্টের রুল ও স্থিতাবস্থা জারী
সম্প্রতি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার দত্তরাইল মৌজায় অবস্থিত সরকারি পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ কাজ বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খাইরুল আলম জনস্বার্থে একটি রিট মামলা দায়ের করেন।
তারই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এবং বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিতর্কিত ভূমির ওপর ৩ মাসের জন্য স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সাথে আদালত এক রুলে জানতে চেয়েছেন—
কেন পুকুরের ওপর মার্কেট নির্মাণকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না?
কেন এই অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হবে না?
কেন পুকুরটিকে পূর্বের প্রাকৃতিক অবস্থায় পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হবে না?
এছাড়া আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পুকুরের শ্রেণি পরিবর্তন, ভরাট কার্যক্রম ও নির্মাণকাজ সংক্রান্ত অনুমতির বিস্তারিত তথ্য আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঐতিহ্যবাহী ভূমির ইতিহাস ও দখলদারিত্বের অভিযোগ
রিটের পিটিশনার অ্যাডভোকেট খাইরুল আলম জানান, এই সম্পত্তিটি মূলত প্রখ্যাত জমিদার কালীপ্রসাদ দত্ত চৌধুরী স্থানীয় জনগণের কল্যাণের জন্য দান করেছিলেন। পরবর্তীতে সরকার সেখানে চিকিৎসা কেন্দ্র, পুকুর, ডাকবাংলো ও সরকারি কোয়ার্টার নির্মাণ করে। কিন্তু সম্প্রতি আইন অমান্য করে পুকুর ভরাট ও নির্মাণকাজ শুরু হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
পরিদর্শন শেষে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি এবং ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল করিম কিম বলেন:
“২০২০-২০২১ সালেও জেলা পরিষদ এখানে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদে তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে জেলা পরিষদের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি ভূমিখেকো চক্র দ্রুততার সাথে আবারো মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।”
ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী (বাহার) বলেন, প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ জনস্বার্থের পরিপন্থী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পুকুর ও জলাভূমি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
পুকুর পরিদর্শন শেষে সিলেটের পরিবেশবাদী অ্যাক্টিভিস্টরা ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন–
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী (দীপন)
ঐতিহ্য গবেষক আসিফ আজহার
পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া
পরিবেশকর্মী রোমেনা রোজী, তাপস পুরকায়স্থ ও নাহিদ পারবেজ বাবু
ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহিম
স্থানীয় বিশিষ্ট মুরুব্বি শাহ জামাল ও কবির আহমদ, মৌলানা আবুল হোসেন,
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও ‘আজকের দর্পণ’ পত্রিকার সম্পাদক মিছবাহ আহমদ
সাংবাদিক মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, আজিজ খান, জাবেদ আহমেদ প্রমুখ।
উপস্থিত পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ এবং পুকুরটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ শিরোনাম ::
হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে গোলাপগঞ্জে পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ: পরিবেশবাদীদের ক্ষোভ
-
নিজস্ব সংবাদ : - আপডেট সময় ১১:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- ৭ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ




























