পিজিসিএল ১ লাখ ২৮ হাজার মিটার সরবরাহ ও সংযোজনের জন্য গত ৯ মার্চ যে উন্মুক্ত দরপত্র প্রকাশ করেছে, তাতে টেন্ডারের শিরোনাম ও স্পেসিফিকেশনে সর্বাধুনিক স্মার্ট মিটারের কথা উল্লেখ থাকলেও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।
আবাসিক পর্যায়ে গৃহস্থালী গ্যাস মিটার ক্রয় ও স্থাপন নীতিমালা, প্রকাশের মাধ্যমে দেশে স্মার্ট প্রিপেইড গ্যাস মিটার ব্যবস্থার একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নীতিমালার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আইওটিভিত্তিক, ডেটা–ড্রিভেন এবং ভবিষ্যতমুখী স্মার্ট প্রযুক্তি।
সবচেয়ে অসঙ্গতি হলো গেজেটভুক্ত কোনো শর্ত না হওয়া সত্ত্বেও ম্যকানিকাল ইনডেক্সকে মূল্যায়নের বাধ্যতামূলক উপাদান করা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন স্মার্ট মিটারে গ্রাহকরা ভেন্ডর পয়েন্টে না গিয়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে রিচার্জ করতে পারবেন। এটাই এর সবচেয়ে বড় সুবিধা। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল রিমোট সফটওয়্যার আপডেট, প্রতিদিন সার্ভারে ডেটা পাঠানো, মোবাইল অ্যাপে রিয়েল টাইম ব্যবহার দেখা, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং শুধু কমিউনিকেশন মডিউল বদলে ভবিষ্যতে মিটার আপগ্রেড করার সুযোগ।
কিন্তু টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশনে এসব মৌলিক স্মার্ট ফিচারের জন্য স্পষ্ট কোনো ওজন দেওয়া হয়নি বরং টেকনিক্যাল পারফরম্যান্সের ৫৫ শতাংশের মধ্যে মিটার কেসিংয়ের উপাদান একাই ৪০ শতাংশ ওজন পেয়েছে। স্টেইনলেস স্টিলকে সর্বোচ্চ নম্বর দেওয়া হয়েছে।
২জি/৪জি যোগাযোগ ও এসটিএস টোকেনভিত্তিক প্রিপেইড সিস্টেম (বিদ্যুৎ খাতের পুরনো পদ্ধতি) অগ্রাধিকার পেয়েছে। অথচ দূর থেকে সফটওয়্যার হালনাগাদ, দৈনিক ডেটা সার্ভারে পাঠানো, মডুলারিটি ও লো-পাওয়ার এনবি-আইওটির মতো আধুনিক ফিচারগুলো মূল্যায়নে প্রায় উপেক্ষিত রয়েছে।
ফলে ইউটিলিটি আউটকামের পরিবর্তে বাইরের কেসিং ও লেগাসি মেকানিক্যাল ফর্ম ফ্যাক্টর অতিরিক্ত পুরস্কৃত হচ্ছে। এতে পুরনো হাইব্রিড ডায়াফ্রাম মিটার প্রস্তুতকারকরা সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ খাতে স্মার্ট মিটার টেন্ডারে যে সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করে আসছে, তারাই এবার গ্যাস খাতেও একই কৌশল নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের ঋণে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের পর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়েছে। এখানে অর্থের অপচয় হলে সেই বোঝা সরাসরি জনগণের ওপর চাপবে। ইতোমধ্যে প্রিপেইড মিটারের সার্ভিস চার্জ, টোকেন জটিলতা ও ভোগান্তি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ আছে, কমিউনিকেশন সমস্যার কারণে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মিটার এখনো গুদামে পড়ে আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান মূল্যায়ন কাঠামো প্রকৃত স্মার্ট আইওটি মিটারের পরিবর্তে পুরনো প্রযুক্তিকে সুবিধা দিচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে আবার বড় বিনিয়োগ করে অবকাঠামো আপগ্রেড করতে হবে, যা সময় ও অর্থ উভয় দিক থেকে ক্ষতিকর।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেন্ডারের মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করে প্রযুক্তিনিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও ভবিষ্যৎমুখী করা জরুরি। শুধু নামে নয়, বাস্তবেও দেশকে সত্যিকারের স্মার্ট এনার্জি ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়া দরকার।
২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সাড়ে ১৭ লাখ স্মার্ট প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের বড় প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে। আগের প্রিপেইড মিটারের চেয়ে এটি আরো উন্নত, যেখানে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে রিচার্জ করা যাবে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় স্মার্ট প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের বড় প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে। এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার বসানো হবে। তিতাসে সর্বমোট ১৬ লাখ মিটার সংযোজন করা হবে।
পিজিসিএলে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কারসাজি করে হাইব্রিড মিটার কেনা হলে তিতাসেও একই ধরনের কারসাজির আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদ : 




























