ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ Logo ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্কুলছাত্রের মৃত্যু Logo মাদক ব্যবসা ছাড়ুন, না হলে এলাকা ছাড়ুন : এমপি আবু তালিব Logo ইরান সংঘাতে না জড়াতে চীনকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প Logo প্রথমার্ধ শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র Logo পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে: পাকিস্তান হাইকমিশনার Logo শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাবিতে নবীনবরণ, ‘পাইলট প্রকল্প’ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ইঙ্গিত Logo এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ Logo আমি ছাড়া কেউ মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে কথা বলে না : রুমিন ফারহানা Logo পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত, হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

কাটছে জ্বালানি সংকটের মেঘ, আসছে বড় চালান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের জ্বালানি বাজারে জেঁকে বসা অস্থিরতা ও মজুত সংকটের আশঙ্কা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি ও সফল কূটনৈতিক তৎপরতার সুফল আসতে শুরু করেছে। চলতি এপ্রিল মাসেই ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের বেশ কয়েকটি বড় চালান দেশে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবারই (৩ এপ্রিল) প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া পুরো মাসজুড়ে পর্যায়ক্রমে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল আসার সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ডিজেল মজুত আছে, তার সঙ্গে নতুন এই আমদানিকৃত তেল যুক্ত হলে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমাতে নাইজেরিয়া, কাজাখস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো থেকে তেল সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এমনকি রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ার সুযোগে দেশটি থেকেও ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা মেটাতে সিঙ্গাপুরের ইউনিপ্যাক এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি কোম্পানি থেকে বড় অংকের তেল আমদানির নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ সচল রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, শুধু ডিজেল নয়, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত নিয়েও কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। এ মাসে ৩৭ হাজার টন অকটেনের চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় বেসরকারি শোধনাগার থেকেই আসছে ৩০ হাজার টন। বাকি চাহিদা আমদানিকৃত তেল দিয়ে মেটানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ৪৪ হাজার টন পেট্রোলের চাহিদার বড় অংশই স্থানীয় উৎস থেকে মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ সফল হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের তথ্যমতে, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী ছয়টি জাহাজকে ওই পথ দিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দর থেকে বিকল্পভাবে কেনা এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আগামী মাসের শুরুতেই দেশে পৌঁছাবে।

বিপিসি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা আগেই নিশ্চিত করা আছে। বর্তমানে তিন মাসের অগ্রিম মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার, যাতে আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকটেও অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

কাটছে জ্বালানি সংকটের মেঘ, আসছে বড় চালান

আপডেট সময় ১১:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

দেশের জ্বালানি বাজারে জেঁকে বসা অস্থিরতা ও মজুত সংকটের আশঙ্কা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি ও সফল কূটনৈতিক তৎপরতার সুফল আসতে শুরু করেছে। চলতি এপ্রিল মাসেই ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের বেশ কয়েকটি বড় চালান দেশে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবারই (৩ এপ্রিল) প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া পুরো মাসজুড়ে পর্যায়ক্রমে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল আসার সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ডিজেল মজুত আছে, তার সঙ্গে নতুন এই আমদানিকৃত তেল যুক্ত হলে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমাতে নাইজেরিয়া, কাজাখস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো থেকে তেল সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এমনকি রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ার সুযোগে দেশটি থেকেও ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা মেটাতে সিঙ্গাপুরের ইউনিপ্যাক এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি কোম্পানি থেকে বড় অংকের তেল আমদানির নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ সচল রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, শুধু ডিজেল নয়, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত নিয়েও কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। এ মাসে ৩৭ হাজার টন অকটেনের চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় বেসরকারি শোধনাগার থেকেই আসছে ৩০ হাজার টন। বাকি চাহিদা আমদানিকৃত তেল দিয়ে মেটানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ৪৪ হাজার টন পেট্রোলের চাহিদার বড় অংশই স্থানীয় উৎস থেকে মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ সফল হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের তথ্যমতে, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী ছয়টি জাহাজকে ওই পথ দিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দর থেকে বিকল্পভাবে কেনা এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আগামী মাসের শুরুতেই দেশে পৌঁছাবে।

বিপিসি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা আগেই নিশ্চিত করা আছে। বর্তমানে তিন মাসের অগ্রিম মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার, যাতে আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকটেও অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা যায়।