ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

নরসিংদীতে শিক্ষকের প্রহারে ৭ বছরের শিশু অজ্ঞান, অভিযুক্ত আটক

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:২১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীতে এক মাদরাসা শিক্ষকের বেধড়ক প্রহারে ৭ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শহরের ভেলানগর জেলখানার মোড় এলাকার মাদরাসাতুল আবরার আরাবিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুস সাকিবকে আটক করেছে পুলিশ।

আহত শিশুর নাম মুজাহিদ।

সে শিবপুর উপজেলার দক্ষিণ কাকারচর এলাকার জুয়েলের ছেলে। মুজাহিদ মাদরাসাটির নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। 

পরিবারের অভিযোগ, গতকাল শুক্রবার মাদরাসায় গোসল করতে বললে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া না দেওয়ায় শিক্ষক নাজমুস সাকিব শিশুটিকে বেত দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

জ্ঞান ফেরার পরও তাকে আবার প্রহার করা হয়। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত ক্ষত তৈরি হয়। 

শিশুটির বাবা পরে মাদরাসায় গিয়ে ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে সেখান থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বাড়ি যাওয়ার পর তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। রাত ২টার দিকে জ্বর, বমিসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

শিশু মুজাহিদ বলে, বাবা মাদরাসায় আসায় হুজুর আমাকে ভয় দেখিয়ে হাসি মুখে থাকার কথা বলে।

কিন্তু আমার ব্যাথায় কান্না আসছিল। বাবার সন্দেহ হলে আমার পাঞ্জাবি খুলে দেখে সারা শরীরে মারের দাগ। 

অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুস সাকিব বলেন, তাকে গোসল করতে বলেছিলাম। সে না শোনায় আমি রাগে তাকে প্রহার করি। এটা আমার ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় আমি ক্ষমা চেয়েছি।

মাদরাসার পরিচালক মুফতি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর পরই শিশুটির পরিবারকে আইনের সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলি। আইনে আওতায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

১০০ শয্যাবিশিষ্ট  জেলা হাসপাতাল নরসিংদীর ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ. এন. এম মিজানুর রহমান জানান, শিশুটির পিঠ, হাত ও পায়ে বেতের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হতে পারে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল-মামুন বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

নরসিংদীতে শিক্ষকের প্রহারে ৭ বছরের শিশু অজ্ঞান, অভিযুক্ত আটক

আপডেট সময় ০১:২১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
নরসিংদীতে এক মাদরাসা শিক্ষকের বেধড়ক প্রহারে ৭ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শহরের ভেলানগর জেলখানার মোড় এলাকার মাদরাসাতুল আবরার আরাবিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুস সাকিবকে আটক করেছে পুলিশ।

আহত শিশুর নাম মুজাহিদ।

সে শিবপুর উপজেলার দক্ষিণ কাকারচর এলাকার জুয়েলের ছেলে। মুজাহিদ মাদরাসাটির নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। 

পরিবারের অভিযোগ, গতকাল শুক্রবার মাদরাসায় গোসল করতে বললে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া না দেওয়ায় শিক্ষক নাজমুস সাকিব শিশুটিকে বেত দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

জ্ঞান ফেরার পরও তাকে আবার প্রহার করা হয়। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত ক্ষত তৈরি হয়। 

শিশুটির বাবা পরে মাদরাসায় গিয়ে ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে সেখান থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বাড়ি যাওয়ার পর তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। রাত ২টার দিকে জ্বর, বমিসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

শিশু মুজাহিদ বলে, বাবা মাদরাসায় আসায় হুজুর আমাকে ভয় দেখিয়ে হাসি মুখে থাকার কথা বলে।

কিন্তু আমার ব্যাথায় কান্না আসছিল। বাবার সন্দেহ হলে আমার পাঞ্জাবি খুলে দেখে সারা শরীরে মারের দাগ। 

অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুস সাকিব বলেন, তাকে গোসল করতে বলেছিলাম। সে না শোনায় আমি রাগে তাকে প্রহার করি। এটা আমার ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় আমি ক্ষমা চেয়েছি।

মাদরাসার পরিচালক মুফতি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর পরই শিশুটির পরিবারকে আইনের সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলি। আইনে আওতায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

১০০ শয্যাবিশিষ্ট  জেলা হাসপাতাল নরসিংদীর ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ. এন. এম মিজানুর রহমান জানান, শিশুটির পিঠ, হাত ও পায়ে বেতের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হতে পারে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল-মামুন বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।