ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে: পাকিস্তান হাইকমিশনার Logo শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাবিতে নবীনবরণ, ‘পাইলট প্রকল্প’ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ইঙ্গিত Logo এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ Logo আমি ছাড়া কেউ মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে কথা বলে না : রুমিন ফারহানা Logo পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত, হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের Logo আগস্টে সারা দেশে শোডাউনের চিন্তা আ.লীগের, ২ ডজন কমিটি গঠন Logo ইরানে হিজাববিহীন গান গাওয়ার অপরাধে গায়িকাকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ Logo মেসির বাবার মৃত্যুর খবর প্রচার করে চাকরি হারালেন উপস্থাপিকাসহ পুরো টিম Logo ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১০ Logo ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ চেয়ে নিজেই হার মানলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ১ কোটি ৪০ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসী, বৈধ হওয়ার পথ প্রায় বন্ধ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৩২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে রেকর্ড ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসী বসবাস করছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষ বৈধ হওয়ার চেষ্টা করলেও বিদ্যমান আইন ও কঠোর নীতির কারণে তাদের জন্য নাগরিকত্ব বা বৈধতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল জানায়, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বৈধ কাগজপত্র বা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। এর ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কাতো ইনস্টিটিউট নামের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, “যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন লটারিতে জেতার মতোই দুর্লভ।” তাদের হিসাবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চান, তাদের মধ্যে এক শতাংশেরও কম মানুষ বৈধভাবে সুযোগ পান।

বৈধ হওয়ার তিন প্রধান পথ

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অভিবাসনের জন্য মূলত তিনটি পথ রয়েছে—কর্মসংস্থান, পরিবার পুনর্মিলন এবং মানবিক সুরক্ষা। কর্মসংস্থানের ভিসা সাধারণত ব্যতিক্রমী দক্ষতা ও উচ্চশিক্ষার ব্যক্তিদের জন্য সীমিত এবং এতে প্রতিষ্ঠানিক স্পন্সর প্রয়োজন হয়। পরিবারভিত্তিক ভিসায় মার্কিন নাগরিকরা তাদের বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান বা ভাই-বোনকে আবেদন করতে পারেন, তবে সেখানেও বার্ষিক কোটা ও দীর্ঘ অপেক্ষার বাধা রয়েছে। মানবিক সুরক্ষা বা আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর; এখানে আবেদনকারীদের জাতি, ধর্ম, রাজনৈতিক মত বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের প্রমাণ দেখাতে হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এসব প্রক্রিয়া আরও সীমিত করেছে এবং আশ্রয় প্রার্থীদের আবেদন সহজেই খারিজ করার সুযোগ বাড়িয়েছে।

দীর্ঘ ইতিহাসে দ্বিধাদ্বন্দ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ে দ্বিমুখী নীতি নতুন কিছু নয়। ১৮৮২ সালের চাইনিজ এক্সক্লুশন অ্যাক্ট থেকে শুরু করে ১৯২০-এর দশকের ইউরোপীয় অভিবাসনে কোটা আরোপ—সবই প্রমাণ করে দেশটি কখনো অভিবাসীদের স্বাগত জানিয়েছে, আবার কখনো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বা ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর নির্দিষ্ট শরণার্থী গ্রহণ কর্মসূচি চালু হলেও তা সংখ্যায় সীমিত ছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা ৫ কোটির বেশি, তবে মাথাপিছু হারে দেশটি ধনী দেশগুলোর মধ্যে ৩৫তম অবস্থানে।

বৈধ হওয়ার ঝুঁকি

যারা বহু বছর ধরে অনথিভুক্ত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের জন্য বৈধ হওয়ার সুযোগ আরও কঠিন। কোনো অভিবাসী যদি ছয় মাস থেকে এক বছরের বেশি সময় অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তাহলে দেশ ছাড়ার পর অন্তত তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার অনুমতি পান না। এক বছরের বেশি অবৈধ অবস্থান করলে এই নিষেধাজ্ঞা হয় দশ বছরের। ফলে বৈধ হওয়ার চেষ্টা করতে গেলেই বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।

রাজ্যভিত্তিক চিত্র

মার্কিন রাজ্যগুলোতেও বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসী রয়েছেন। শুধু পেনসিলভানিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার এবং নিউ জার্সিতে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার অনথিভুক্ত অভিবাসী আছেন। ফিলাডেলফিয়া শহরেই অন্তত ৪৭ হাজার অনথিভুক্ত অভিবাসী বসবাস করেন।

পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অনথিভুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করে। বাইডেন প্রশাসন সীমান্তে আশ্রয় আবেদন বন্ধ করায় এবং পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যায় কিছুটা হ্রাস পেলেও তা এখনো ২০২৩ সালের তুলনায় বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধ অভিবাসনকে প্রায় অসম্ভব করে রাখার কারণে অনথিভুক্ত অভিবাসনের প্রবণতা বেড়েছে। অথচ সাধারণ ধারণায় এখনও বলা হয়, “আইনগত লাইনে দাঁড়ালেই বৈধ হওয়া সম্ভব।” বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কাঠামোয় অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য সে সুযোগ আদৌ নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে: পাকিস্তান হাইকমিশনার

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ১ কোটি ৪০ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসী, বৈধ হওয়ার পথ প্রায় বন্ধ

আপডেট সময় ০৩:৩২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে রেকর্ড ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসী বসবাস করছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষ বৈধ হওয়ার চেষ্টা করলেও বিদ্যমান আইন ও কঠোর নীতির কারণে তাদের জন্য নাগরিকত্ব বা বৈধতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল জানায়, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বৈধ কাগজপত্র বা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। এর ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কাতো ইনস্টিটিউট নামের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, “যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন লটারিতে জেতার মতোই দুর্লভ।” তাদের হিসাবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চান, তাদের মধ্যে এক শতাংশেরও কম মানুষ বৈধভাবে সুযোগ পান।

বৈধ হওয়ার তিন প্রধান পথ

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অভিবাসনের জন্য মূলত তিনটি পথ রয়েছে—কর্মসংস্থান, পরিবার পুনর্মিলন এবং মানবিক সুরক্ষা। কর্মসংস্থানের ভিসা সাধারণত ব্যতিক্রমী দক্ষতা ও উচ্চশিক্ষার ব্যক্তিদের জন্য সীমিত এবং এতে প্রতিষ্ঠানিক স্পন্সর প্রয়োজন হয়। পরিবারভিত্তিক ভিসায় মার্কিন নাগরিকরা তাদের বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান বা ভাই-বোনকে আবেদন করতে পারেন, তবে সেখানেও বার্ষিক কোটা ও দীর্ঘ অপেক্ষার বাধা রয়েছে। মানবিক সুরক্ষা বা আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর; এখানে আবেদনকারীদের জাতি, ধর্ম, রাজনৈতিক মত বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের প্রমাণ দেখাতে হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এসব প্রক্রিয়া আরও সীমিত করেছে এবং আশ্রয় প্রার্থীদের আবেদন সহজেই খারিজ করার সুযোগ বাড়িয়েছে।

দীর্ঘ ইতিহাসে দ্বিধাদ্বন্দ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ে দ্বিমুখী নীতি নতুন কিছু নয়। ১৮৮২ সালের চাইনিজ এক্সক্লুশন অ্যাক্ট থেকে শুরু করে ১৯২০-এর দশকের ইউরোপীয় অভিবাসনে কোটা আরোপ—সবই প্রমাণ করে দেশটি কখনো অভিবাসীদের স্বাগত জানিয়েছে, আবার কখনো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বা ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর নির্দিষ্ট শরণার্থী গ্রহণ কর্মসূচি চালু হলেও তা সংখ্যায় সীমিত ছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা ৫ কোটির বেশি, তবে মাথাপিছু হারে দেশটি ধনী দেশগুলোর মধ্যে ৩৫তম অবস্থানে।

বৈধ হওয়ার ঝুঁকি

যারা বহু বছর ধরে অনথিভুক্ত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের জন্য বৈধ হওয়ার সুযোগ আরও কঠিন। কোনো অভিবাসী যদি ছয় মাস থেকে এক বছরের বেশি সময় অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তাহলে দেশ ছাড়ার পর অন্তত তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার অনুমতি পান না। এক বছরের বেশি অবৈধ অবস্থান করলে এই নিষেধাজ্ঞা হয় দশ বছরের। ফলে বৈধ হওয়ার চেষ্টা করতে গেলেই বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।

রাজ্যভিত্তিক চিত্র

মার্কিন রাজ্যগুলোতেও বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসী রয়েছেন। শুধু পেনসিলভানিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার এবং নিউ জার্সিতে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার অনথিভুক্ত অভিবাসী আছেন। ফিলাডেলফিয়া শহরেই অন্তত ৪৭ হাজার অনথিভুক্ত অভিবাসী বসবাস করেন।

পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অনথিভুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করে। বাইডেন প্রশাসন সীমান্তে আশ্রয় আবেদন বন্ধ করায় এবং পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যায় কিছুটা হ্রাস পেলেও তা এখনো ২০২৩ সালের তুলনায় বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধ অভিবাসনকে প্রায় অসম্ভব করে রাখার কারণে অনথিভুক্ত অভিবাসনের প্রবণতা বেড়েছে। অথচ সাধারণ ধারণায় এখনও বলা হয়, “আইনগত লাইনে দাঁড়ালেই বৈধ হওয়া সম্ভব।” বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কাঠামোয় অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য সে সুযোগ আদৌ নেই।