ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ Logo ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্কুলছাত্রের মৃত্যু Logo মাদক ব্যবসা ছাড়ুন, না হলে এলাকা ছাড়ুন : এমপি আবু তালিব Logo ইরান সংঘাতে না জড়াতে চীনকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প Logo প্রথমার্ধ শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র Logo পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে: পাকিস্তান হাইকমিশনার Logo শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাবিতে নবীনবরণ, ‘পাইলট প্রকল্প’ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ইঙ্গিত Logo এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ Logo আমি ছাড়া কেউ মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে কথা বলে না : রুমিন ফারহানা Logo পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত, হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

বিদায়ের আগে বাংলাদেশকে যে বার্তা দিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩৬:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। দুই দিনের সফর শেষে শনিবার (৬ জুন) ঢাকা ছাড়ার আগে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করাসহ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

বিদায়ী বার্তায় হাকান ফিদান বলেন, ‘তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করে। আমরা এই বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে থাকব।’

তিনি জানান, তাদের এশিয়া-প্যাসিফিক সফরের চতুর্থ ও শেষ গন্তব্য বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের অভ্যর্থনা জানান। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হাকান ফিদান বলেন, ‘আমাদের পুরো সফর জুড়ে আমরা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এক নতুন যুগে পদার্পণকারী বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা এবং আমাদের বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা যাতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় বসবাস করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত ব্যাপক প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছি।’

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুই দেশের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের সঙ্গে সংগতি রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে উঠছে। আগামী দিনে প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও উন্নত করতে এবং একই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বাংলাদেশি ভাই-বোনদের সমর্থন অব্যাহত রাখতে তুরস্ক অঙ্গীকারাবদ্ধ।

উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ও জনগণকে, বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান হাকান ফিদান। খলিলুর রহমান সম্প্রতি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আবারও অভিনন্দন জানিয়ে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত সাফল্যের সাথে পালন করবেন।

সফরের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন হাকান ফিদান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এক বিরাট দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করাই দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য।

কক্সবাজারে তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, টিকা, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুরস্ক দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা তুরস্ক-বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা হাসপাতালে কর্মরত আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। মানবতার সেবায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মরত আমাদের সকল কর্মীর নিষ্ঠা, ত্যাগ এবং অনুকরণীয় প্রচেষ্টার জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করে। এই বন্ধনকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করা হবে।

উল্লেখ্য, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার রাতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। সফর শেষে আজ (শনিবার) তিনি ঢাকা ছাড়েন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

বিদায়ের আগে বাংলাদেশকে যে বার্তা দিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৩৬:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। দুই দিনের সফর শেষে শনিবার (৬ জুন) ঢাকা ছাড়ার আগে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করাসহ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

বিদায়ী বার্তায় হাকান ফিদান বলেন, ‘তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করে। আমরা এই বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে থাকব।’

তিনি জানান, তাদের এশিয়া-প্যাসিফিক সফরের চতুর্থ ও শেষ গন্তব্য বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের অভ্যর্থনা জানান। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হাকান ফিদান বলেন, ‘আমাদের পুরো সফর জুড়ে আমরা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এক নতুন যুগে পদার্পণকারী বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা এবং আমাদের বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা যাতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় বসবাস করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত ব্যাপক প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছি।’

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুই দেশের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের সঙ্গে সংগতি রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে উঠছে। আগামী দিনে প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও উন্নত করতে এবং একই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বাংলাদেশি ভাই-বোনদের সমর্থন অব্যাহত রাখতে তুরস্ক অঙ্গীকারাবদ্ধ।

উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ও জনগণকে, বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান হাকান ফিদান। খলিলুর রহমান সম্প্রতি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আবারও অভিনন্দন জানিয়ে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত সাফল্যের সাথে পালন করবেন।

সফরের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন হাকান ফিদান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এক বিরাট দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করাই দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য।

কক্সবাজারে তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, টিকা, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুরস্ক দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা তুরস্ক-বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা হাসপাতালে কর্মরত আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। মানবতার সেবায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মরত আমাদের সকল কর্মীর নিষ্ঠা, ত্যাগ এবং অনুকরণীয় প্রচেষ্টার জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করে। এই বন্ধনকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করা হবে।

উল্লেখ্য, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার রাতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। সফর শেষে আজ (শনিবার) তিনি ঢাকা ছাড়েন।