ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইন্সপেক্টরকে ঝুলিয়ে পেটানোর বক্তব্যের জেরে কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল প্রত্যাহার Logo আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজে টোল বসাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প Logo ‘ইসলামপন্থিদের রাজনৈতিক বিজয়ে শক্তিশালী মিডিয়া কাঠামো গড়ে তুলতে হবে’ Logo আজ মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo যুক্তরাজ্যে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ! Logo মেসির সতীর্থ হচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার Logo শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি জার্মানি-আইভরি কোস্ট Logo তথ্য ফাঁস করলে ইন্সপেক্টরকে গাছে ঝুলাইয়া পে/টাব: পুলিশ কমিশনারের ভিডিও ভাইরাল Logo হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ নেতানিয়াহুর Logo পানিসম্পদমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে ‘কটূক্তি’, ২০ দিন ধরে কারাগারে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী কবে কোন দেশে যাবেন নির্ধারণ হয়নি: মাহদী আমিন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৪৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অটুট রেখেই পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করবে সরকার-এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, কবে কোন দেশে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটি এখনও নির্ধারিত হয়নি।

সোমবার (২৫) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো এরইমধ্যেই ফল দিতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।

বিএনপি সরকার সব সময়েই বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে এবারও তার ব্যতিক্রম নয়-এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু চরিত্রহনন করা কখনও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়। প্রতিটি মানুষের সম্মান রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব। এই বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এছাড়াও সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন কথা বলছেন। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।

মাহদী আমিন বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিদেশ থেকে টিকা আনা হয়েছে। সামনে যেন ঘাটতি না হয়। আগামীতে শিশু সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

জুলাই আন্দোলনের শতাধিক আহত যোদ্ধাকে রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যেই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় চলমান রয়েছে, যা শিগগিরই কার্যকর করা হবে। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যক্তির কার্যকর সংযোগ স্থাপন, ক্যারিয়ার সার্ভিস প্রদান, কাউন্সিলিং ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগানকে সমন্বিত করা বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, বিদেশে জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দূতাবাসকে ডিমান্ড ম্যাপিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো কোন দেশে কী ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা রয়েছে তা নির্ধারণ করা। আমাদের টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে সে অনুযায়ী কোর্স ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শন হলো প্রান্তিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ করে টেকসই উন্নয়নের পথে অগ্রসর হওয়া।

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ‘পিপল-টু-পিপল’ সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি সেল’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন রাষ্ট্র কাঠামো পেয়েছি যেখানে বিপুল সংস্কার প্রয়োজন। অপরাধ ঘটলে দ্রুততার সঙ্গে গ্রেফতার এবং বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করেছে সরকার। সরকার আইনে শাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের ব্যবসা বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজও।

তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। এরইমধ্যে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণায় দেশের বিচার ব্যবস্থার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এক দশক পর আলোচিত তনু হত্যা মামলার প্রথম আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের পথ আরও সুগম হয়েছে। একইভাবে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিকে ভারতে দ্রুত শনাক্ত করা হয়েছে এবং দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান না; বরং প্রধানমন্ত্রীই জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন। তিনি মানুষের কথা শুনছেন, দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং সাহস ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি জনগণের সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন নন বরং তিনি সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনুভূতিশীল নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আবারও যুক্ত করা হচ্ছে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধ, যা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাদ দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় স্বার্থ, ইসলামী মূল্যবোধ ও জনগণের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএনপি সরকার এই শব্দবন্ধ পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন,২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে অর্থনৈতিক খাত, ব্যাংকিং, ও সামগ্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য।

দেশের মানুষের প্রকৃত অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার সফলভাবে ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অর্থনীতির দৃঢ় ও সক্ষম অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে এরইমধ্যে ৩টি দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে বলেও জানান মাহদী আমিন।

মাহদী আমিন বলেন, গত মাসেই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে, যা এই গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ইতোমধ্যেই প্রায় ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্সপেক্টরকে ঝুলিয়ে পেটানোর বক্তব্যের জেরে কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রী কবে কোন দেশে যাবেন নির্ধারণ হয়নি: মাহদী আমিন

আপডেট সময় ০৬:৪৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অটুট রেখেই পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করবে সরকার-এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, কবে কোন দেশে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটি এখনও নির্ধারিত হয়নি।

সোমবার (২৫) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো এরইমধ্যেই ফল দিতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।

বিএনপি সরকার সব সময়েই বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে এবারও তার ব্যতিক্রম নয়-এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু চরিত্রহনন করা কখনও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়। প্রতিটি মানুষের সম্মান রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব। এই বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এছাড়াও সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন কথা বলছেন। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।

মাহদী আমিন বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিদেশ থেকে টিকা আনা হয়েছে। সামনে যেন ঘাটতি না হয়। আগামীতে শিশু সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

জুলাই আন্দোলনের শতাধিক আহত যোদ্ধাকে রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যেই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় চলমান রয়েছে, যা শিগগিরই কার্যকর করা হবে। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যক্তির কার্যকর সংযোগ স্থাপন, ক্যারিয়ার সার্ভিস প্রদান, কাউন্সিলিং ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগানকে সমন্বিত করা বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, বিদেশে জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দূতাবাসকে ডিমান্ড ম্যাপিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো কোন দেশে কী ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা রয়েছে তা নির্ধারণ করা। আমাদের টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে সে অনুযায়ী কোর্স ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শন হলো প্রান্তিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ করে টেকসই উন্নয়নের পথে অগ্রসর হওয়া।

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ‘পিপল-টু-পিপল’ সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি সেল’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন রাষ্ট্র কাঠামো পেয়েছি যেখানে বিপুল সংস্কার প্রয়োজন। অপরাধ ঘটলে দ্রুততার সঙ্গে গ্রেফতার এবং বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করেছে সরকার। সরকার আইনে শাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের ব্যবসা বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজও।

তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। এরইমধ্যে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণায় দেশের বিচার ব্যবস্থার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এক দশক পর আলোচিত তনু হত্যা মামলার প্রথম আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের পথ আরও সুগম হয়েছে। একইভাবে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিকে ভারতে দ্রুত শনাক্ত করা হয়েছে এবং দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান না; বরং প্রধানমন্ত্রীই জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন। তিনি মানুষের কথা শুনছেন, দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং সাহস ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি জনগণের সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন নন বরং তিনি সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনুভূতিশীল নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আবারও যুক্ত করা হচ্ছে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধ, যা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাদ দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় স্বার্থ, ইসলামী মূল্যবোধ ও জনগণের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএনপি সরকার এই শব্দবন্ধ পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন,২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে অর্থনৈতিক খাত, ব্যাংকিং, ও সামগ্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য।

দেশের মানুষের প্রকৃত অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার সফলভাবে ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অর্থনীতির দৃঢ় ও সক্ষম অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে এরইমধ্যে ৩টি দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে বলেও জানান মাহদী আমিন।

মাহদী আমিন বলেন, গত মাসেই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে, যা এই গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ইতোমধ্যেই প্রায় ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও জানান তিনি।