নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি ওয়াদা ভুলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেছেন, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত গণভোটের বিষয়ে বর্তমান সরকারি দল ও বিরোধী দলের অবস্থান একই ছিল। তবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকারি দল ওয়াদা ভুলে গেছে। গণভোটের গণরায় ইতোমধ্যে সরকারি দল অস্বীকার করেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগে ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৫ আসনের এমপি শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই না বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম হোক। ঘরে ও বাইরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সবার দায়িত্ব। সরকারি দল যারা আছেন তাদের প্রধান দায়িত্ব। বিরোধী দলের দায়িত্ব জনগণের অধিকারের পাহারাদারি করা।
শফিকুর রহমান বলেছেন, ইতোমধ্যে জাতীয় জীবনে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। যে জুলাই আজকে পরিবেশ দিয়েছে, সেই জুলাই নির্বাচন দিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বলছে, ‘জনগণ তাদের ৫১% ভোট দিয়েছে’। কিন্তু সংবিধানের যেসব আইনের কারণে এতদিন জনগণ অধিকারহারা ছিল, ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল, সেই জায়গাগুলো সংস্কারে গণভোটে জনগণ ৬৮ শতাংশের বেশি ভোট দিয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, গণভোটে জামায়াতজোট যেভাবে হ্যাঁ ভোট চেয়েছে, তারেক রহমানও সেভাবে চেয়েছিলেন। বিএনপির পক্ষে সালাহউদ্দিন আহমদ গণভোটের প্রস্তাব করেছিলেন। তাতে জামায়াতসহ অন্যরা সমর্থন করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলের পর তাঁরা বদলে গেছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এখন বলছে, সংবিধানে সংস্কারের কথা নেই! সংবিধানে সংস্কারের কথা না থাকার পরও ৩১ দফায় লিখেছিলেন কীভাবে? গণভোট চাইলেন কেন? হ্যাঁ ভোটে জনগণকে আহ্বান জানালেন কেন? এসব দ্বিচারিতা। নিজেদের ওয়াদার বিরুদ্ধে অবস্থান এবং জনগণের রায়কে অস্বীকার, অগ্রাহ্য ও অপমান করা।
বিরোধীদল রাজপথে যাবে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, আশা করেছিলাম সংসদ গণভোটের ফল গ্রহণ করবে। সংসদে গ্রাহ্য না হওয়ায়, জনগণের দাবির কথা নিয়ে জনগণের সাথে একাত্ম হয়েছি।
শফিকুর রহমান বলেন, ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্বর আক্রমণে বিশ্বে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশেও জ্বালানির উপর প্রভাব পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই দেখেছেন কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হাজারো গাড়ির মিছিল তেলের জন্য। অথচ বিষয়টি যখন সংসদে আমরা জানতে চেয়েছি, তখন এমনভাবে বিবৃতি দিয়েছে সরকার, যেন বাংলাদেশ তেলের উপর ভাসছে।
সরকারকে সতর্ক করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কিছু লোক যারা সরকারকে তেল দেয়, তারা সংকটটি দেখতে দিচ্ছে না। অতীতে অনেকে এই তেলে পিছলে কোমড় ভেঙেছে। চাই না তারা দেশকে নিয়ে কোনো বিপদে পড়েন। জ্বালানি সংকট নিয়ে বহুদলীয় সংলাপ হোক।
জামায়াতের মিরপুর পূর্ব থানার আমির শাহ আলম তুহিনের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও বাণিজ্যিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

নিজস্ব সংবাদ : 


























