ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের এলপিজি কার্ড দেবে সরকার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:২৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

নারীদের রান্নার কষ্ট লাঘবে ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করা হবে। সোমবার যশোর ঈদগাহ ময়দানে বিএনপির জনসভায় তিনি এসব ঘোষণা দিয়ে বলেন, দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীকে পেছনে ফেলে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বিএনপির ওপর দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাধাগ্রস্ত করতে চায় একটি মহল। তারা নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছিল। দেশের সেবা করার জন্য জনগণ বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে। জনগণের শান্তি নষ্ট করবে, এমন কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না।

তারেক রহমান বলেন, হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণ সমর্থন দিয়েছে। বিএনপি তা বাস্তবায়ন করবে। দেশের মানুষের স্বার্থে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে এই সরকার। দেশের জনগণই বিএনপির রাজনীতি। তারা বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। যারা স্বাধীনতার সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিল, তারা এখনও জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তারা বিভ্রান্তি ছড়াবে, আর বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করবে।

নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা ম্যাট্রিক পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। তাঁর অসমাপ্ত কাজ পূরণের লক্ষ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করব। শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না; একই সঙ্গে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে, তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব, যাতে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নার ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, শহরের মা-বোনই হোক। সারাদেশের মায়েদের কাছে আমরা যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সে রকম আরেকটি কার্ড দিতে চাই, সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এলপিজি গ্যাস আমরা পৌঁছে দেব, যাতে মা-বোনদের রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকা থেকে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণের পর শার্শার উলশী খাল খননের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পাঁচ দশক আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, সেই উলশী খাল পুনর্খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন তিনি। কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশ নেন তিনি। এরপর দুপুরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। তিনি যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। পরে বিকেলে তিনি যশোর ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় ভাষণ দেন।

জনসভায় খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, বিএনপি দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। আগামী পাঁচ বছরে আমরা সারাদেশে এই উলশী খালের মতো প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করতে চাই, যাতে লোকজন বিভিন্ন রকম আয়-রোজগারের সুবিধা সেখান থেকে করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের অনেক কলকারখানা বন্ধ রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনেক কলকারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো চালু হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি অনেক দেশে জনশক্তি রপ্তানি সীমিত ও বন্ধ রয়েছে। সেসব দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুতই অনেক দেশে আমরা জনশক্তি রপ্তানিতে গতি আনতে পারব।

সব ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করব। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আমরা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি যতদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, ইনশাআল্লাহ জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি জবান আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’

জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন খোকন।

‘দেশকে এগিয়ে নিতে সুস্থ জাতি প্রয়োজন’
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা। আমরা যদি দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে সুস্থ একটি জাতি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এই হাসপাতাল যখন হবে, স্বাভাবিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ রোগীর ব্যান্ডেজ, ওষুধ বা অপারেশন থিয়েটারের যেসব উপকরণ থাকে, সেগুলো দেওয়া হবে। হয়তো দেখা যাবে রোগীর সংখ্যা আস্তে আস্তে বাড়ছে; কিন্তু সরকারেরও সামর্থ্য বিবেচনা করতে হবে। সে জন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দেব। আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করব, যাতে বড় বড় অসুখ-বিসুখ থেকে কীভাবে দূরে রাখা সম্ভব। তা ছাড়া আমরা চেষ্টা করছি, প্রাইভেট পার্টনারশিপের ব্যবস্থা করতে। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত রোগী থাকলে চিকিৎসার সুবিধা থেকে অনেককে বঞ্চিত হতে হয়। তাই প্রথম পর্যায়ে ভর্তি হওয়া এবং গুরুতর বিবেচনায় বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানোর বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেই আমরা সেই খরচ বহন করব।

পৌনে দুইশ বছরের পাণ্ডুলিপি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছেন তারেক রহমান। লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক গ্রন্থগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী লাইব্রেরিতে পৌঁছালে শিক্ষাবিদ, গবেষক ও যশোর ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি শাখাটি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি তুলট কাগজ ও তালপাতায় হাতে লেখা মহাকবি কালিদাসের পুঁথি, প্রাচীন রামায়ণ, মহাভারত এবং চাণক্যের কালজয়ী সৃষ্টিগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে প্রত্যক্ষ করেন। প্রায় পৌনে দুইশ বছরের প্রাচীন এসব অমূল্য সম্পদ দেখে প্রধানমন্ত্রী মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সুধীজন ও সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাচ্চাদেরকে মোবাইল ফোন থেকে বের করে নিয়ে এসে বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে চাই। এই মহৎ কাজে আমরা অবশ্যই সফল হবো।’

‘চাচা, আমার বাপের নাম কী?’
১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উলাশীতে দেশে প্রথম স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেন। তখন ৩০ বছরের যুবক শাহাদাত হোসেন ঝুড়ি-কোদাল হাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গী হয়েছিলেন। ৮০ বছর বয়সে সেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে শাহাদাত হোসেন দেখলেন সেই খালের পুনর্খনন উদ্বোধন করছেন তারেক রহমান। খাল পুনর্খনন উদ্বোধন শেষে তারেক রহমান বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন। তখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ শাহাদাত হোসেনকে দেখে তিনি এগিয়ে যান।

প্রধানমন্ত্রী স্মিত হেসে জিজ্ঞেস করেন, ‘চাচা, আমার বাপের নাম কী?’ আবেগাপ্লুত শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আপনার বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আর মা বেগম খালেদা জিয়াও তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।’ এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর বয়স জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন বলেন, যখন এই খালের কাজ শুরু হয়েছিল তখন আমার বয়স ছিল ৩২ বছর, এখন ৮০-ঊর্ধ্ব। কথোপকথনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে জিজ্ঞেস করেন, ‘চাচা, আজকে কাটতে পারবেন না খাল?’ প্রধানমন্ত্রীর এমন রসিকতায় এই বৃদ্ধ হাসিতে ফেটে পড়েন। ধরা গলায় বলেন, ‘বাবার সঙ্গে একবার এই মাটিতে কোদাল দিয়েছিলাম, এখন কি আর সেই শক্তি আছে বাজান!’

হেঁটে জনসভাস্থলে
যশোর সার্কিট হাউস থেকে ঈদগাহ মাঠের দূরত্ব ৪০০ মিটার। তখন বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট। জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভা কেন্দ্র করে পুরো সড়কে উপচে পড়া ভিড়। এরই মধ্যে সার্কিট হাউস থেকে বের হয়ে হেঁটে জনসভাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনস্রোতের মধ্য দিয়েই তিনি সভাস্থলে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর এমন উপস্থিতি সড়কে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করে। তিনি হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

নারীদের এলপিজি কার্ড দেবে সরকার

আপডেট সময় ১২:২৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নারীদের রান্নার কষ্ট লাঘবে ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করা হবে। সোমবার যশোর ঈদগাহ ময়দানে বিএনপির জনসভায় তিনি এসব ঘোষণা দিয়ে বলেন, দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীকে পেছনে ফেলে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বিএনপির ওপর দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাধাগ্রস্ত করতে চায় একটি মহল। তারা নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছিল। দেশের সেবা করার জন্য জনগণ বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে। জনগণের শান্তি নষ্ট করবে, এমন কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না।

তারেক রহমান বলেন, হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণ সমর্থন দিয়েছে। বিএনপি তা বাস্তবায়ন করবে। দেশের মানুষের স্বার্থে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে এই সরকার। দেশের জনগণই বিএনপির রাজনীতি। তারা বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। যারা স্বাধীনতার সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিল, তারা এখনও জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তারা বিভ্রান্তি ছড়াবে, আর বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করবে।

নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা ম্যাট্রিক পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। তাঁর অসমাপ্ত কাজ পূরণের লক্ষ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করব। শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না; একই সঙ্গে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে, তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব, যাতে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নার ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, শহরের মা-বোনই হোক। সারাদেশের মায়েদের কাছে আমরা যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সে রকম আরেকটি কার্ড দিতে চাই, সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এলপিজি গ্যাস আমরা পৌঁছে দেব, যাতে মা-বোনদের রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকা থেকে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণের পর শার্শার উলশী খাল খননের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পাঁচ দশক আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, সেই উলশী খাল পুনর্খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন তিনি। কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশ নেন তিনি। এরপর দুপুরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। তিনি যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। পরে বিকেলে তিনি যশোর ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় ভাষণ দেন।

জনসভায় খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, বিএনপি দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। আগামী পাঁচ বছরে আমরা সারাদেশে এই উলশী খালের মতো প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করতে চাই, যাতে লোকজন বিভিন্ন রকম আয়-রোজগারের সুবিধা সেখান থেকে করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের অনেক কলকারখানা বন্ধ রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনেক কলকারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো চালু হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি অনেক দেশে জনশক্তি রপ্তানি সীমিত ও বন্ধ রয়েছে। সেসব দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুতই অনেক দেশে আমরা জনশক্তি রপ্তানিতে গতি আনতে পারব।

সব ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করব। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আমরা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি যতদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, ইনশাআল্লাহ জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি জবান আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’

জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন খোকন।

‘দেশকে এগিয়ে নিতে সুস্থ জাতি প্রয়োজন’
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা। আমরা যদি দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে সুস্থ একটি জাতি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এই হাসপাতাল যখন হবে, স্বাভাবিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ রোগীর ব্যান্ডেজ, ওষুধ বা অপারেশন থিয়েটারের যেসব উপকরণ থাকে, সেগুলো দেওয়া হবে। হয়তো দেখা যাবে রোগীর সংখ্যা আস্তে আস্তে বাড়ছে; কিন্তু সরকারেরও সামর্থ্য বিবেচনা করতে হবে। সে জন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দেব। আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করব, যাতে বড় বড় অসুখ-বিসুখ থেকে কীভাবে দূরে রাখা সম্ভব। তা ছাড়া আমরা চেষ্টা করছি, প্রাইভেট পার্টনারশিপের ব্যবস্থা করতে। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত রোগী থাকলে চিকিৎসার সুবিধা থেকে অনেককে বঞ্চিত হতে হয়। তাই প্রথম পর্যায়ে ভর্তি হওয়া এবং গুরুতর বিবেচনায় বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানোর বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেই আমরা সেই খরচ বহন করব।

পৌনে দুইশ বছরের পাণ্ডুলিপি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছেন তারেক রহমান। লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক গ্রন্থগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী লাইব্রেরিতে পৌঁছালে শিক্ষাবিদ, গবেষক ও যশোর ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি শাখাটি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি তুলট কাগজ ও তালপাতায় হাতে লেখা মহাকবি কালিদাসের পুঁথি, প্রাচীন রামায়ণ, মহাভারত এবং চাণক্যের কালজয়ী সৃষ্টিগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে প্রত্যক্ষ করেন। প্রায় পৌনে দুইশ বছরের প্রাচীন এসব অমূল্য সম্পদ দেখে প্রধানমন্ত্রী মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সুধীজন ও সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাচ্চাদেরকে মোবাইল ফোন থেকে বের করে নিয়ে এসে বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে চাই। এই মহৎ কাজে আমরা অবশ্যই সফল হবো।’

‘চাচা, আমার বাপের নাম কী?’
১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উলাশীতে দেশে প্রথম স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেন। তখন ৩০ বছরের যুবক শাহাদাত হোসেন ঝুড়ি-কোদাল হাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গী হয়েছিলেন। ৮০ বছর বয়সে সেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে শাহাদাত হোসেন দেখলেন সেই খালের পুনর্খনন উদ্বোধন করছেন তারেক রহমান। খাল পুনর্খনন উদ্বোধন শেষে তারেক রহমান বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন। তখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ শাহাদাত হোসেনকে দেখে তিনি এগিয়ে যান।

প্রধানমন্ত্রী স্মিত হেসে জিজ্ঞেস করেন, ‘চাচা, আমার বাপের নাম কী?’ আবেগাপ্লুত শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আপনার বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আর মা বেগম খালেদা জিয়াও তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।’ এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর বয়স জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন বলেন, যখন এই খালের কাজ শুরু হয়েছিল তখন আমার বয়স ছিল ৩২ বছর, এখন ৮০-ঊর্ধ্ব। কথোপকথনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে জিজ্ঞেস করেন, ‘চাচা, আজকে কাটতে পারবেন না খাল?’ প্রধানমন্ত্রীর এমন রসিকতায় এই বৃদ্ধ হাসিতে ফেটে পড়েন। ধরা গলায় বলেন, ‘বাবার সঙ্গে একবার এই মাটিতে কোদাল দিয়েছিলাম, এখন কি আর সেই শক্তি আছে বাজান!’

হেঁটে জনসভাস্থলে
যশোর সার্কিট হাউস থেকে ঈদগাহ মাঠের দূরত্ব ৪০০ মিটার। তখন বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট। জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভা কেন্দ্র করে পুরো সড়কে উপচে পড়া ভিড়। এরই মধ্যে সার্কিট হাউস থেকে বের হয়ে হেঁটে জনসভাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনস্রোতের মধ্য দিয়েই তিনি সভাস্থলে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর এমন উপস্থিতি সড়কে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করে। তিনি হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481