ঢাকা ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ Logo ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্কুলছাত্রের মৃত্যু Logo মাদক ব্যবসা ছাড়ুন, না হলে এলাকা ছাড়ুন : এমপি আবু তালিব Logo ইরান সংঘাতে না জড়াতে চীনকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প Logo প্রথমার্ধ শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র Logo পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে: পাকিস্তান হাইকমিশনার Logo শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাবিতে নবীনবরণ, ‘পাইলট প্রকল্প’ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ইঙ্গিত Logo এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ Logo আমি ছাড়া কেউ মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে কথা বলে না : রুমিন ফারহানা Logo পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত, হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

গাজা সিটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৪৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭৬ বার পড়া হয়েছে

গাজা সিটিজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে— এটাই পালানোর শেষ সুযোগ। আর তাই দিনের পর দিন আগ্রাসন সহ্য করার পর, অবশেষে শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন সেখানে থেকে যাওয়া বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল থেকেই নেমেছে শহর ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষের ঢল। পায়ে হেঁটেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন তারা। কারণ, সামনে যেসব ভবন পাচ্ছে, সেগুলোই গুড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী’র (আইডিএফ) সেনারা।

মূলত, প্রায় দুই বছর ধরে হামলার শিকার হয়েও গাজা উপত্যকার উত্তরের গাজা সিটিতে মাটি আঁকড়ে পড়ে ছিলেন অনেক ফিলিস্তিনি। বহুদিন মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই থেকে গিয়েছিলেন প্রিয় জন্মভূমিতে। তবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই বদলে যেতে থাকে শহরের চিত্র।

বাধ্য হয়ে অনেকেই এতদিন তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে গাজা শহরের আশ্রয় শিবিরগুলোও এখন মৃত্যুপুরী। তাই এই শহর ছেড়ে যাওয়াই ভালো সিদ্ধান্ত— তাদের কাছেও বিষয়টা এখন যেন ঠিক এমন।

শহরের এক বাসিন্দা বলেন,গাজা শহরের অবস্থা এখন ভীষণ খারাপ। আমরা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলাম। আজ ড্রোনগুলো স্কুল আঙিনার ওপর উড়ছিল, আমাদের সতর্ক করছিল যে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে আছি।

আরেকজন বলেন, আমরা পায়ে হেঁটেই এসেছি। কোনো যানবাহন পাইনি, আর যাতায়াতের খরচ দেয়ার মতো টাকাও নেই, তাই হেঁটেই চলেছি। জানি না কোথায় যাচ্ছি। মৃত্যুর হাত থেকে পালাচ্ছি আমরা। কারণ সেখানে প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ হচ্ছিল।

এদিকে, শহরটির বাজারে নেই পর্যাপ্ত খাবারের মজুদ। জিনিসপত্রের দামও আকাশছোঁয়া। সবমিলিয়ে গাজা সিটিতে বাস করার আর কোনো উপায়ই রাখেনি জায়নবাদীরা।

গেল আগস্টের শেষ দিকে দ্বিতীয় ধাপে ‘অপারেশন গিডিয়নস চ্যারিয়ট’ হাতে নেয় নেতানিয়াহু বাহিনী। যার লক্ষ্যই হলো হামাসের কাছ থেকে গাজা সিটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়া। এ অভিযান শুরুর পরে থেকেই শহরটিতে বেড়েছে আগ্রাসনের মাত্রা।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী এখনও গাজা শহরে রয়ে গেছে ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষ। কয়েক সপ্তাহে শহর ছেড়ে পালিয়েছে প্রায় ৪ লাখ ফিলিস্তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

গাজা সিটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা

আপডেট সময় ১০:৪৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

গাজা সিটিজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে— এটাই পালানোর শেষ সুযোগ। আর তাই দিনের পর দিন আগ্রাসন সহ্য করার পর, অবশেষে শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন সেখানে থেকে যাওয়া বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল থেকেই নেমেছে শহর ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষের ঢল। পায়ে হেঁটেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন তারা। কারণ, সামনে যেসব ভবন পাচ্ছে, সেগুলোই গুড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী’র (আইডিএফ) সেনারা।

মূলত, প্রায় দুই বছর ধরে হামলার শিকার হয়েও গাজা উপত্যকার উত্তরের গাজা সিটিতে মাটি আঁকড়ে পড়ে ছিলেন অনেক ফিলিস্তিনি। বহুদিন মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই থেকে গিয়েছিলেন প্রিয় জন্মভূমিতে। তবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই বদলে যেতে থাকে শহরের চিত্র।

বাধ্য হয়ে অনেকেই এতদিন তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে গাজা শহরের আশ্রয় শিবিরগুলোও এখন মৃত্যুপুরী। তাই এই শহর ছেড়ে যাওয়াই ভালো সিদ্ধান্ত— তাদের কাছেও বিষয়টা এখন যেন ঠিক এমন।

শহরের এক বাসিন্দা বলেন,গাজা শহরের অবস্থা এখন ভীষণ খারাপ। আমরা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলাম। আজ ড্রোনগুলো স্কুল আঙিনার ওপর উড়ছিল, আমাদের সতর্ক করছিল যে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে আছি।

আরেকজন বলেন, আমরা পায়ে হেঁটেই এসেছি। কোনো যানবাহন পাইনি, আর যাতায়াতের খরচ দেয়ার মতো টাকাও নেই, তাই হেঁটেই চলেছি। জানি না কোথায় যাচ্ছি। মৃত্যুর হাত থেকে পালাচ্ছি আমরা। কারণ সেখানে প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ হচ্ছিল।

এদিকে, শহরটির বাজারে নেই পর্যাপ্ত খাবারের মজুদ। জিনিসপত্রের দামও আকাশছোঁয়া। সবমিলিয়ে গাজা সিটিতে বাস করার আর কোনো উপায়ই রাখেনি জায়নবাদীরা।

গেল আগস্টের শেষ দিকে দ্বিতীয় ধাপে ‘অপারেশন গিডিয়নস চ্যারিয়ট’ হাতে নেয় নেতানিয়াহু বাহিনী। যার লক্ষ্যই হলো হামাসের কাছ থেকে গাজা সিটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়া। এ অভিযান শুরুর পরে থেকেই শহরটিতে বেড়েছে আগ্রাসনের মাত্রা।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী এখনও গাজা শহরে রয়ে গেছে ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষ। কয়েক সপ্তাহে শহর ছেড়ে পালিয়েছে প্রায় ৪ লাখ ফিলিস্তিনি।