ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ডেম্বেলের হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স Logo এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে: শামা ওবায়েদ Logo বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক দেম্বেলের! Logo রাজধানীতে ১৪ তলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২ ইউনিট Logo লেবানন থেকে ‘শর্তহীনভাবে’ ইসরায়েলের সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে: হিজবুল্লাহ নেতা Logo জার্মানিকে হারানোয় ইকুয়েডরে সরকারি ছুটি ঘোষণা Logo সীমান্তে হত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo রাজধানীতে ফ্ল্যাটে পড়ে ছিল নারী চিকিৎসকের মরদেহ Logo ‘মামলার ব্যবসা করছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা’: রুমিন ফারহানা Logo দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মামলায় ছেলেসহ বিএনপি নেতা কারাগারে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:০৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের জাজিরায় চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তাঁর ছেলে স্বাধীন মাদবরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তারের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

আদালত ও মামলার সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা ছোবহান মাদবরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবর। চাঁদা না দেওয়ায় গত বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে কাজীরহাট এলাকার ছোবহান মাদবরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট, নগদ অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে দোকানঘর দখল করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। পরে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা হলে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরোয়ানা জারির পরও দীর্ঘদিন তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে গত এপ্রিল থেকে তারা হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবর। আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী সোবহান মাদবর বলেন, আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলো বিএনপি নেতা সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর লুটপাট চালিয়ে তারা দখলে নেয়। আমি ন্যায্য বিচারের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি মহামান্য আদালতের কাছে আশা রাখি যাতে আমি ন্যায় বিচার পাই।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার বলেন, কেউ যদি কোনো রকম অনৈতিক কাজে জড়িত হয়ে থাকেন তাহলে তদন্ত পূর্বক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিটু আখন্দ বলেন, এই বিষয়টি আমরা জানার পর জেলা পর্যায়ের নেতাদের জানিয়েছিলাম। অভিযুক্ত যেহেতু উপজেলা পর্যায়ের নেতা, আমরাও উপজেলা পর্যায়ে রয়েছি। তাই জেলা পর্যায়ের জানানো হয়েছিল। সুরুজ মাদবর এখনও উপজেলা বিএনপির কমিটির সহ-সভাপতি পদে বহাল আছেন।

এ ব্যাপারে বাদী পক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া বলেন, আমার মক্কেলের কাছে চাঁদাদাবি করেছিলো বিবাদীপক্ষ। পরে আমার মক্কেল আদালতের দ্বারস্থ হলে মঙ্গলবার বিচারক দুইজনের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। আমি আশা রাখি আদালতে আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ডেম্বেলের হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মামলায় ছেলেসহ বিএনপি নেতা কারাগারে

আপডেট সময় ০২:০৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

শরীয়তপুরের জাজিরায় চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তাঁর ছেলে স্বাধীন মাদবরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তারের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

আদালত ও মামলার সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা ছোবহান মাদবরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবর। চাঁদা না দেওয়ায় গত বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে কাজীরহাট এলাকার ছোবহান মাদবরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট, নগদ অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে দোকানঘর দখল করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। পরে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা হলে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরোয়ানা জারির পরও দীর্ঘদিন তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে গত এপ্রিল থেকে তারা হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবর। আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী সোবহান মাদবর বলেন, আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলো বিএনপি নেতা সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর লুটপাট চালিয়ে তারা দখলে নেয়। আমি ন্যায্য বিচারের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি মহামান্য আদালতের কাছে আশা রাখি যাতে আমি ন্যায় বিচার পাই।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার বলেন, কেউ যদি কোনো রকম অনৈতিক কাজে জড়িত হয়ে থাকেন তাহলে তদন্ত পূর্বক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিটু আখন্দ বলেন, এই বিষয়টি আমরা জানার পর জেলা পর্যায়ের নেতাদের জানিয়েছিলাম। অভিযুক্ত যেহেতু উপজেলা পর্যায়ের নেতা, আমরাও উপজেলা পর্যায়ে রয়েছি। তাই জেলা পর্যায়ের জানানো হয়েছিল। সুরুজ মাদবর এখনও উপজেলা বিএনপির কমিটির সহ-সভাপতি পদে বহাল আছেন।

এ ব্যাপারে বাদী পক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া বলেন, আমার মক্কেলের কাছে চাঁদাদাবি করেছিলো বিবাদীপক্ষ। পরে আমার মক্কেল আদালতের দ্বারস্থ হলে মঙ্গলবার বিচারক দুইজনের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। আমি আশা রাখি আদালতে আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাবে।