ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ Logo ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্কুলছাত্রের মৃত্যু Logo মাদক ব্যবসা ছাড়ুন, না হলে এলাকা ছাড়ুন : এমপি আবু তালিব Logo ইরান সংঘাতে না জড়াতে চীনকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প Logo প্রথমার্ধ শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র Logo পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে: পাকিস্তান হাইকমিশনার Logo শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাবিতে নবীনবরণ, ‘পাইলট প্রকল্প’ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ইঙ্গিত Logo এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ Logo আমি ছাড়া কেউ মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে কথা বলে না : রুমিন ফারহানা Logo পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত, হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

প্রথমবারের মতো ১২ পারমাণবিক অস্ত্র ‘মোতায়েন’ করলো ভারত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনে ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সবশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা এসআইপিআরআই তাদের সবশেষ প্রতিবেদনে নয়াদিল্লির কয়েক দশকের নীতি থেকে এক ব্যাপক বিচ্যুতির কথা প্রকাশ করেছে, যেখানে পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হতো।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এবারই প্রথম ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে কেবল মজুত নয়, বরং ‘কার্যক্ষমভাবে মোতায়েনকৃত’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

এসআইপিআরআই বলছে, প্রস্তুত অবস্থায় থাকা পারমাণবিক অস্ত্রকে ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে মোতায়েন করা ভারতের সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নতুন করে মোতায়েন করা ১২টি ওয়ারহেড এমন প্রথম উদাহরণ, যেখানে ভারত পারমাণবিক ওয়ারহেডকে সরাসরি ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করেছে অথবা সেগুলোকে সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে রেখেছে।

এসআইপিআরআই-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এ পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিন নিয়ে গঠিত ভারতের ক্রমবর্ধমান ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর অংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো যে ভারত শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক ওয়ারহেড ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকে আলাদা করে রাখে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রকে ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনার দেশটির সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইঙ্গিত করছে যে ভারত কিছু ওয়ারহেড শান্তিকালেই উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার দিকে এগোতে পারে।

তবে ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তার ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি বজায় রেখেছে। এই নীতির আওতায় দেশটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা কোনো সংঘাতে প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। শুধুমাত্র ভারতের ভূখণ্ড বা বিশ্বের যেকোনো স্থানে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে তার জবাব হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক সক্ষমতার উদ্দেশ্য অস্ত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া নয়; বরং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার জন্য একটি সীমিত কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো ১২ পারমাণবিক অস্ত্র ‘মোতায়েন’ করলো ভারত

আপডেট সময় ০৭:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনে ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সবশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা এসআইপিআরআই তাদের সবশেষ প্রতিবেদনে নয়াদিল্লির কয়েক দশকের নীতি থেকে এক ব্যাপক বিচ্যুতির কথা প্রকাশ করেছে, যেখানে পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হতো।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এবারই প্রথম ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে কেবল মজুত নয়, বরং ‘কার্যক্ষমভাবে মোতায়েনকৃত’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

এসআইপিআরআই বলছে, প্রস্তুত অবস্থায় থাকা পারমাণবিক অস্ত্রকে ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে মোতায়েন করা ভারতের সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নতুন করে মোতায়েন করা ১২টি ওয়ারহেড এমন প্রথম উদাহরণ, যেখানে ভারত পারমাণবিক ওয়ারহেডকে সরাসরি ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করেছে অথবা সেগুলোকে সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে রেখেছে।

এসআইপিআরআই-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এ পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিন নিয়ে গঠিত ভারতের ক্রমবর্ধমান ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর অংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো যে ভারত শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক ওয়ারহেড ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকে আলাদা করে রাখে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রকে ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনার দেশটির সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইঙ্গিত করছে যে ভারত কিছু ওয়ারহেড শান্তিকালেই উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার দিকে এগোতে পারে।

তবে ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তার ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি বজায় রেখেছে। এই নীতির আওতায় দেশটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা কোনো সংঘাতে প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। শুধুমাত্র ভারতের ভূখণ্ড বা বিশ্বের যেকোনো স্থানে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে তার জবাব হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক সক্ষমতার উদ্দেশ্য অস্ত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া নয়; বরং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার জন্য একটি সীমিত কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা।

সূত্র: এনডিটিভি