ঢাকা ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ Logo ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্কুলছাত্রের মৃত্যু Logo মাদক ব্যবসা ছাড়ুন, না হলে এলাকা ছাড়ুন : এমপি আবু তালিব Logo ইরান সংঘাতে না জড়াতে চীনকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প Logo প্রথমার্ধ শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র Logo পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে: পাকিস্তান হাইকমিশনার Logo শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাবিতে নবীনবরণ, ‘পাইলট প্রকল্প’ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ইঙ্গিত Logo এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ Logo আমি ছাড়া কেউ মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে কথা বলে না : রুমিন ফারহানা Logo পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত, হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

টিকার অভাবে শিশু মৃত্যু,ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শেখ মজিবুরের মামলার আবেদন খারিজ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৪১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
হাম ও রুবেলা টিকা সময়মতো আমদানি না করে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত মামলাটি গ্রহণের মতো পর্যাপ্ত উপাদান না থাকায় আবেদনটি খারিজের আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ।

এর আগে সোমবার সকালে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন।

মামলায় আরও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা উচ্চশিক্ষিত ও নোবেল বিজয়ী হলেও তার দায়িত্বে চরম অবহেলা ও উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এ দেশের শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশুর জীবন বিপন্ন হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা হত্যাকাণ্ডের শামিল। মামলার অন্যান্য আসামিরা তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বে অবহেলা করে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামের ভ্যাকসিন যথাসময়ে আমদানি না করে শাস্তিযোগ্য ও অমানবিক অপরাধ করেছেন। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং তাদের মৌলিক অধিকার হরণের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা আমদানি করে আসছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা দীর্ঘসূত্রতার কারণে টিকা সংকট সৃষ্টি করে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স টিকার সম্ভাব্য সংকট নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন। তা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলার আবেদনে দাবি করা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ সময় প্রায় ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

মামলার আবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বহু শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারকে চিকিৎসার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে এবং রাষ্ট্রকেও বিপুল ব্যয় বহন করতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকা সরবরাহের ব্যবস্থা নিলেও সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তার দায় সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারেন না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

টিকার অভাবে শিশু মৃত্যু,ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শেখ মজিবুরের মামলার আবেদন খারিজ

আপডেট সময় ০৪:৪১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
হাম ও রুবেলা টিকা সময়মতো আমদানি না করে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত মামলাটি গ্রহণের মতো পর্যাপ্ত উপাদান না থাকায় আবেদনটি খারিজের আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ।

এর আগে সোমবার সকালে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন।

মামলায় আরও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা উচ্চশিক্ষিত ও নোবেল বিজয়ী হলেও তার দায়িত্বে চরম অবহেলা ও উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এ দেশের শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশুর জীবন বিপন্ন হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা হত্যাকাণ্ডের শামিল। মামলার অন্যান্য আসামিরা তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বে অবহেলা করে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামের ভ্যাকসিন যথাসময়ে আমদানি না করে শাস্তিযোগ্য ও অমানবিক অপরাধ করেছেন। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং তাদের মৌলিক অধিকার হরণের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা আমদানি করে আসছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা দীর্ঘসূত্রতার কারণে টিকা সংকট সৃষ্টি করে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স টিকার সম্ভাব্য সংকট নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন। তা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলার আবেদনে দাবি করা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ সময় প্রায় ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

মামলার আবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বহু শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারকে চিকিৎসার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে এবং রাষ্ট্রকেও বিপুল ব্যয় বহন করতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকা সরবরাহের ব্যবস্থা নিলেও সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তার দায় সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারেন না।