ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দক্ষিণ বঙ্গের সর্ববৃহৎ বৈশাখী মেলায় লাখো মানুষের ঢল Logo মার্কিন অবরোধের মধ্যেই হরমুজ পাড়ি দিলো ৪ জাহাজ Logo ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা ইতালির Logo অবরোধ থেকে সরে আসতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব Logo পরমাণু ইস্যুতে ২০ বছরের স্থগিতাদেশ চায় যুক্তরাষ্ট্র, প্রত্যাখ্যান ইরানের Logo ট্রাম্পকে হতভাগা জলদস্যু বলে ইরানের বিদ্রুপ Logo বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ থেকে দুই বিলিয়ন ডলার পেতে পারে বাংলাদেশ Logo সামরিক পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা আরও বাড়বে: পেজেশকিয়ান Logo কানাডার এমপি নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম Logo হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধের মধ্যে বেইজিং সফরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান ইরানের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন নেতিবাচক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ইরান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদির সঙ্গে এক ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই আহ্বান জানান।

আলাপকালে দুই নেতা অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাত নিরসনে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনার ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, বাইরের শক্তির অনধিকার চর্চা ছাড়াই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব এবং এর জন্য সকল প্রতিবেশীর অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের দায়িত্বশীল আচরণের প্রশংসা করে বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

আঞ্চলিক সংকটে ওমানের গঠনমূলক ও নীতিগত অবস্থানের প্রশংসা করে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান সবসময়ই সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে ওমান যেভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, ইরান তাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে গত ৪০ দিন ধরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং এর ভিত্তিতেই ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ইরান ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব দিলেও ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়, যার প্রধান কারণ ছিল মার্কিন পক্ষের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসের অভাব।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সেই আলোচনায় ইরান মূলত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বিলোপ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছিল। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দল এই শর্তগুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে অচলাবস্থা তৈরি হয়।

বর্তমানে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলাকালেই ওমানের সঙ্গে ইরানের এই উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান চাচ্ছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জনমতকে নিজেদের অনুকূলে আনতে এবং যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে। তেহরান মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি কেবল তখনই সম্ভব যখন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করবে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

দক্ষিণ বঙ্গের সর্ববৃহৎ বৈশাখী মেলায় লাখো মানুষের ঢল

যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান ইরানের

আপডেট সময় ০৫:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন নেতিবাচক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ইরান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদির সঙ্গে এক ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই আহ্বান জানান।

আলাপকালে দুই নেতা অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাত নিরসনে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনার ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, বাইরের শক্তির অনধিকার চর্চা ছাড়াই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব এবং এর জন্য সকল প্রতিবেশীর অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের দায়িত্বশীল আচরণের প্রশংসা করে বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

আঞ্চলিক সংকটে ওমানের গঠনমূলক ও নীতিগত অবস্থানের প্রশংসা করে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান সবসময়ই সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে ওমান যেভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, ইরান তাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে গত ৪০ দিন ধরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং এর ভিত্তিতেই ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ইরান ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব দিলেও ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়, যার প্রধান কারণ ছিল মার্কিন পক্ষের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসের অভাব।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সেই আলোচনায় ইরান মূলত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বিলোপ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছিল। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দল এই শর্তগুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে অচলাবস্থা তৈরি হয়।

বর্তমানে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলাকালেই ওমানের সঙ্গে ইরানের এই উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান চাচ্ছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জনমতকে নিজেদের অনুকূলে আনতে এবং যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে। তেহরান মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি কেবল তখনই সম্ভব যখন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করবে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481