ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo তিন বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে : বিজিএমইএ Logo হরমুজ প্রণালি বন্ধে সার সরবরাহে ধস, বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের শঙ্কা Logo পুলিশসহ জরুরি সেবায় থাকছে না জ্বালানি রেশনিং: প্রধানমন্ত্রী Logo সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই: হাসনাত আবদুল্লাহ Logo সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গি ইস্যুতে বিশ্বাসযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে: গাজী আতাউর রহমান Logo বিক্ষোভে উত্তাল ভারতের মণিপুর: পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০ Logo আইভীকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ Logo সমালোচনা করলে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে: হাসনাত আবদুল্লাহ Logo প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হলেন সিনিয়র সাংবাদিক আবদাল আহমেদ Logo ঢাকা দক্ষিণ এনসিপির আহ্বায়ক ইসহাক, সদস্য সচিব শাহরিয়ার

বিক্ষোভে উত্তাল ভারতের মণিপুর: পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:১২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের মণিপুর রাজ্য আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানী ইম্ফলে সরকারি জবাবদিহিতার দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতে অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

‘কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি’ বা কোকোমি-এর আহ্বানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইম্ফলের আটটি ভিন্ন স্থান থেকে একযোগে মিছিল শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল শহরের কেন্দ্রস্থল পেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিংয়ের সরকারি বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা। তাদের প্রধান দাবিসমূহের মধ্যে ছিল সাম্প্রতিক সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন, মাদক ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের সুরাহা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত। এছাড়া কুকি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে ‘সাসপেনশন অব অপারেশন’ চুক্তি বাতিলের দাবিও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। কোকোমির অভিযোগ, বারবার স্মারকলিপি দেওয়ার পরেও সরকার এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

শহরের কেন্দ্রীয় ইম্ফলের ওভারব্রিজ এলাকায় মিছিলটি পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে তারা তা উপেক্ষা করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের রেশ ইমা কেইথেল বাজার এবং আলু গলি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কনথৌজাম জানান, সরকার আলোচনার জন্য একাধিকবার কোকোমিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু তারা তাতে অংশ নেয়নি। তিনি আশা করেছিলেন যে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হবে, কিন্তু বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নতুন করে এই বিক্ষোভ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

তিন বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে : বিজিএমইএ

বিক্ষোভে উত্তাল ভারতের মণিপুর: পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০

আপডেট সময় ০৭:১২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের মণিপুর রাজ্য আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানী ইম্ফলে সরকারি জবাবদিহিতার দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতে অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

‘কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি’ বা কোকোমি-এর আহ্বানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইম্ফলের আটটি ভিন্ন স্থান থেকে একযোগে মিছিল শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল শহরের কেন্দ্রস্থল পেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিংয়ের সরকারি বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা। তাদের প্রধান দাবিসমূহের মধ্যে ছিল সাম্প্রতিক সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন, মাদক ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের সুরাহা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত। এছাড়া কুকি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে ‘সাসপেনশন অব অপারেশন’ চুক্তি বাতিলের দাবিও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। কোকোমির অভিযোগ, বারবার স্মারকলিপি দেওয়ার পরেও সরকার এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

শহরের কেন্দ্রীয় ইম্ফলের ওভারব্রিজ এলাকায় মিছিলটি পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে তারা তা উপেক্ষা করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের রেশ ইমা কেইথেল বাজার এবং আলু গলি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কনথৌজাম জানান, সরকার আলোচনার জন্য একাধিকবার কোকোমিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু তারা তাতে অংশ নেয়নি। তিনি আশা করেছিলেন যে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হবে, কিন্তু বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নতুন করে এই বিক্ষোভ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481