বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় বজ্রপাতে এক নারীসহ চার কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা সবাই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ঘটনাস্থল ছিল খোলা মাঠ।
চার জনের মৃত্যুর বিষয়টি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়ার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় মারা যান জহির উদ্দিন (২৮)।
একই সময়ে শান্তিপুর গ্রামে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে নিহত হন খালেক হাওলাদার (৫৫)। আর সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালীর চরগঙ্গা গ্রামে গরু আনতে গিয়ে মারা যান সৌরভ মজুমদার (২২)।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সকালে বজ্রপাতের ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।
তবে মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি আরেকটি নীরব বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে মাঠে মাঠে। গত দুই দিনে বজ্রপাতে অন্তত ২৯টি গরু মারা গেছে বলে প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে। তালিকায় ইতোমধ্যে ২৩ জন খামারির নাম উঠেছে, যদিও স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রকৃত ক্ষতি আরো বেশি।
এই গরুগুলোর অধিকাংশই ছিল আসন্ন কোরবানির হাটকে ঘিরে পরিবারের বড় ভরসা। কেউ সারা বছর লালন করেছেন, কেউ ঋণ করে কিনেছেন। খামারিদের সব হিসেব এক মুহূর্তে ভেস্তে গেছে।
ধুলাসার ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার হাওলাদার এখনও স্তব্ধ। তাঁর দুটি গর্ভবতী গরু বজ্রপাতে মারা গেছে। তিনি বলেন, দুটো গরুই ছিল আমার ভরসা। লাখ টাকার মতো দাম হতো। এখন আমি কীভাবে দাঁড়াব?
লালুয়া, মহিপুর, বালিয়াতলী, ধুলাসার-প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে একই দৃশ্য। কোথাও খামারের পাশে পড়ে আছে গরুর মরদেহ, কোথাও খোলা মাঠে বজ্রপাতের কালো চিহ্ন। অনেক পরিবার একসঙ্গে একাধিক গরু হারিয়ে দিশেহারা।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২৩ জন খামারির ২৯টি গরুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, তবে তালিকা আরো বাড়তে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউসার হামিদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও ঢেউটিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুত তালিকা তৈরি করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবারের কালবৈশাখী ঝড় আরেক বিপদ ডেকে আনে। পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনের গেট ভেঙে আহত হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী অয়ন চন্দ্র সরকার (১০)।
প্রথমে তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সে এখন আশঙ্কামুক্ত।
গেট ভেঙে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুই কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদ : 


























