ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজে টোল বসাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প Logo ‘ইসলামপন্থিদের রাজনৈতিক বিজয়ে শক্তিশালী মিডিয়া কাঠামো গড়ে তুলতে হবে’ Logo আজ মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo যুক্তরাজ্যে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ! Logo মেসির সতীর্থ হচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার Logo শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি জার্মানি-আইভরি কোস্ট Logo তথ্য ফাঁস করলে ইন্সপেক্টরকে গাছে ঝুলাইয়া পে/টাব: পুলিশ কমিশনারের ভিডিও ভাইরাল Logo হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ নেতানিয়াহুর Logo পানিসম্পদমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে ‘কটূক্তি’, ২০ দিন ধরে কারাগারে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা Logo মহাশূন্যে বিশ্বকাপের বল পাঠিয়ে নতুন বার্তা দিল নাসা

কেন ইরানে হামলা করল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:১৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • ৯১ বার পড়া হয়েছে

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। নিহত হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইরান। রোববার (০১ মার্চ) সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রচার করে। খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি ও সিএনএন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে খামেনির মৃত্যুর দাবি করেন। তিনি লেখেন, “খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন, মারা গেছেন।”

কেন ইরানে হামলা করলো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই দুই মিত্রদেশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা তাদের জন্য হুমকি। কিন্তু তেহরান বারবার বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো ইচ্ছা নেই। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কেবল ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

গত বছরের জুনেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। সে সময় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করা হয়।

জুনের হামলার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় মধ্যস্থতা করছিল ওমান। দুই দিন আগে ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা জেনেভা আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানানোর পরপরই ইরানে বর্তমান হামলা শুরু হয়।

জানা গেছে, জেনেভায় সর্বশেষ আলোচনায় ইরান ইউরেনিয়াম মজুত না করা এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ণ তদারকিতে রাজি হয়েছিল।

হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আরেকটি যুক্তি, তাদের হামলা ইরানিদের জন্য সরকারের ‘নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার একটি সুযোগ। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ হলে আপনারা সরকারের দায়িত্ব নিন। এবার আপনাদের পালা। সম্ভবত আগামী কয়েক প্রজন্মের মধ্যে এটাই আপনাদের একমাত্র সুযোগ।’

ইরানের প্রতিক্রিয়া কী
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রথমে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হামলার জবাব দিয়েছে। দেশটির বেশ কিছু অংশে সাইরেন বেজে ওঠে এবং উত্তর ইসরায়েলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জনসাধারণকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হুমকি মোকাবিলায় বাধা প্রদান ও সেগুলোতে আঘাতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’

প্রাথমিক জবাবের পরপরই ইরানি বাহিনী পুরো অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর আগে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি ‘চরম’ জবাব দেওয়ার হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আমরা আপনাদের সতর্ক করেছিলাম! এখন আপনারা এমন এক পথ বেছে নিয়েছেন, যার পরিণতি আর আপনাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’

নেতানিয়াহু কী বলেছেন
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, সামরিক অভিযান ‘যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ চলবে’। তিনি জানান, ইসরায়েলের এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লায়ন্স রোর’ বা ‘সিংহের গর্জন’।

সূত্র: আল–জাজিরা

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজে টোল বসাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

কেন ইরানে হামলা করল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

আপডেট সময় ১২:১৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। নিহত হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইরান। রোববার (০১ মার্চ) সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রচার করে। খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি ও সিএনএন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে খামেনির মৃত্যুর দাবি করেন। তিনি লেখেন, “খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন, মারা গেছেন।”

কেন ইরানে হামলা করলো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই দুই মিত্রদেশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা তাদের জন্য হুমকি। কিন্তু তেহরান বারবার বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো ইচ্ছা নেই। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কেবল ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

গত বছরের জুনেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। সে সময় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করা হয়।

জুনের হামলার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় মধ্যস্থতা করছিল ওমান। দুই দিন আগে ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা জেনেভা আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানানোর পরপরই ইরানে বর্তমান হামলা শুরু হয়।

জানা গেছে, জেনেভায় সর্বশেষ আলোচনায় ইরান ইউরেনিয়াম মজুত না করা এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ণ তদারকিতে রাজি হয়েছিল।

হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আরেকটি যুক্তি, তাদের হামলা ইরানিদের জন্য সরকারের ‘নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার একটি সুযোগ। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ হলে আপনারা সরকারের দায়িত্ব নিন। এবার আপনাদের পালা। সম্ভবত আগামী কয়েক প্রজন্মের মধ্যে এটাই আপনাদের একমাত্র সুযোগ।’

ইরানের প্রতিক্রিয়া কী
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রথমে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হামলার জবাব দিয়েছে। দেশটির বেশ কিছু অংশে সাইরেন বেজে ওঠে এবং উত্তর ইসরায়েলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জনসাধারণকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হুমকি মোকাবিলায় বাধা প্রদান ও সেগুলোতে আঘাতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’

প্রাথমিক জবাবের পরপরই ইরানি বাহিনী পুরো অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর আগে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি ‘চরম’ জবাব দেওয়ার হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আমরা আপনাদের সতর্ক করেছিলাম! এখন আপনারা এমন এক পথ বেছে নিয়েছেন, যার পরিণতি আর আপনাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’

নেতানিয়াহু কী বলেছেন
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, সামরিক অভিযান ‘যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ চলবে’। তিনি জানান, ইসরায়েলের এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লায়ন্স রোর’ বা ‘সিংহের গর্জন’।

সূত্র: আল–জাজিরা