সিটটা ধরে, নড়ে-চড়ে তখনো ইংল্যান্ডের ভক্তরা বসতে পারেননি। কোচ টমাস টুখেলের শিখিয়ে দেওয়া কৌশলও মাঠে প্রয়োগের সুযোগ পাননি ডেক্লান রাইসরা। তার আগেই ডিআর কঙ্গোর গোল। দ্বিতীয়ার্ধের অর্ধেকের বেশি সময় ওই লিড ধরে রেখে নকআউটের স্বপ্ন দেখছিল আফ্রিকার দলটি। তখনই দৃশ্যেপটে হাজির হ্যারি কেইন। ১০ মিনিটের ব্যবধানে ইংলিশ স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে কঙ্গোর দৃঢ় দেয়াল ভেঙেছে থ্রি লায়ন্সরা। ২-১ গোলের জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পা রেখেছে।
বুধবার আটালান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৭ মিনিটে গ্যালারি ভরা ইংল্যান্ডের ভক্তদের স্তব্ধ করে ডিআর কঙ্গো। ৫২ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটির হয়ে ব্রায়ান চিপিঙ্গা গোল করেন। পরেই সমতায় ফিরতে মরিয়া ইংল্যান্ড একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। কিন্তু হ্যারি কেইনদের ক্রস থেকে হেডে গোল করার পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে থাকেন ৩১ বছরের গোলরক্ষক লিওনেল মাপাসি।
প্রথমার্ধে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গতির সঙ্গে ইংল্যান্ডের বক্সে ঢুকে ভয়ও ধরাচ্ছিল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২৮তম দল ডিআর কঙ্গো। কিন্তু ইংলিশদের জাল খুঁজে নেওয়ার মতো একটির বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের গোলের চেষ্টা ব্যর্থ করে হতাশা বাড়াচ্ছিল কঙ্গো। মনে যখন ইংল্যান্ডের বিদায়ের কথা উঁকি দিচ্ছে, তখনই দারুণ এক হেড থেকে বায়ার্ন মিউনিখে খেলা ইংল্যান্ডের জার্সিতে সর্বাধিক গোল করা কেইন দলকে সমতায় ফেরান।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে পাওয়া এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়া কঙ্গো আর ম্যাচের লাগাম ধরতে পারেনি। ৮৬ মিনিটে হ্যারি কেইন কঙ্গোর বক্সে বল পেয়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে কোন থেকে জোরের ওপর শট নিয়ে গোল করেন। ম্যাচ জুড়ে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণ রুখে দেওয়া মাপাসি দর্শক হয়ে ওই শট দেখেন। হ্যারি কেইন নিজের জার্সি টেনে, চিৎকারে, গ্যালারির দিকে ছুটে দলকে জেতানোর উল্লাসে মাতেন।

নিজস্ব সংবাদ : 

























