ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না মোদি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:১৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে একটি উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধি দল ইরান সফরে যাচ্ছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, এই প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত থাকছেন বিহারের গভর্নর জেনারেল সৈয়দ হাসনাইন এবং ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে এই প্রতিনিধি দলে থাকছেন না বলেই জানা গেছে।

ইরানের ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী এই শীর্ষ শিয়া নেতা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রথম দিনে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আগামী ৪ জুলাই থেকে এই বহুমাত্রিক অনুষ্ঠান শুরু হবে এবং ৯ জুলাই খামেনির দাফন কার্য সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে। ছয় দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আগামী ৭ জুলাই পবিত্র কোয়ম নগরীতে বিশেষ ধর্মীয় আচার ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে।

 

ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, ৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ছয় দিনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে লাখ লাখ শোকগ্রস্ত মানুষ রাস্তায় নেমে আসবেন। ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে এই ঘটনাটি অন্যতম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে পরিণত হতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে, যা মূলত দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

যুদ্ধকালীন তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি ও তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছে। এই সংকটময় সময়ে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একাধিকবার ফোনালাপ করেছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ভারত সফর করেন এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও ইরানের অন্যান্য প্রতিনিধিরা ভারতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

ভারতের এই প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্তটি তেহরানের সাথে নয়াদিল্লির সেই নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক সম্পর্কেরই প্রতিফলন।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় ক্ষোভ জামায়াতের

আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না মোদি

আপডেট সময় ১২:১৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে একটি উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধি দল ইরান সফরে যাচ্ছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, এই প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত থাকছেন বিহারের গভর্নর জেনারেল সৈয়দ হাসনাইন এবং ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে এই প্রতিনিধি দলে থাকছেন না বলেই জানা গেছে।

ইরানের ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী এই শীর্ষ শিয়া নেতা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রথম দিনে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আগামী ৪ জুলাই থেকে এই বহুমাত্রিক অনুষ্ঠান শুরু হবে এবং ৯ জুলাই খামেনির দাফন কার্য সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে। ছয় দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আগামী ৭ জুলাই পবিত্র কোয়ম নগরীতে বিশেষ ধর্মীয় আচার ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে।

 

ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, ৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ছয় দিনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে লাখ লাখ শোকগ্রস্ত মানুষ রাস্তায় নেমে আসবেন। ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে এই ঘটনাটি অন্যতম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে পরিণত হতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে, যা মূলত দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

যুদ্ধকালীন তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি ও তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছে। এই সংকটময় সময়ে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একাধিকবার ফোনালাপ করেছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ভারত সফর করেন এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও ইরানের অন্যান্য প্রতিনিধিরা ভারতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

ভারতের এই প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্তটি তেহরানের সাথে নয়াদিল্লির সেই নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক সম্পর্কেরই প্রতিফলন।