ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ Logo ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্কুলছাত্রের মৃত্যু Logo মাদক ব্যবসা ছাড়ুন, না হলে এলাকা ছাড়ুন : এমপি আবু তালিব Logo ইরান সংঘাতে না জড়াতে চীনকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প Logo প্রথমার্ধ শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র Logo পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে: পাকিস্তান হাইকমিশনার Logo শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাবিতে নবীনবরণ, ‘পাইলট প্রকল্প’ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ইঙ্গিত Logo এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ Logo আমি ছাড়া কেউ মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে কথা বলে না : রুমিন ফারহানা Logo পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত, হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

অসহায়ের ছদ্মবেশে আশ্রয়, পরে আশ্রয়দাতার শিশু অপহরণ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার কারাগারে বন্দি স্বামীকে দেখতে এসে মোবাইল ফোন হারানোর কথা অসহায়ের ছদ্মবেশে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন এক রোহিঙ্গা নারী। পরে ওই বাড়ির এক শিশুকে (৪) অপহরণ করেছেন তিনি।

রোববার (৭ জুন) বিকালে ঘটনার চারদিন পর মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকার পাহাড়তলী থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত রংবাহারকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুন কক্সবাজার কারাগারে বন্দি স্বামীকে দেখতে আসেন কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রংবাহার। এ সময় তার মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে তিনি বিপাকে পড়েন। পরে প্রথমে একবেলা ভাত খাওয়ার অনুরোধ এবং পরবর্তীতে রাতযাপনের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করলে কারাগারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার মানবিক কারণে তাকে আশ্রয় দেন। পরিবারটির অভিযোগ, আশ্রয় নেওয়ার সময় নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন রংবাহার।

স্থানীয়দের সঙ্গে অবস্থানকালে তিনি স্বাভাবিক আচরণ করলেও পরবর্তীতে ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। পরিবারের দাবি, আশ্রয় নেওয়ার দুদিন পর ৫ জুন দোকান থেকে নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে সাদ্দাম হোসেনের চার বছরের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বের হন রংবাহার। এরপর শিশুটিকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। একপর্যায়ে অপহরণকারীদের চাপে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করা হয়। কিন্তু শিশুটিকে ফেরত দেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর বিষয়টি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জানানো হলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে রংবাহার নিজেকে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কলাতলীর গইয়ুমতলী ভাঙারমোড় এলাকার এখলাস নামের এক ব্যক্তির পরামর্শে শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ওই ব্যক্তি অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

শিশুটির মা সুমি আক্তার বলেন, মানবিক কারণে আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম। পরে বুঝতে পেরেছি, সে পরিকল্পিতভাবেই আমাদের বাসায় অবস্থান নিয়েছিল। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

অসহায়ের ছদ্মবেশে আশ্রয়, পরে আশ্রয়দাতার শিশু অপহরণ

আপডেট সময় ০১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কক্সবাজার কারাগারে বন্দি স্বামীকে দেখতে এসে মোবাইল ফোন হারানোর কথা অসহায়ের ছদ্মবেশে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন এক রোহিঙ্গা নারী। পরে ওই বাড়ির এক শিশুকে (৪) অপহরণ করেছেন তিনি।

রোববার (৭ জুন) বিকালে ঘটনার চারদিন পর মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকার পাহাড়তলী থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত রংবাহারকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুন কক্সবাজার কারাগারে বন্দি স্বামীকে দেখতে আসেন কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রংবাহার। এ সময় তার মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে তিনি বিপাকে পড়েন। পরে প্রথমে একবেলা ভাত খাওয়ার অনুরোধ এবং পরবর্তীতে রাতযাপনের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করলে কারাগারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার মানবিক কারণে তাকে আশ্রয় দেন। পরিবারটির অভিযোগ, আশ্রয় নেওয়ার সময় নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন রংবাহার।

স্থানীয়দের সঙ্গে অবস্থানকালে তিনি স্বাভাবিক আচরণ করলেও পরবর্তীতে ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। পরিবারের দাবি, আশ্রয় নেওয়ার দুদিন পর ৫ জুন দোকান থেকে নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে সাদ্দাম হোসেনের চার বছরের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বের হন রংবাহার। এরপর শিশুটিকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। একপর্যায়ে অপহরণকারীদের চাপে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করা হয়। কিন্তু শিশুটিকে ফেরত দেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর বিষয়টি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জানানো হলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে রংবাহার নিজেকে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কলাতলীর গইয়ুমতলী ভাঙারমোড় এলাকার এখলাস নামের এক ব্যক্তির পরামর্শে শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ওই ব্যক্তি অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

শিশুটির মা সুমি আক্তার বলেন, মানবিক কারণে আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম। পরে বুঝতে পেরেছি, সে পরিকল্পিতভাবেই আমাদের বাসায় অবস্থান নিয়েছিল। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।