ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেমিনি এআই প্রশিক্ষণে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে গুগলের বিরুদ্ধে মামলা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:২৬:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণে কপিরাইটযুক্ত বই ব্যবহারের অভিযোগে গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন কয়েকজন লেখক ও প্রকাশক। মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছে হ্যাচেট বুক গ্রুপ, সেঙ্গেজ লার্নিং, এলসেভিয়ার এবং জনপ্রিয় লেখক স্কট টুরো। তাদের অভিযোগ, গুগল অনুমতি ছাড়াই কপিরাইট সুরক্ষিত বই ব্যবহার করে জেমিনি এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

শুক্রবার করা ৬০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়, গুগল ইচ্ছাকৃতভাবে কপিরাইট আইন উপেক্ষা করে জেমিনি এআই উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ বই সংগ্রহ ও ব্যবহার করেছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, গুগল প্রথমে ‘গুগল বুকস’ প্রকল্পের মাধ্যমে সীমিত উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা বইকে প্রশিক্ষণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে।

পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারনেটের বিভিন্ন উৎস, এমনকি পাইরেটেড ওয়েবসাইট ও পেওয়ালের আড়ালের কনটেন্ট থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছে।

মামলাকারীদের অভিযোগ, এসব বই ব্যবহারের জন্য লেখক বা প্রকাশকদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং তাদের এ বিষয়ে অবহিতও করা হয়নি।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, গুগলের অভ্যন্তরীণ নথিতেই উল্লেখ ছিল যে, বই ব্যবহার করে এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় ধরনের আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানার আশঙ্কা ছিল।

প্রযুক্তি ও মেধাস্বত্ব আইন বিশেষজ্ঞ কার্ক সিগমন বলেন, গুগল যদি বইগুলো অবৈধভাবে সংগ্রহ করে থাকে, তাহলে ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের যুক্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট বই এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা প্রমাণ করা এখনো কঠিন।

এটি এআই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের প্রথম মামলা নয়। ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধেও ‘গেম অব থ্রোনস’-এর লেখক জর্জ আর. আর. মার্টিনসহ একাধিক লেখক মামলা করেছেন। অন্যদিকে, মেটার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় আদালত এআই প্রশিক্ষণকে ‘ফেয়ার ইউজ’-এর আওতায় বৈধ বলে রায় দিয়েছিল।

এদিকে সংবাদমাধ্যম ও সংগীত শিল্পেও এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা বাড়ছে। সিএনএন সম্প্রতি পারপ্লেক্সিটির বিরুদ্ধে হাজারো সংবাদ অনুলিপি ব্যবহারের অভিযোগে মামলা করেছে।

এ ছাড়া ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া ২০ হাজার গান ব্যবহার করে ক্লড এআই প্রশিক্ষণের অভিযোগ তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

জেমিনি এআই প্রশিক্ষণে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে গুগলের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ১১:২৬:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণে কপিরাইটযুক্ত বই ব্যবহারের অভিযোগে গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন কয়েকজন লেখক ও প্রকাশক। মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছে হ্যাচেট বুক গ্রুপ, সেঙ্গেজ লার্নিং, এলসেভিয়ার এবং জনপ্রিয় লেখক স্কট টুরো। তাদের অভিযোগ, গুগল অনুমতি ছাড়াই কপিরাইট সুরক্ষিত বই ব্যবহার করে জেমিনি এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

শুক্রবার করা ৬০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়, গুগল ইচ্ছাকৃতভাবে কপিরাইট আইন উপেক্ষা করে জেমিনি এআই উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ বই সংগ্রহ ও ব্যবহার করেছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, গুগল প্রথমে ‘গুগল বুকস’ প্রকল্পের মাধ্যমে সীমিত উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা বইকে প্রশিক্ষণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে।

পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারনেটের বিভিন্ন উৎস, এমনকি পাইরেটেড ওয়েবসাইট ও পেওয়ালের আড়ালের কনটেন্ট থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছে।

মামলাকারীদের অভিযোগ, এসব বই ব্যবহারের জন্য লেখক বা প্রকাশকদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং তাদের এ বিষয়ে অবহিতও করা হয়নি।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, গুগলের অভ্যন্তরীণ নথিতেই উল্লেখ ছিল যে, বই ব্যবহার করে এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় ধরনের আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানার আশঙ্কা ছিল।

প্রযুক্তি ও মেধাস্বত্ব আইন বিশেষজ্ঞ কার্ক সিগমন বলেন, গুগল যদি বইগুলো অবৈধভাবে সংগ্রহ করে থাকে, তাহলে ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের যুক্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট বই এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা প্রমাণ করা এখনো কঠিন।

এটি এআই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের প্রথম মামলা নয়। ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধেও ‘গেম অব থ্রোনস’-এর লেখক জর্জ আর. আর. মার্টিনসহ একাধিক লেখক মামলা করেছেন। অন্যদিকে, মেটার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় আদালত এআই প্রশিক্ষণকে ‘ফেয়ার ইউজ’-এর আওতায় বৈধ বলে রায় দিয়েছিল।

এদিকে সংবাদমাধ্যম ও সংগীত শিল্পেও এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা বাড়ছে। সিএনএন সম্প্রতি পারপ্লেক্সিটির বিরুদ্ধে হাজারো সংবাদ অনুলিপি ব্যবহারের অভিযোগে মামলা করেছে।

এ ছাড়া ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া ২০ হাজার গান ব্যবহার করে ক্লড এআই প্রশিক্ষণের অভিযোগ তুলেছে।