ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘ইসলামপন্থিদের রাজনৈতিক বিজয়ে শক্তিশালী মিডিয়া কাঠামো গড়ে তুলতে হবে’ Logo আজ মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo যুক্তরাজ্যে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ! Logo মেসির সতীর্থ হচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার Logo শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি জার্মানি-আইভরি কোস্ট Logo তথ্য ফাঁস করলে ইন্সপেক্টরকে গাছে ঝুলাইয়া পে/টাব: পুলিশ কমিশনারের ভিডিও ভাইরাল Logo হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ নেতানিয়াহুর Logo পানিসম্পদমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে ‘কটূক্তি’, ২০ দিন ধরে কারাগারে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা Logo মহাশূন্যে বিশ্বকাপের বল পাঠিয়ে নতুন বার্তা দিল নাসা Logo জার্মানি-আইভরি কোস্টের গ্রুপসেরার লড়াইয়ে জিতবে কে, যা বলছে পরিসংখ্যান

মুজিবের পা ছিল মোজাম্মেলের ‘আত্মীয়স্বজনের দখলে’

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৯৯ বার পড়া হয়েছে

তৎকালীন টঙ্গীর আওয়ামী লীগ নেতা মোজ্জাম্মেল এক নববধূকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করছেন নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তিনি তার রাজনৈতিক উপন্যাস দেওয়ালের ৮৬ পৃষ্ঠায় এ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।

বর্ণিত তথ্যানুযায়ী, এক নবদম্পতি গাড়িতে করে যাচ্ছিল। দুর্ধর্ষ সন্ত্রসী মোজাম্মেল দলবলসহ গাড়িটি আটক করে। গাড়ির ড্রাইভার ও নববিবাহিত তরুণীর স্বামীকে হত্যা করে। মেয়েটিকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে। মেয়েটির রক্তাক্ত ডেড বডি তিন দিন পর টঙ্গি ব্রিজের নিচে পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় মোজাম্মেলকে বাঁচাতে ঘরে ঢোকা মাত্র তার বাবা ও দুই ভাই কেঁদে বঙ্গবন্ধুর পায়ে পড়ল। টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতিও পায়ে ধরার চেষ্টা করলেন কিন্তু পা খুঁজে পেলেন না। পা মোজাম্মেলের আত্মীয়স্বজনের দখলে!

সোমবার সেই তথ্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর। দেয়াল উপন্যাস থেকে কয়েকটি পৃষ্ঠা তুলে ধরেন তিনি।

সেখানে বলা হয়েছে, ‘এক নবদম্পতি গাড়িতে করে যাচ্ছিল। টঙ্গীর তৎকালীন (দেশ স্বাধীনের পরই) আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল দলবলসহ গাড়িটি আটক করে। ড্রাইভার আর নববধূর স্বামীকে হত্যা করে, মেয়েটিকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে। অতঃপর তিন দিন পর তার লাশ পাওয়া যায় টঙ্গি ব্রিজের নিচে। পৈশাচিক এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র। বিশেষ অভিযানে দায়িত্বরত মেজর নাসেরের হাতে মোজাম্মেল ধরা পড়ে। মোজাম্মেল মেজরকে বলে- ঝামেলা না করে আমাকে ছেড়ে দিন, আপনাকে তিন লাখ টাকা দেব। বিষয়টা সরকারি পর্যায়ে নেবেন না। স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমি ছাড়া পাব। আপনি পড়বেন বিপদে। আমি তুচ্ছ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে জড়াতে চাই না।’

মেজর নাসের বললেন, ‘এটা তুচ্ছ বিষয়? মোজাম্মেল জবাব দিল না, উদাস চোখে তাকাল। মেজর নাসের বললেন, আমি অবশ্যই তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবার ব্যবস্থা করব। তোমার তিন লাখ টাকা তুমি তোমার গুহ্যদ্বারে ঢুকিয়ে রাখো! মোজাম্মেল বলল, দেখা যাক। মোজাম্মেলের বাবা, দুই ভাই গেল বঙ্গবন্ধুর কাছে। ঘরে ঢোকা মাত্র মোজাম্মেলের বাবা ও দুই ভাই কেঁদে বঙ্গবন্ধুর পায়ে পড়ল। টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতিও পায়ে ধরার চেষ্টা করলেন কিন্তু পা খুঁজে পেলেন না। পা মোজাম্মেলের আত্মীয়স্বজনের দখলে! বঙ্গবন্ধু বললেন, ঘটনা কী বল?

টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতি বললেন, আমাদের মোজাম্মেলকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। মেজর নাসের তাকে ধরেছে। নাসের বলেছে, তিন লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দিবে। মিথ্যা মামলাটা কি? মোজাম্মেলের বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, খুনের মামলা লাগায়া দিছে। টঙ্গী আ.লীগের সভাপতি বললেন, এই মেজর আ.লীগের নাম শুনলেই তারাবাতির মতো জ্বলে ওঠে। সে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে, টঙ্গীতে আমি কোনো আ.লীগের শূয়োর রাখব না। বঙ্গবন্ধু, আমি নিজেও এখন ভয়ে অস্থির! টঙ্গীতে থাকি না। ঢাকায় চলে আসছি। বঙ্গবন্ধু বললেন, কান্দিস না। কান্দার মতো কিছু ঘটে নাই। আমি এখনো বাইচ্যা আছি তো, মইরা যাই নাই। এখনি ব্যবস্থা নিতাছি। তিনি মোজাম্মেলকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং মেজর নাসেরকে টঙ্গী থেকে সরিয়ে দেবার জরুরি আদেশ দেয়া হলো। মোজাম্মেল ছাড়া পেয়ে মেজর নাসেরকে তার বাসায় পাকা কাঁঠাল খাওয়ার নিমন্ত্রণ করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইসলামপন্থিদের রাজনৈতিক বিজয়ে শক্তিশালী মিডিয়া কাঠামো গড়ে তুলতে হবে’

মুজিবের পা ছিল মোজাম্মেলের ‘আত্মীয়স্বজনের দখলে’

আপডেট সময় ০৫:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

তৎকালীন টঙ্গীর আওয়ামী লীগ নেতা মোজ্জাম্মেল এক নববধূকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করছেন নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তিনি তার রাজনৈতিক উপন্যাস দেওয়ালের ৮৬ পৃষ্ঠায় এ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।

বর্ণিত তথ্যানুযায়ী, এক নবদম্পতি গাড়িতে করে যাচ্ছিল। দুর্ধর্ষ সন্ত্রসী মোজাম্মেল দলবলসহ গাড়িটি আটক করে। গাড়ির ড্রাইভার ও নববিবাহিত তরুণীর স্বামীকে হত্যা করে। মেয়েটিকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে। মেয়েটির রক্তাক্ত ডেড বডি তিন দিন পর টঙ্গি ব্রিজের নিচে পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় মোজাম্মেলকে বাঁচাতে ঘরে ঢোকা মাত্র তার বাবা ও দুই ভাই কেঁদে বঙ্গবন্ধুর পায়ে পড়ল। টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতিও পায়ে ধরার চেষ্টা করলেন কিন্তু পা খুঁজে পেলেন না। পা মোজাম্মেলের আত্মীয়স্বজনের দখলে!

সোমবার সেই তথ্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর। দেয়াল উপন্যাস থেকে কয়েকটি পৃষ্ঠা তুলে ধরেন তিনি।

সেখানে বলা হয়েছে, ‘এক নবদম্পতি গাড়িতে করে যাচ্ছিল। টঙ্গীর তৎকালীন (দেশ স্বাধীনের পরই) আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল দলবলসহ গাড়িটি আটক করে। ড্রাইভার আর নববধূর স্বামীকে হত্যা করে, মেয়েটিকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে। অতঃপর তিন দিন পর তার লাশ পাওয়া যায় টঙ্গি ব্রিজের নিচে। পৈশাচিক এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র। বিশেষ অভিযানে দায়িত্বরত মেজর নাসেরের হাতে মোজাম্মেল ধরা পড়ে। মোজাম্মেল মেজরকে বলে- ঝামেলা না করে আমাকে ছেড়ে দিন, আপনাকে তিন লাখ টাকা দেব। বিষয়টা সরকারি পর্যায়ে নেবেন না। স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমি ছাড়া পাব। আপনি পড়বেন বিপদে। আমি তুচ্ছ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে জড়াতে চাই না।’

মেজর নাসের বললেন, ‘এটা তুচ্ছ বিষয়? মোজাম্মেল জবাব দিল না, উদাস চোখে তাকাল। মেজর নাসের বললেন, আমি অবশ্যই তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবার ব্যবস্থা করব। তোমার তিন লাখ টাকা তুমি তোমার গুহ্যদ্বারে ঢুকিয়ে রাখো! মোজাম্মেল বলল, দেখা যাক। মোজাম্মেলের বাবা, দুই ভাই গেল বঙ্গবন্ধুর কাছে। ঘরে ঢোকা মাত্র মোজাম্মেলের বাবা ও দুই ভাই কেঁদে বঙ্গবন্ধুর পায়ে পড়ল। টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতিও পায়ে ধরার চেষ্টা করলেন কিন্তু পা খুঁজে পেলেন না। পা মোজাম্মেলের আত্মীয়স্বজনের দখলে! বঙ্গবন্ধু বললেন, ঘটনা কী বল?

টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতি বললেন, আমাদের মোজাম্মেলকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। মেজর নাসের তাকে ধরেছে। নাসের বলেছে, তিন লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দিবে। মিথ্যা মামলাটা কি? মোজাম্মেলের বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, খুনের মামলা লাগায়া দিছে। টঙ্গী আ.লীগের সভাপতি বললেন, এই মেজর আ.লীগের নাম শুনলেই তারাবাতির মতো জ্বলে ওঠে। সে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে, টঙ্গীতে আমি কোনো আ.লীগের শূয়োর রাখব না। বঙ্গবন্ধু, আমি নিজেও এখন ভয়ে অস্থির! টঙ্গীতে থাকি না। ঢাকায় চলে আসছি। বঙ্গবন্ধু বললেন, কান্দিস না। কান্দার মতো কিছু ঘটে নাই। আমি এখনো বাইচ্যা আছি তো, মইরা যাই নাই। এখনি ব্যবস্থা নিতাছি। তিনি মোজাম্মেলকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং মেজর নাসেরকে টঙ্গী থেকে সরিয়ে দেবার জরুরি আদেশ দেয়া হলো। মোজাম্মেল ছাড়া পেয়ে মেজর নাসেরকে তার বাসায় পাকা কাঁঠাল খাওয়ার নিমন্ত্রণ করেছিল।