ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘ইসলামপন্থিদের রাজনৈতিক বিজয়ে শক্তিশালী মিডিয়া কাঠামো গড়ে তুলতে হবে’ Logo আজ মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo যুক্তরাজ্যে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ! Logo মেসির সতীর্থ হচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার Logo শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি জার্মানি-আইভরি কোস্ট Logo তথ্য ফাঁস করলে ইন্সপেক্টরকে গাছে ঝুলাইয়া পে/টাব: পুলিশ কমিশনারের ভিডিও ভাইরাল Logo হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ নেতানিয়াহুর Logo পানিসম্পদমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে ‘কটূক্তি’, ২০ দিন ধরে কারাগারে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা Logo মহাশূন্যে বিশ্বকাপের বল পাঠিয়ে নতুন বার্তা দিল নাসা Logo জার্মানি-আইভরি কোস্টের গ্রুপসেরার লড়াইয়ে জিতবে কে, যা বলছে পরিসংখ্যান

মধ্যরাতে দোকান ভাঙচুর, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৫৮:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পুরানা পল্টনে দোকান ভাঙচুর, চাঁদা দাবি, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে পরিচিত পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিটনসহ (৩৫) কয়েকজন এবং অজ্ঞাতনামা ২০–২৫ জনের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

এজাহারটি দায়ের করেন মজিরন বেগমের (৬০) মেয়ে মৌমিতা। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে পল্টন মডেল থানায় এই অভিযোগ দাখিল করেন।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৯ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকার ৫৮/২ নম্বর ঠিকানার নিচতলার একটি দোকানে।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত মো. লিটনসহ কয়েকজন এবং অজ্ঞাতনামা ২০–২৫ জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হতো। চাঁদা না দিলে বাসা ও দোকান থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চ মাসে চাঁদা না দেওয়ায় পরিবারের এক সদস্যকে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করা হয় এবং বাড়ি দখলের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়।

সর্বশেষ শুক্রবার (২৯ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মো. লিটন, সিকদারসহ ২০–২৫ জন ব্যক্তি রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকার ৫৮/২ নম্বর ঠিকানার নিচতলার একটি দোকানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। তারা দোকান থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের হাড়ি-পাতিল এবং প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন কোম্পানির সিগারেট লুট করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে বাধা দিতে গেলে মো. লিটন লোহার হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এতে ভুক্তভোগী আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন ও টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।

ঘটনার পর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মৌমিতা পল্টন মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন হোসাইন রাজধানীর পল্টন এলাকায় দোকান ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ঈদুল আজহার দুই দিন আগে সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে যান এবং পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকায় এসে প্রোগ্রাম শেষে আবার লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ফলে ঘটনার সময় সেখানে থাকার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

লিটন হোসাইন আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করা হোক। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তিনি যেকোনো আইনগত ব্যবস্থা মেনে নেবেন, তবে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী করা ঠিক নয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অভিযোগকারী নারী অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করে আছেন এবং তার ছেলে একসময় পল্টন থানা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ছিলেন, যিনি বর্তমানে পলাতক। এর আগে ওই নারীর করা ২০ হাজার টাকার চাঁদাবাজির মামলাও তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে পল্টন থানার ওসি মোস্তফা কামাল খান জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এর আগে মজিরন বেগম একটি মামলা করেছিলেন, সেই মামলায় অভিযুক্ত লিটন জেল খেটেছেন। ওই মামলার শত্রুতার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগটি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইসলামপন্থিদের রাজনৈতিক বিজয়ে শক্তিশালী মিডিয়া কাঠামো গড়ে তুলতে হবে’

মধ্যরাতে দোকান ভাঙচুর, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৫৮:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

রাজধানীর পুরানা পল্টনে দোকান ভাঙচুর, চাঁদা দাবি, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে পরিচিত পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিটনসহ (৩৫) কয়েকজন এবং অজ্ঞাতনামা ২০–২৫ জনের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

এজাহারটি দায়ের করেন মজিরন বেগমের (৬০) মেয়ে মৌমিতা। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে পল্টন মডেল থানায় এই অভিযোগ দাখিল করেন।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৯ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকার ৫৮/২ নম্বর ঠিকানার নিচতলার একটি দোকানে।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত মো. লিটনসহ কয়েকজন এবং অজ্ঞাতনামা ২০–২৫ জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হতো। চাঁদা না দিলে বাসা ও দোকান থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চ মাসে চাঁদা না দেওয়ায় পরিবারের এক সদস্যকে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করা হয় এবং বাড়ি দখলের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়।

সর্বশেষ শুক্রবার (২৯ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মো. লিটন, সিকদারসহ ২০–২৫ জন ব্যক্তি রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকার ৫৮/২ নম্বর ঠিকানার নিচতলার একটি দোকানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। তারা দোকান থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের হাড়ি-পাতিল এবং প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন কোম্পানির সিগারেট লুট করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে বাধা দিতে গেলে মো. লিটন লোহার হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এতে ভুক্তভোগী আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন ও টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।

ঘটনার পর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মৌমিতা পল্টন মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন হোসাইন রাজধানীর পল্টন এলাকায় দোকান ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ঈদুল আজহার দুই দিন আগে সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে যান এবং পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকায় এসে প্রোগ্রাম শেষে আবার লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ফলে ঘটনার সময় সেখানে থাকার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

লিটন হোসাইন আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করা হোক। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তিনি যেকোনো আইনগত ব্যবস্থা মেনে নেবেন, তবে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী করা ঠিক নয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অভিযোগকারী নারী অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করে আছেন এবং তার ছেলে একসময় পল্টন থানা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ছিলেন, যিনি বর্তমানে পলাতক। এর আগে ওই নারীর করা ২০ হাজার টাকার চাঁদাবাজির মামলাও তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে পল্টন থানার ওসি মোস্তফা কামাল খান জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এর আগে মজিরন বেগম একটি মামলা করেছিলেন, সেই মামলায় অভিযুক্ত লিটন জেল খেটেছেন। ওই মামলার শত্রুতার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগটি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।