ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo স্মরণকালের ভয়াবহ লোডশেডিং: দায় কার এবং মন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের বাস্তবতা Logo নিউইয়র্কে “জাস্টিস ফর জুলাই মুভমেন্ট” উপলক্ষ্যে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় Logo ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর Logo এত বজ্রপাত জানলে তো সুনামগঞ্জে বিয়েই করতাম না: স্পিকার Logo সরকারের লক্ষ্য মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া: প্রধানমন্ত্রী Logo মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল Logo সরকারি কর্মকর্তাদের মানের বেতন সাংবাদিকদের জন্যও হওয়া উচিত : হুইপ Logo যুদ্ধ ও অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ সামরিক ব্যয় Logo আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন Logo বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী

এত বজ্রপাত জানলে তো সুনামগঞ্জে বিয়েই করতাম না: স্পিকার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৫৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় সংসদে হাওর অঞ্চলে বজ্রঘাতে প্রাণহানি নিয়ে আলোচনার সময় হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জের বজ্রপাতের অবস্থা ও ভয়াবহতার কথা শুনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, “এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।”

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় এক পর্যায়ে তিনি এই কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিনের কার্যক্রম শুরু হয় বেলা সাড়ে ৩টার দিকে।

বজ্রপাত নিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল তার বক্তব্যে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমার নির্বাচনি আসনে চারটি উপজেলা হাওর-বেষ্টিত। কৃষি ও মৎস্য আহরণের নিমিত্তে সারা বছর এই এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের হাওরে কাজ করতে হয়। কিন্তু গ্রীষ্ম ও বর্ষায় হাওরে কাজ করতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রাঘাতে অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে। অতি সম্প্রতি দেশে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, তার মধ্যে আমার আসনেই চারজন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘনত্ব অনেক বেশি। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২৫টির বেশি বজ্রপাত সংঘটিত হয়। বিগত সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করলেও এ ব্যাপারে কোনও দৃশ্যমান কর্মসূচি আদ্যবধি নেই।” তিনি প্রতিটি হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র এবং বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের দাবি জানান।

জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীর ৯টি দুর্যোগপ্রবণ দেশের একটি। সম্প্রতি কয়েক বছর যাবৎ সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বজ্রপাত। বিশেষ করে হাওর ও উত্তরাঞ্চলে এর তীব্রতা বেশি। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওই অঞ্চলে সাইরেন বসানোর পরিকল্পনা করছি যাতে মেঘ জমলে কৃষকরা নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে। এছাড়া তালগাছ রোপণ এবং বজ্রনিরোধক টাওয়ার বসানোর গবেষণাও চলছে। আমরা বিধিমালা সংশোধন করেছি যাতে বজ্রাঘাতে গবাদি পশু মারা গেলেও কৃষকরা আর্থিক সহায়তা পায়।”

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।”

প্রসঙ্গত, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের শ্বশুর বাড়ি সুনামগঞ্জে। তার সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল দীর্ঘ ৫৪ বছরের। গত ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দিলারা হাফিজ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

স্মরণকালের ভয়াবহ লোডশেডিং: দায় কার এবং মন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের বাস্তবতা

এত বজ্রপাত জানলে তো সুনামগঞ্জে বিয়েই করতাম না: স্পিকার

আপডেট সময় ০৬:৫৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় সংসদে হাওর অঞ্চলে বজ্রঘাতে প্রাণহানি নিয়ে আলোচনার সময় হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জের বজ্রপাতের অবস্থা ও ভয়াবহতার কথা শুনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, “এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।”

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় এক পর্যায়ে তিনি এই কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিনের কার্যক্রম শুরু হয় বেলা সাড়ে ৩টার দিকে।

বজ্রপাত নিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল তার বক্তব্যে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমার নির্বাচনি আসনে চারটি উপজেলা হাওর-বেষ্টিত। কৃষি ও মৎস্য আহরণের নিমিত্তে সারা বছর এই এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের হাওরে কাজ করতে হয়। কিন্তু গ্রীষ্ম ও বর্ষায় হাওরে কাজ করতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রাঘাতে অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে। অতি সম্প্রতি দেশে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, তার মধ্যে আমার আসনেই চারজন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘনত্ব অনেক বেশি। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২৫টির বেশি বজ্রপাত সংঘটিত হয়। বিগত সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করলেও এ ব্যাপারে কোনও দৃশ্যমান কর্মসূচি আদ্যবধি নেই।” তিনি প্রতিটি হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র এবং বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের দাবি জানান।

জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীর ৯টি দুর্যোগপ্রবণ দেশের একটি। সম্প্রতি কয়েক বছর যাবৎ সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বজ্রপাত। বিশেষ করে হাওর ও উত্তরাঞ্চলে এর তীব্রতা বেশি। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওই অঞ্চলে সাইরেন বসানোর পরিকল্পনা করছি যাতে মেঘ জমলে কৃষকরা নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে। এছাড়া তালগাছ রোপণ এবং বজ্রনিরোধক টাওয়ার বসানোর গবেষণাও চলছে। আমরা বিধিমালা সংশোধন করেছি যাতে বজ্রাঘাতে গবাদি পশু মারা গেলেও কৃষকরা আর্থিক সহায়তা পায়।”

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।”

প্রসঙ্গত, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের শ্বশুর বাড়ি সুনামগঞ্জে। তার সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল দীর্ঘ ৫৪ বছরের। গত ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দিলারা হাফিজ।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481