ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পাইলটকে খুঁজে পেলেও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনারা, উভয়পক্ষে সংঘর্ষ চলছে Logo নববর্ষের শোভাযাত্রা এবার থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী Logo বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়লেও বাংলাদেশে এখনো বৃদ্ধি পায়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo ক্ষমতায় গিয়ে তারা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে: গোলাম পরওয়ার Logo ট্রাম্পের ‘নরক’ মন্তব্যের পাল্টা জবাব পুরো অঞ্চল মার্কিনিদের জন্য দোজখে পরিণত হবে: ইরান Logo তেহরানের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার হুঁশিয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের জন্য ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে Logo বিভাজনের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি দল: মির্জা ফখরুল Logo যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানে স্থল অভিযানে নামবে ‘না’ ইসরায়েল! Logo নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে প্যারিসে মুসলিমদের বার্ষিক সম্মেলন শুরু Logo ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা, যে সতর্কবার্তা দিল রাশিয়া

নরসিংদীতে শিক্ষকের প্রহারে ৭ বছরের শিশু অজ্ঞান, অভিযুক্ত আটক

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:২১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীতে এক মাদরাসা শিক্ষকের বেধড়ক প্রহারে ৭ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শহরের ভেলানগর জেলখানার মোড় এলাকার মাদরাসাতুল আবরার আরাবিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুস সাকিবকে আটক করেছে পুলিশ।

আহত শিশুর নাম মুজাহিদ।

সে শিবপুর উপজেলার দক্ষিণ কাকারচর এলাকার জুয়েলের ছেলে। মুজাহিদ মাদরাসাটির নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। 

পরিবারের অভিযোগ, গতকাল শুক্রবার মাদরাসায় গোসল করতে বললে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া না দেওয়ায় শিক্ষক নাজমুস সাকিব শিশুটিকে বেত দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

জ্ঞান ফেরার পরও তাকে আবার প্রহার করা হয়। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত ক্ষত তৈরি হয়। 

শিশুটির বাবা পরে মাদরাসায় গিয়ে ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে সেখান থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বাড়ি যাওয়ার পর তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। রাত ২টার দিকে জ্বর, বমিসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

শিশু মুজাহিদ বলে, বাবা মাদরাসায় আসায় হুজুর আমাকে ভয় দেখিয়ে হাসি মুখে থাকার কথা বলে।

কিন্তু আমার ব্যাথায় কান্না আসছিল। বাবার সন্দেহ হলে আমার পাঞ্জাবি খুলে দেখে সারা শরীরে মারের দাগ। 

অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুস সাকিব বলেন, তাকে গোসল করতে বলেছিলাম। সে না শোনায় আমি রাগে তাকে প্রহার করি। এটা আমার ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় আমি ক্ষমা চেয়েছি।

মাদরাসার পরিচালক মুফতি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর পরই শিশুটির পরিবারকে আইনের সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলি। আইনে আওতায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

১০০ শয্যাবিশিষ্ট  জেলা হাসপাতাল নরসিংদীর ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ. এন. এম মিজানুর রহমান জানান, শিশুটির পিঠ, হাত ও পায়ে বেতের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হতে পারে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল-মামুন বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

পাইলটকে খুঁজে পেলেও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনারা, উভয়পক্ষে সংঘর্ষ চলছে

নরসিংদীতে শিক্ষকের প্রহারে ৭ বছরের শিশু অজ্ঞান, অভিযুক্ত আটক

আপডেট সময় ০১:২১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
নরসিংদীতে এক মাদরাসা শিক্ষকের বেধড়ক প্রহারে ৭ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শহরের ভেলানগর জেলখানার মোড় এলাকার মাদরাসাতুল আবরার আরাবিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুস সাকিবকে আটক করেছে পুলিশ।

আহত শিশুর নাম মুজাহিদ।

সে শিবপুর উপজেলার দক্ষিণ কাকারচর এলাকার জুয়েলের ছেলে। মুজাহিদ মাদরাসাটির নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। 

পরিবারের অভিযোগ, গতকাল শুক্রবার মাদরাসায় গোসল করতে বললে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া না দেওয়ায় শিক্ষক নাজমুস সাকিব শিশুটিকে বেত দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

জ্ঞান ফেরার পরও তাকে আবার প্রহার করা হয়। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত ক্ষত তৈরি হয়। 

শিশুটির বাবা পরে মাদরাসায় গিয়ে ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে সেখান থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বাড়ি যাওয়ার পর তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। রাত ২টার দিকে জ্বর, বমিসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

শিশু মুজাহিদ বলে, বাবা মাদরাসায় আসায় হুজুর আমাকে ভয় দেখিয়ে হাসি মুখে থাকার কথা বলে।

কিন্তু আমার ব্যাথায় কান্না আসছিল। বাবার সন্দেহ হলে আমার পাঞ্জাবি খুলে দেখে সারা শরীরে মারের দাগ। 

অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুস সাকিব বলেন, তাকে গোসল করতে বলেছিলাম। সে না শোনায় আমি রাগে তাকে প্রহার করি। এটা আমার ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় আমি ক্ষমা চেয়েছি।

মাদরাসার পরিচালক মুফতি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর পরই শিশুটির পরিবারকে আইনের সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলি। আইনে আওতায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

১০০ শয্যাবিশিষ্ট  জেলা হাসপাতাল নরসিংদীর ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ. এন. এম মিজানুর রহমান জানান, শিশুটির পিঠ, হাত ও পায়ে বেতের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হতে পারে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল-মামুন বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481