এবারের স্বাধীনতা দিবসে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে এই দেশে ভালো থাকার অঙ্গিকার হোক- এ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান।
সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনা সভার শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
আলোচনাসভায় ‘বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা’র দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামের সব শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক তাঁবেদারমুক্ত একটি স্বাধীন-সার্বভৌম নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা আমাদের রয়েছে। আমাদের স্বাদ এবং সাধ্যের মধ্যে ফারাক থাকলেও আমি এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই- আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করি তাহলে অবশ্যই আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এই সীমাবদ্ধতা জয় করা অসম্ভব নয়। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই এবং সবাই মিলে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করি, তবে অবশ্যই আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আসুন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক, সমাজের একটি অংশ নয় বরং সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে এই দেশে আমরা ভালো থাকব। আসুন, আমরা প্রত্যেকে একসঙ্গে সহাবস্থানের মাধ্যমে খারাপকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করব। এই হোক আমাদের আজকের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার, প্রত্যাশা ও প্রতিজ্ঞা।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আপনাদেরই সরকার। বর্তমানের গণতান্ত্রিক সরকার এদেশের মানুষের নির্বাচিত সরকার, বর্তমানের গণতান্ত্রিক সরকার এদেশের মানুষের প্রতিষ্ঠিত সরকার। সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ,কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করছি। প্রতিনিয়ত তার জন্য আপনাদের এই সরকার অক্লান্ত পরিশ্রম করছে, চেষ্টা করে যাচ্ছে।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন।
এছাড়া সভায় আরও অংশ নেন- শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।

নিজস্ব সংবাদ : 




























