ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, আমাদের ঠিকানা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী Logo খামেনিকে হত্যার নেপথ্যে ছিল ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এক সুপরিকল্পিত ছক Logo দেশে এখন ‘মামলা বাণিজ্য’ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে: রুমিন ফারহানা Logo অবসরের ২ বছর তবুও বাংলো ছাড়েননি সাবেক সচিব ওয়াছি উদ্দিন Logo কক্সবাজারে আসামী ধরতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু Logo ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোনকল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর, যে কথা হলো Logo প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে মনোযোগ দিতে বিএনপির পদ ছাড়লেন শাহে আলম Logo আমিনুল, জাইমা এবং আমাদের সংকীর্ণতার আয়না Logo ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ৭৭তম বারের মতো হামলা ইরানের Logo বিয়ের অনুষ্ঠানে বরকে ৫ লিটার অকটেন উপহার

ইরানের সরকার পতনে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হামলা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ পাহলভির

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৫৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি তেহরান সরকারকে “উচ্ছেদ” করার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ইরানি শাসন ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে পাহলভি বলেন, “ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ইরানি জনগণের সম্পদ এবং একটি মুক্ত ইরানের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সেই সব বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে রক্ষা করুন যা আমাদের দেশ পুনর্গঠনে ইরানিদের প্রয়োজন হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন এবং সর্বোপরি ইরানি দেশপ্রেমিকদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ইরানের স্বাধীনতার মাহেন্দ্রক্ষণ এখন সন্নিকটে।”

পাহলভির এই আহ্বান এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণ এক প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এখন চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট রবিবার জানিয়েছে যে, ইরানজুড়ে হামলায় চিকিৎসা কেন্দ্র, স্কুল, অ্যাম্বুলেন্স এবং ত্রাণকর্মীসহ ৮১,০০০-এরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানজুড়ে ১,৪০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ২০০-টিরও বেশি শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

রেজা পাহলভির পিতা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি ১৯৪১ সাল থেকে ইরান শাসন করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে তীব্র প্রতিবাদ এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিদ্রোহের মুখে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাহলভিকে যুদ্ধের আগে অনেক ইরানি বিরোধী দলীয় ব্যক্তিত্ব এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানবিরোধী গণবিক্ষোভের সময় পাহলভি বারবার ইরানি জনগণকে “লড়াই চালিয়ে যাওয়ার” উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে ইরানিদের বলেছিলেন যে “সাহায্য আসছে”।

তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পর ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ইরানি এই নির্বাসিত নেতার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছেন। কারণ, এক ভয়াবহ দমন-পীড়নের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পাহলভি ইরানিদের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে প্ররোচিত করে যাচ্ছেন।

পাহলভির এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অনুরূপ আহ্বানেরই প্রতিধ্বনি, যিনি বারবার ইরানি জনগণকে তাদের শাসকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ১০ মার্চ, নেতানিয়াহু এক্স-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে ইরানের নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন যে, তাদের অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছে।

নেতানিয়াহু আরও বলেছিলেন, “আয়াতুল্লাহ সরকারকে হঠাতে এবং নিজেদের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এটি আপনাদের জীবনে একবারই আসা এক সুবর্ণ সুযোগ।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, আমাদের ঠিকানা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

ইরানের সরকার পতনে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হামলা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ পাহলভির

আপডেট সময় ০৬:৫৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি তেহরান সরকারকে “উচ্ছেদ” করার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ইরানি শাসন ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে পাহলভি বলেন, “ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ইরানি জনগণের সম্পদ এবং একটি মুক্ত ইরানের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সেই সব বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে রক্ষা করুন যা আমাদের দেশ পুনর্গঠনে ইরানিদের প্রয়োজন হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন এবং সর্বোপরি ইরানি দেশপ্রেমিকদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ইরানের স্বাধীনতার মাহেন্দ্রক্ষণ এখন সন্নিকটে।”

পাহলভির এই আহ্বান এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণ এক প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এখন চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট রবিবার জানিয়েছে যে, ইরানজুড়ে হামলায় চিকিৎসা কেন্দ্র, স্কুল, অ্যাম্বুলেন্স এবং ত্রাণকর্মীসহ ৮১,০০০-এরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানজুড়ে ১,৪০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ২০০-টিরও বেশি শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

রেজা পাহলভির পিতা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি ১৯৪১ সাল থেকে ইরান শাসন করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে তীব্র প্রতিবাদ এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিদ্রোহের মুখে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাহলভিকে যুদ্ধের আগে অনেক ইরানি বিরোধী দলীয় ব্যক্তিত্ব এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানবিরোধী গণবিক্ষোভের সময় পাহলভি বারবার ইরানি জনগণকে “লড়াই চালিয়ে যাওয়ার” উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে ইরানিদের বলেছিলেন যে “সাহায্য আসছে”।

তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পর ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ইরানি এই নির্বাসিত নেতার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছেন। কারণ, এক ভয়াবহ দমন-পীড়নের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পাহলভি ইরানিদের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে প্ররোচিত করে যাচ্ছেন।

পাহলভির এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অনুরূপ আহ্বানেরই প্রতিধ্বনি, যিনি বারবার ইরানি জনগণকে তাদের শাসকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ১০ মার্চ, নেতানিয়াহু এক্স-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে ইরানের নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন যে, তাদের অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছে।

নেতানিয়াহু আরও বলেছিলেন, “আয়াতুল্লাহ সরকারকে হঠাতে এবং নিজেদের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এটি আপনাদের জীবনে একবারই আসা এক সুবর্ণ সুযোগ।”


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481