ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

অবসরের ২ বছর তবুও বাংলো ছাড়েননি সাবেক সচিব ওয়াছি উদ্দিন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন অবসরের প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো সরকারি বাংলো ছাড়েননি। গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তাকে বাসা ছাড়ার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

জানা যায়, দায়িত্ব নেওয়ার পরই রাজধানীর বেইলি রোডের ৪০ নম্বর সরকারি বাড়িটির দিকে নজর পড়ে তার। সে সময় সেখানে বিদ্যুৎ সাবস্টেশন তদারকির পাশাপাশি পরিবারসহ বসবাস করতেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। পরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে বাড়িটি নিজের দখলে নেন ওয়াছি উদ্দিন।

বাড়িটিকে আধুনিক ও নান্দনিক করতে সিভিল ও ইএম বিভাগ থেকে কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়। এরপর তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন এবং মাসিক ভাড়া হিসেবে মাত্র ৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতেন, যা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। একই সময় পাশের সচিব নিবাস খালি রেখে তিনি বাংলোতেই থাকতেন।

নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ মার্চ অবসরোত্তর ছুটিতে যান গোপালগঞ্জের এই বাসিন্দা। তবে অবসরের পরও বাড়িটি ছাড়েননি। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আরও ছয় মাস থাকার অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। সেই সময়সীমাও শেষ হয়ে গেলেও তিনি এখনো বাংলোতে অবস্থান করছেন।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নন্দিতা রাণী সাহার এক চিঠিতে বেইলি রোডের দোতলা বাড়িটি কাজী ওয়াছি উদ্দিনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভাড়া নির্ধারণ করা হয় মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ হারে। এত বড় একটি বাড়ির জন্য মাত্র ৬ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা থাকলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সচিবদের জন্য ইস্কাটনে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে এসব ফ্ল্যাটের একটি বড় অংশ বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবদের দখলে রয়েছে।

ফাঁকা আছে এমন অজুহাতে ১১৪টি ফ্ল্যাটের প্রায় অর্ধেকের বাসিন্দা এখন অতিরিক্ত সচিব।

প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫২ কাঠা জমিতে নির্মিত সচিবদের আবাসন প্রকল্পে সুইমিংপুল, জিম, পার্কিংসহ নানা আধুনিক সুবিধা থাকলেও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এখনো বাংলো বাড়িকেই বেশি পছন্দ করছেন। এতে সরকারের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

অবসরের ২ বছর তবুও বাংলো ছাড়েননি সাবেক সচিব ওয়াছি উদ্দিন

আপডেট সময় ০২:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন অবসরের প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো সরকারি বাংলো ছাড়েননি। গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তাকে বাসা ছাড়ার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

জানা যায়, দায়িত্ব নেওয়ার পরই রাজধানীর বেইলি রোডের ৪০ নম্বর সরকারি বাড়িটির দিকে নজর পড়ে তার। সে সময় সেখানে বিদ্যুৎ সাবস্টেশন তদারকির পাশাপাশি পরিবারসহ বসবাস করতেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। পরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে বাড়িটি নিজের দখলে নেন ওয়াছি উদ্দিন।

বাড়িটিকে আধুনিক ও নান্দনিক করতে সিভিল ও ইএম বিভাগ থেকে কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়। এরপর তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন এবং মাসিক ভাড়া হিসেবে মাত্র ৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতেন, যা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। একই সময় পাশের সচিব নিবাস খালি রেখে তিনি বাংলোতেই থাকতেন।

নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ মার্চ অবসরোত্তর ছুটিতে যান গোপালগঞ্জের এই বাসিন্দা। তবে অবসরের পরও বাড়িটি ছাড়েননি। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আরও ছয় মাস থাকার অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। সেই সময়সীমাও শেষ হয়ে গেলেও তিনি এখনো বাংলোতে অবস্থান করছেন।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নন্দিতা রাণী সাহার এক চিঠিতে বেইলি রোডের দোতলা বাড়িটি কাজী ওয়াছি উদ্দিনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভাড়া নির্ধারণ করা হয় মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ হারে। এত বড় একটি বাড়ির জন্য মাত্র ৬ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা থাকলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সচিবদের জন্য ইস্কাটনে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে এসব ফ্ল্যাটের একটি বড় অংশ বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবদের দখলে রয়েছে।

ফাঁকা আছে এমন অজুহাতে ১১৪টি ফ্ল্যাটের প্রায় অর্ধেকের বাসিন্দা এখন অতিরিক্ত সচিব।

প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫২ কাঠা জমিতে নির্মিত সচিবদের আবাসন প্রকল্পে সুইমিংপুল, জিম, পার্কিংসহ নানা আধুনিক সুবিধা থাকলেও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এখনো বাংলো বাড়িকেই বেশি পছন্দ করছেন। এতে সরকারের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।