ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ইসরায়েলের আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আলো ছাড়া আর কোনো আলো থাকবে না

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা নোগা এনার্জির প্রধান নির্বাহী শৌল গোল্ডস্টেইন এক জরুরি সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া ইসরায়েলে স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়বে। সোমবার (২৩ মার্চ) তেহরান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গোল্ডস্টেইন বলেন, টানা ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে যাবে। মার্কিন সমর্থিত এই দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এমন নাজুকতা বর্তমানে যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এক বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে যখন ইরান তাদের ওপর যেকোনো হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তখন এই সীমাবদ্ধতা ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

অন্যদিকে ইরান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের নিজস্ব জ্বালানি বা বিদ্যুৎ স্থাপনায় সামান্যতম আঘাত করা হলে তারা পুরো অঞ্চলে এবং ইসরায়েলের ভেতরে থাকা সব তেল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেবে।

ইরানি কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো ক্ষতি হলে ইসরায়েলের আকাশে কেবল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আলোর ঝলকানি ছাড়া আর কোনো আলো অবশিষ্ট থাকবে না।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দ্রুত ও ব্যাপক পালটা হামলার জন্য তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বহর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তেহরানের এই বার্তাটি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হিব্রু ভাষার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে ইরান একটি সুপরিকল্পিত ও নতুন সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছে। গত তিন সপ্তাহে ইরানের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে দুর্বল করা এবং কিছু ক্ষেত্রে সেগুলোকে অকার্যকর করে দেওয়া, যা ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

এখন ইরান তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনে আরও জটিল ও অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে এবং এমন সব লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করছে যা আগে অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল না। তাদের বর্তমান উদ্দেশ্য কেবল প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করা নয়, বরং সেই ব্যবস্থাগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা এবং সামরিক লজিস্টিক বা সহায়তা অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন কৌশলগত ধাপের লক্ষ্য হলো রণক্ষেত্রের বাইরেও ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়া। ইসরায়েলের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করার এই হুমকি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ যা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ইরান তাদের হামলাগুলোকে এমনভাবে সাজিয়েছে যাতে ইসরায়েলের লজিস্টিক এবং সাপোর্ট লেয়ারগুলো চিরতরে অকেজো হয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের এই তীব্রতা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের জীবনীশক্তি বা জ্বালানি খাতকে মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ইসরায়েলের আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আলো ছাড়া আর কোনো আলো থাকবে না

আপডেট সময় ০৫:১৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা নোগা এনার্জির প্রধান নির্বাহী শৌল গোল্ডস্টেইন এক জরুরি সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া ইসরায়েলে স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়বে। সোমবার (২৩ মার্চ) তেহরান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গোল্ডস্টেইন বলেন, টানা ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে যাবে। মার্কিন সমর্থিত এই দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এমন নাজুকতা বর্তমানে যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এক বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে যখন ইরান তাদের ওপর যেকোনো হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তখন এই সীমাবদ্ধতা ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

অন্যদিকে ইরান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের নিজস্ব জ্বালানি বা বিদ্যুৎ স্থাপনায় সামান্যতম আঘাত করা হলে তারা পুরো অঞ্চলে এবং ইসরায়েলের ভেতরে থাকা সব তেল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেবে।

ইরানি কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো ক্ষতি হলে ইসরায়েলের আকাশে কেবল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আলোর ঝলকানি ছাড়া আর কোনো আলো অবশিষ্ট থাকবে না।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দ্রুত ও ব্যাপক পালটা হামলার জন্য তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বহর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তেহরানের এই বার্তাটি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হিব্রু ভাষার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে ইরান একটি সুপরিকল্পিত ও নতুন সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছে। গত তিন সপ্তাহে ইরানের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে দুর্বল করা এবং কিছু ক্ষেত্রে সেগুলোকে অকার্যকর করে দেওয়া, যা ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

এখন ইরান তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনে আরও জটিল ও অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে এবং এমন সব লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করছে যা আগে অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল না। তাদের বর্তমান উদ্দেশ্য কেবল প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করা নয়, বরং সেই ব্যবস্থাগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা এবং সামরিক লজিস্টিক বা সহায়তা অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন কৌশলগত ধাপের লক্ষ্য হলো রণক্ষেত্রের বাইরেও ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়া। ইসরায়েলের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করার এই হুমকি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ যা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ইরান তাদের হামলাগুলোকে এমনভাবে সাজিয়েছে যাতে ইসরায়েলের লজিস্টিক এবং সাপোর্ট লেয়ারগুলো চিরতরে অকেজো হয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের এই তীব্রতা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের জীবনীশক্তি বা জ্বালানি খাতকে মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ