মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধাবস্থা ও আকাশপথে অস্থিরতার কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সূচিতে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) এক দিনেই বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সাতটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, যাদের বড় একটি অংশই প্রবাসী শ্রমিক।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে মোট ১৬২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শনিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি (আগমনী ও বহির্গমন), ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের তিনটি এবং এয়ার আরাবিয়ার দুটি ফ্লাইট রয়েছে।
আকাশপথে এমন অচলাবস্থার মধ্যেও গতকাল মধ্যপ্রাচ্য অভিমুখে ১০টি ফ্লাইট (৬টি আগমনী ও ৪টি বহির্গমন) কোনোমতে সচল ছিল। তবে সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলার শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটের ফ্লাইটগুলো নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই সময়ে ছুটিতে দেশে ফেরা কিংবা ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার প্রবাসী চরম বিপাকে পড়েছেন। নিয়মিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, আবার কেউ কেউ সময়মতো প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে এই স্থবিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদ : 






















