ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ রাত ২টার দিকে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন ১৮৬ তেহরান প্রবাসী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৫৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

তেহরান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া বাংলদেশিরা এখনো পথে। কথা ছিল শুক্রবার বিকেল ৫টায় ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবে। কিন্তু আজারবাইজানের সীমান্তে ইমিগ্রেশনসহ নানা জটিলতার কারণে তারা সন্ধ্যার সময় বাকুর পথে ছিল।

কথা ছিল শুক্রবার বিকেল ৫টা নাগাদ তারা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।

কিন্তু নানা জটিলতার কারণে বাকুতে প্রত্যাশিত সময়ে পৌঁছাতে পারেননি। তেহেরানের সময় দুপুর দেড়টা নাগাদ যোগাযোগ করা হলে তারা কখন বাকুতে পৌঁছাবেন এবং ফ্লাইটটি কখন আকাশে উড়বে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি বাংলাদেশিদের সঙ্গে থাকা তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাবেয়া সুলতানা। তবে তখন তিনি জানান, সবাই ভালো আছেন এবং পথে রয়েছেন। কিছু জটিলতার কারণে বিলম্ব হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশি দলটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
সর্বশেষ জানতে পারলাম, আজারবাইজান সময় রাত ৮টার দিকে (ঢাকার সময় রাত সাড়ে ১০টায়) বাংলাদেশিরা বাকুতে পৌঁছে গেছেন। সেখান থেকে আকাশ পথে আজ রাত ২টার দিকে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ তেহরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে ২২ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে তেহরানে বাংলাদেশ দুতাবাস থেকে প্রথম বাসটি আজারবাইজান সীমান্তের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

কিছু সময় পর পর মোট ৯টি বাসে করে ১৮৬ জন বাংলাদেশি রওয়ানা হন। আনুমানিক রাত ৯টা নাগাদ প্রথম বাসটি সীমান্তে পৌঁছে যায়। তারপর অন্য ৮টি বাসও সেখানে পৌঁছায়। সীমান্তে রাত কাটানের পর ১৯ মার্চ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ইমিগ্রেশনের কাজ শুরু হলে নানা কারণে তা শেষ করতে পুরো দিন এবং রাত লেগে যায়। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৬টায় নাগাদ আজারবাইজান সীমান্ত থেকে রাজধানী বাকুর উদ্দেশে তারা যাত্রা করেন বলে জানা যায়।
তেহেরান থেকে যাত্রার পর প্রায় ৫০ ঘণ্টার বেশি সময় তাদের কেটে যায় আজারবাইজান সীমান্তে। তবে এসব বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে পৌঁছে দেবার জন্য। সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও চেষ্টার ত্রুটি নেই বলে জানান রাবেয়া সুলতানা।
বিলম্ব হলেও আশা করা হচ্ছে, ইরানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘ পথের কঠিন সময় পার করলেও পবিত্র ঈদুল ফিতর প্রিয়জনদের সঙ্গে দেশের মাটিতেই পালন করতে পারবেন।
ইরানের পরিস্থিতি : এদিকে ইরানিদের জন্য এবার একই সঙ্গে যুদ্ধ, প্রতিশোধ, নওরোজ এবং ঈদ। পবিত্র রমজান মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসী যুদ্ধের আজ ২০তম দিন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ফার্সি নতুন বছর নওরোজ বা বসন্তের প্রথম প্রহর উদযাপিত হয়েছে। আর আজ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। ইরান গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলে ও আমেরিকার ঘাঁটিগুলোতে। আজ ট্রু-প্রমিজ-৪-এর ৬৬তম তরঙ্গে তেলআবিবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে কঠোর হামলা চালানো হয়েছে। অপরপক্ষে তেহরানে ইসরায়েল ও আমেরিকার তেমন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

এ ছাড়া সিরাজ, গোরগন, হামেদান, মাশহাদসহ বিভিন্ন শহরে গতকালও যুদ্ধে শহীদদের জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠান হয়েছে। শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ মিছিল করেছে। শহীদদের কফিনবাহী রাষ্ট্রীয় গাড়ি রাস্তার মাঝ দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়েছে। দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ প্রতিশোধের স্লোগান দিয়েছে। ‘মার্ক বার আমেরিকা, মার্ক বার ইসরায়েল’ ধ্বনিতে কেঁপে কেঁপে উঠেছে ইরানের রাজপথ।

জুমার নামাজের খুতবায় ইসরায়েল-আমেরিকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। প্রতিশোধ নেওয়ার কঠোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী

আজ রাত ২টার দিকে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন ১৮৬ তেহরান প্রবাসী

আপডেট সময় ১২:৫৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

তেহরান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া বাংলদেশিরা এখনো পথে। কথা ছিল শুক্রবার বিকেল ৫টায় ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবে। কিন্তু আজারবাইজানের সীমান্তে ইমিগ্রেশনসহ নানা জটিলতার কারণে তারা সন্ধ্যার সময় বাকুর পথে ছিল।

কথা ছিল শুক্রবার বিকেল ৫টা নাগাদ তারা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।

কিন্তু নানা জটিলতার কারণে বাকুতে প্রত্যাশিত সময়ে পৌঁছাতে পারেননি। তেহেরানের সময় দুপুর দেড়টা নাগাদ যোগাযোগ করা হলে তারা কখন বাকুতে পৌঁছাবেন এবং ফ্লাইটটি কখন আকাশে উড়বে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি বাংলাদেশিদের সঙ্গে থাকা তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাবেয়া সুলতানা। তবে তখন তিনি জানান, সবাই ভালো আছেন এবং পথে রয়েছেন। কিছু জটিলতার কারণে বিলম্ব হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশি দলটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
সর্বশেষ জানতে পারলাম, আজারবাইজান সময় রাত ৮টার দিকে (ঢাকার সময় রাত সাড়ে ১০টায়) বাংলাদেশিরা বাকুতে পৌঁছে গেছেন। সেখান থেকে আকাশ পথে আজ রাত ২টার দিকে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ তেহরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে ২২ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে তেহরানে বাংলাদেশ দুতাবাস থেকে প্রথম বাসটি আজারবাইজান সীমান্তের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

কিছু সময় পর পর মোট ৯টি বাসে করে ১৮৬ জন বাংলাদেশি রওয়ানা হন। আনুমানিক রাত ৯টা নাগাদ প্রথম বাসটি সীমান্তে পৌঁছে যায়। তারপর অন্য ৮টি বাসও সেখানে পৌঁছায়। সীমান্তে রাত কাটানের পর ১৯ মার্চ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ইমিগ্রেশনের কাজ শুরু হলে নানা কারণে তা শেষ করতে পুরো দিন এবং রাত লেগে যায়। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৬টায় নাগাদ আজারবাইজান সীমান্ত থেকে রাজধানী বাকুর উদ্দেশে তারা যাত্রা করেন বলে জানা যায়।
তেহেরান থেকে যাত্রার পর প্রায় ৫০ ঘণ্টার বেশি সময় তাদের কেটে যায় আজারবাইজান সীমান্তে। তবে এসব বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে পৌঁছে দেবার জন্য। সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও চেষ্টার ত্রুটি নেই বলে জানান রাবেয়া সুলতানা।
বিলম্ব হলেও আশা করা হচ্ছে, ইরানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘ পথের কঠিন সময় পার করলেও পবিত্র ঈদুল ফিতর প্রিয়জনদের সঙ্গে দেশের মাটিতেই পালন করতে পারবেন।
ইরানের পরিস্থিতি : এদিকে ইরানিদের জন্য এবার একই সঙ্গে যুদ্ধ, প্রতিশোধ, নওরোজ এবং ঈদ। পবিত্র রমজান মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসী যুদ্ধের আজ ২০তম দিন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ফার্সি নতুন বছর নওরোজ বা বসন্তের প্রথম প্রহর উদযাপিত হয়েছে। আর আজ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। ইরান গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলে ও আমেরিকার ঘাঁটিগুলোতে। আজ ট্রু-প্রমিজ-৪-এর ৬৬তম তরঙ্গে তেলআবিবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে কঠোর হামলা চালানো হয়েছে। অপরপক্ষে তেহরানে ইসরায়েল ও আমেরিকার তেমন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

এ ছাড়া সিরাজ, গোরগন, হামেদান, মাশহাদসহ বিভিন্ন শহরে গতকালও যুদ্ধে শহীদদের জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠান হয়েছে। শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ মিছিল করেছে। শহীদদের কফিনবাহী রাষ্ট্রীয় গাড়ি রাস্তার মাঝ দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়েছে। দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ প্রতিশোধের স্লোগান দিয়েছে। ‘মার্ক বার আমেরিকা, মার্ক বার ইসরায়েল’ ধ্বনিতে কেঁপে কেঁপে উঠেছে ইরানের রাজপথ।

জুমার নামাজের খুতবায় ইসরায়েল-আমেরিকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। প্রতিশোধ নেওয়ার কঠোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481