ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘ইসলামপন্থিদের রাজনৈতিক বিজয়ে শক্তিশালী মিডিয়া কাঠামো গড়ে তুলতে হবে’ Logo আজ মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo যুক্তরাজ্যে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ! Logo মেসির সতীর্থ হচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার Logo শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি জার্মানি-আইভরি কোস্ট Logo তথ্য ফাঁস করলে ইন্সপেক্টরকে গাছে ঝুলাইয়া পে/টাব: পুলিশ কমিশনারের ভিডিও ভাইরাল Logo হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ নেতানিয়াহুর Logo পানিসম্পদমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে ‘কটূক্তি’, ২০ দিন ধরে কারাগারে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা Logo মহাশূন্যে বিশ্বকাপের বল পাঠিয়ে নতুন বার্তা দিল নাসা Logo জার্মানি-আইভরি কোস্টের গ্রুপসেরার লড়াইয়ে জিতবে কে, যা বলছে পরিসংখ্যান

জ্বালানি সাশ্রয়ে বাড়বে লোডশেডিং

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:০৬:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) এর সার উৎপাদন। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় গতকাল সারা দেশে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হয়।

এই অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে বিডিং এ সাড়া পাওয়া গিয়েছে। আশা করা হচ্ছে এই এলএনজি পেলে এবং সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে পূর্বের মতো আবার গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস আমদানি ঝুঁকিতে পড়েছে। এই অবস্থায় সরবরাহ সংকটের কথা মাথায় রেখে পেট্রোবাংলা বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে রেশনিং শুরু করেছে। গত বুধবার থেকে এই সরবরাহ রেশনিং শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক বলেন, বিদ্যুৎ ও সারে রেশনিং করার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমিয়েছি। তবে এরই মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের জন্য পেট্রোবাংলা ৪ মার্চ ডাকা বিডিংয়ে দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের ব্যাপারে সাড়া পেয়েছে। এটি হয়ে গেলে রেশনিং করার আর প্রয়োজন হবে না। এই দুটি কার্গো অস্ট্রেলিয়া ও ইউএসএ থেকে কেনা হবে। আমাদের আগামী ১৫ ও ১৮ মার্চের এলএনজি নিয়ে সমস্যা ছিল। এই দুই কার্গো পাওয়া গেলে সমস্যা আর থাকবে না।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতে আগে ৮৭০ মিলয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো রেশনিংয়ের কারণে, এখন ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ছাড়া বাকি সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ এখন বন্ধ। গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারলে এগুলো আবার চালু করা হবে। সারে এখন ১৩০ মিলিয়ন ঘনফুট কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সার উৎপাদনে দৈনিক ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বুধবার সরকারি নির্দেশনার পর সিইউএফএল ও কাফকোর সার উৎপাদন স্থগিত করা হয়। সিইউএফএল চালু থাকলে দৈনিক ১১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়।

তিনি আরও বলেন, পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর কারখানাটিতে দিনে ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। আর কাফকোর দিনে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত আছে।

তার মতে, শাহজালালে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও যে কোনো মুহূর্তে এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে মার্চে ৯টি, এপ্রিল ১১টি এবং মে মাসে ১১ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যে ১৯ কার্গো হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসার কথা। এক কার্গোতে প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকে। যা বাংলাদেশের একদিনের চাহিদার থেকেও কম। দেশি উৎস থেকে পাওয়া কমবেশি ১৭১৪ মিলিয়নের সঙ্গে ৮০০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয় বলে জানান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইসলামপন্থিদের রাজনৈতিক বিজয়ে শক্তিশালী মিডিয়া কাঠামো গড়ে তুলতে হবে’

জ্বালানি সাশ্রয়ে বাড়বে লোডশেডিং

আপডেট সময় ১০:০৬:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) এর সার উৎপাদন। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় গতকাল সারা দেশে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হয়।

এই অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে বিডিং এ সাড়া পাওয়া গিয়েছে। আশা করা হচ্ছে এই এলএনজি পেলে এবং সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে পূর্বের মতো আবার গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস আমদানি ঝুঁকিতে পড়েছে। এই অবস্থায় সরবরাহ সংকটের কথা মাথায় রেখে পেট্রোবাংলা বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে রেশনিং শুরু করেছে। গত বুধবার থেকে এই সরবরাহ রেশনিং শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক বলেন, বিদ্যুৎ ও সারে রেশনিং করার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমিয়েছি। তবে এরই মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের জন্য পেট্রোবাংলা ৪ মার্চ ডাকা বিডিংয়ে দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের ব্যাপারে সাড়া পেয়েছে। এটি হয়ে গেলে রেশনিং করার আর প্রয়োজন হবে না। এই দুটি কার্গো অস্ট্রেলিয়া ও ইউএসএ থেকে কেনা হবে। আমাদের আগামী ১৫ ও ১৮ মার্চের এলএনজি নিয়ে সমস্যা ছিল। এই দুই কার্গো পাওয়া গেলে সমস্যা আর থাকবে না।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতে আগে ৮৭০ মিলয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো রেশনিংয়ের কারণে, এখন ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ছাড়া বাকি সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ এখন বন্ধ। গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারলে এগুলো আবার চালু করা হবে। সারে এখন ১৩০ মিলিয়ন ঘনফুট কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সার উৎপাদনে দৈনিক ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বুধবার সরকারি নির্দেশনার পর সিইউএফএল ও কাফকোর সার উৎপাদন স্থগিত করা হয়। সিইউএফএল চালু থাকলে দৈনিক ১১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়।

তিনি আরও বলেন, পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর কারখানাটিতে দিনে ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। আর কাফকোর দিনে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত আছে।

তার মতে, শাহজালালে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও যে কোনো মুহূর্তে এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে মার্চে ৯টি, এপ্রিল ১১টি এবং মে মাসে ১১ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যে ১৯ কার্গো হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসার কথা। এক কার্গোতে প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকে। যা বাংলাদেশের একদিনের চাহিদার থেকেও কম। দেশি উৎস থেকে পাওয়া কমবেশি ১৭১৪ মিলিয়নের সঙ্গে ৮০০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয় বলে জানান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম।