নিউজ ডেস্ক:
শেখ হাসিনা যেভাবে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনকে ছাড় দিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সেভাবে ছাড় দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের শ্বেতপত্র প্রকাশে সরকারের কাছে দাবিও জানান।
আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ দাবি তোলেন আনিস আলমগীর।
ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টিকা কেনায় দুর্নীতির অভিযোগে দুদকে করা আবেদনের প্রতিবেদন শেয়ার দিয়ে ফেসবুক পোস্টে আনিস আলমগীর বলেন, এভাবে বিচ্ছিন্ন দাবি তুললে হবে না।
ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনের শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে সরকারকে। ফখরুদ্দিন মইনুদ্দিনকে ছাড় দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার সরকার, একই স্টাইলে ইউনূসকে ছাড় দেওয়া যাবে না।
এদিকে হাম ও অন্যান্য রোগের টিকা কেনায় সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ ও ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে সাগর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন করেন।
আবেদনে হাম আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
এতে বলা হয়, হামে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমের দায় রয়েছে বলে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মতামত ব্যক্ত করেছেন। এছাড়াও বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হামের টিকা এবং সিরিঞ্জের অভাবকে পূর্ববর্তী সরকারের সৃষ্ট সমস্যা বলে মন্তব্য করছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকার টিকা কেনার পদ্ধতিতে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই পরিবর্তন আনে।
স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট (প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা) বাজেট থাকা সত্ত্বেও তারা সময়মতো হামসহ অন্যান্য রোগের টিকা কেনা এবং শিশুদের টিকাদানে ব্যর্থ হয়। ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়ে গেছে, যা একটি মহামারি আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায় যে, ইতোমধ্যে শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজার হাজার শিশু অপ্রতুল প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। হাম একটি সংক্রামক ব্যাধি যা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
আবেদনে আরো বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনার নতুন পদ্ধতি গ্রহণ এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা ও সিরিঞ্জ না কেনার বিষয়টি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ না করা এবং স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট বাজেট থাকা সত্ত্বেও অর্থের সঠিক ব্যবহার না করা দুর্নীতি ও অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।
বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য খাতে টিকা ও সিরিঞ্জ কেনার সরাসরি অনিয়মের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থ খাত রক্ষা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় জনস্বার্থে এ জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক তদন্ত করা আবশ্যক। হাম ও অন্যান্য রোগের টিকা ক্রয় এবং টিকাদানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আবেদনে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদ : 




























