ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

হাজারো হাফেজের মিলনমেলা, কুরআনের আলোয় আলোকিত এক শহর

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

মিশরের গিজা প্রদেশের শান্ত শহর আল-সাফ। গত সপ্তাহান্তে শহরটি যেন রূপ নিয়েছিল এক আধ্যাত্মিক উৎসবে, যেখানে পবিত্রতার ছোঁয়া মিশে গিয়েছিল আনন্দ, গর্ব আর কৃতজ্ঞতার অশ্রুর সঙ্গে।

কুরআনের তিলাওয়াতের সুরে ভেসে উঠেছিল চারপাশের বাতাস, আর সেই সুরে যেন দুলছিল পুরো শহর এক উৎসব, এক ভালোবাসা, এক আলোকিত প্রজন্মের কণ্ঠে।

আল-গাম্মাজা আল-কুবরা গ্রামের ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই মহিমান্বিত আয়োজনে সম্মানিত করা হয় এক হাজার ত্রিশ জন হাফেজে কুরআনকে। কুরআনের আলোয় বেড়ে ওঠা এই নবীন প্রজন্মকে ঘিরে উৎসবটি পরিণত হয়েছিল গিজা অঞ্চলের ইতিহাসে এক অনন্য স্মৃতিচিহ্নে। অনুষ্ঠানে যোগ দেন হাজারো মানুষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আলেম, স্থানীয় সমাজনেতা, এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও।

মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল তিলাওয়াতের সুমধুর ধ্বনি, আর দর্শকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠছিল গভীর প্রশান্তি। কেউ দাঁড়িয়ে চোখের পানি মুছছিলেন, কেউবা গর্বভরে তাকিয়ে ছিলেন সেই ছোট ছোট হাফেজদের দিকে যারা আল্লাহর বাণী নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছে।

অনেক মা তাদের সন্তানদের বুকভরা ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরেছিলেন, মাথায় পরেছিলেন বিশেষ মুকুট যার লেখা ছিল “প্রথম সহস্র হাফেজ প্রজন্মের প্রতীক”। দৃশ্যটি যেন এক জীবন্ত কবিতা, যেখানে ভালোবাসা, ঈমান ও আত্মত্যাগ একসাথে মিলেমিশে গেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট আলেম ও শিক্ষাবিদেরা। তারা বলেন, কুরআন মুখস্থ করা শুধু একটি ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির পথ, মানবতার দিশা। এই প্রজন্ম কুরআনকে শুধু উচ্চারণ করছে না, বরং জীবনের প্রতিটি রক্তধারায় ধারণ করছে।

স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, আল-সাফের এই ঐতিহাসিক আয়োজন সমাজে নৈতিক জাগরণ সৃষ্টি করেছে, এখানকার পরিবারগুলো আজ গর্বিত, কারণ তাদের সন্তানরা কুরআনের হেফাজতকারীতে পরিণত হয়েছে।

গিজার মানুষদের চোখে-মুখে ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি যেন শত বছরের স্বপ্নের পূর্ণতা। যখন সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ছিল, তখনো মঞ্চের আলো নিভছিল না। শিশুরা কণ্ঠে তুলেছিল কুরআনের আয়াত, আর আকাশ জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল আল্লাহর পবিত্র নাম।

সেই রাতটি আর পাঁচটা রাতের মতো ছিল না। এটি ছিল এমন এক রাত, যখন একটি শহর কুরআনের আলোয় সত্যিই আলোকিত হয়ে উঠেছিল। আল-সাফের মানুষ যেন সেদিন বলেছিল যে সমাজ কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করে, তার অন্ধকার আর থাকে না

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

হাজারো হাফেজের মিলনমেলা, কুরআনের আলোয় আলোকিত এক শহর

আপডেট সময় ১১:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

মিশরের গিজা প্রদেশের শান্ত শহর আল-সাফ। গত সপ্তাহান্তে শহরটি যেন রূপ নিয়েছিল এক আধ্যাত্মিক উৎসবে, যেখানে পবিত্রতার ছোঁয়া মিশে গিয়েছিল আনন্দ, গর্ব আর কৃতজ্ঞতার অশ্রুর সঙ্গে।

কুরআনের তিলাওয়াতের সুরে ভেসে উঠেছিল চারপাশের বাতাস, আর সেই সুরে যেন দুলছিল পুরো শহর এক উৎসব, এক ভালোবাসা, এক আলোকিত প্রজন্মের কণ্ঠে।

আল-গাম্মাজা আল-কুবরা গ্রামের ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই মহিমান্বিত আয়োজনে সম্মানিত করা হয় এক হাজার ত্রিশ জন হাফেজে কুরআনকে। কুরআনের আলোয় বেড়ে ওঠা এই নবীন প্রজন্মকে ঘিরে উৎসবটি পরিণত হয়েছিল গিজা অঞ্চলের ইতিহাসে এক অনন্য স্মৃতিচিহ্নে। অনুষ্ঠানে যোগ দেন হাজারো মানুষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আলেম, স্থানীয় সমাজনেতা, এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও।

মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল তিলাওয়াতের সুমধুর ধ্বনি, আর দর্শকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠছিল গভীর প্রশান্তি। কেউ দাঁড়িয়ে চোখের পানি মুছছিলেন, কেউবা গর্বভরে তাকিয়ে ছিলেন সেই ছোট ছোট হাফেজদের দিকে যারা আল্লাহর বাণী নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছে।

অনেক মা তাদের সন্তানদের বুকভরা ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরেছিলেন, মাথায় পরেছিলেন বিশেষ মুকুট যার লেখা ছিল “প্রথম সহস্র হাফেজ প্রজন্মের প্রতীক”। দৃশ্যটি যেন এক জীবন্ত কবিতা, যেখানে ভালোবাসা, ঈমান ও আত্মত্যাগ একসাথে মিলেমিশে গেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট আলেম ও শিক্ষাবিদেরা। তারা বলেন, কুরআন মুখস্থ করা শুধু একটি ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির পথ, মানবতার দিশা। এই প্রজন্ম কুরআনকে শুধু উচ্চারণ করছে না, বরং জীবনের প্রতিটি রক্তধারায় ধারণ করছে।

স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, আল-সাফের এই ঐতিহাসিক আয়োজন সমাজে নৈতিক জাগরণ সৃষ্টি করেছে, এখানকার পরিবারগুলো আজ গর্বিত, কারণ তাদের সন্তানরা কুরআনের হেফাজতকারীতে পরিণত হয়েছে।

গিজার মানুষদের চোখে-মুখে ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি যেন শত বছরের স্বপ্নের পূর্ণতা। যখন সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ছিল, তখনো মঞ্চের আলো নিভছিল না। শিশুরা কণ্ঠে তুলেছিল কুরআনের আয়াত, আর আকাশ জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল আল্লাহর পবিত্র নাম।

সেই রাতটি আর পাঁচটা রাতের মতো ছিল না। এটি ছিল এমন এক রাত, যখন একটি শহর কুরআনের আলোয় সত্যিই আলোকিত হয়ে উঠেছিল। আল-সাফের মানুষ যেন সেদিন বলেছিল যে সমাজ কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করে, তার অন্ধকার আর থাকে না