ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

সোহরাওয়ার্দীতে ভুল ইঞ্জেকশনে শিশুর মৃত্যু, অভিযুক্ত নার্স পলাতক

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি এবং নার্সের অপেশাদারির কারণে প্রাণ গেল ৭ বছরের হাবিবার। মঙ্গলবার হাসপাতালের ৪নং সার্জারি ওয়ার্ডে বিদ্যুস্পৃষ্টে সামান্য বাঁকা হওয়া আঙুল সোজা করতে এসে তাকে ফিরতে হয়েছে লাশ হয়ে। এরপর থেকেই অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স ইয়াসিন পলাতক রয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের স্বজনদের দাবি, অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) যে ইঞ্জেকশন দেওয়ার কথা ছিল, সেটি নিয়মবহির্ভূতভাবে সাধারণ ওয়ার্ডেই পুশ করেন ইয়াছিন আলী। ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরমুহূর্তে হাবিবা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুতে রাজবাড়ীর বাসিন্দা কামরুজ্জামান ও তার স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শোকবিহ্বল কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার সুস্থসবল মেয়েটার আঙুলের সামান্য সমস্যার চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে এলাম। কিন্তু কলিজার টুকরা মেয়ে সেই হাসপাতালের বেডেই লাশ হয়ে পড়ে আছে! তিনি বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ওর (মেয়ে হাবিবা) একটা আঙুল একটু বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। সেটা সোজা করতেই ১৭ জানুয়ারি এখানে (সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল) ভর্তি করেছিলাম। আজ সকাল ৯টায় অপারেশন (অস্ত্রোপচার) হওয়ার কথা ছিল। সাধারণত ওটিতে নেওয়ার পর অস্ত্রোপচারের রোগীকে অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (অবেদনবিদ) ইঞ্জেকশন দিয়ে সার্জারির জায়গা অবশ করে থাকেন। কিন্তু মেয়েকে ওটিতে নেওয়ার আগেই ওয়ার্ডে থাকা অবস্থায় একজন নার্স ইঞ্জেকশন দেয়। এর পরপরই আমার মেয়েটা চোখের সামনে শেষ হয়ে গেল!’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাবিবা অধ্যাপক ডা. নুরুল্লাহর অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল। অস্ত্রোপচারের আগে সিনিয়র স্টাফ নার্স ইয়াসিন প্রোটোকল ভেঙে ওয়ার্ডের মধ্যেই ইঞ্জেকশন পুশ করেন। ঠিক কী ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো অন্ধকারে।

ঘটনার ভয়াবহতা স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শিহাব যুগান্তরকে বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই একটি অপরাধ (ক্রাইম)। নার্সের ভুল ইঞ্জেকশনের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারের ইঞ্জেকশন কেন ওয়ার্ডে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত নার্সকে পাওয়া গেলেই জানা যাবে তিনি আসলে কোন বিষাক্ত উপাদান পুশ করেছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিলে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। তিনি জানান, বিকালে স্বজনরা শিশুটির লাশ বাড়ি নিয়ে গেছেন।

এদিকে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, শিশুর বাবা থানায় এসেছিলেন এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযুক্ত নার্সকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

সোহরাওয়ার্দীতে ভুল ইঞ্জেকশনে শিশুর মৃত্যু, অভিযুক্ত নার্স পলাতক

আপডেট সময় ০২:০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি এবং নার্সের অপেশাদারির কারণে প্রাণ গেল ৭ বছরের হাবিবার। মঙ্গলবার হাসপাতালের ৪নং সার্জারি ওয়ার্ডে বিদ্যুস্পৃষ্টে সামান্য বাঁকা হওয়া আঙুল সোজা করতে এসে তাকে ফিরতে হয়েছে লাশ হয়ে। এরপর থেকেই অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স ইয়াসিন পলাতক রয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের স্বজনদের দাবি, অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) যে ইঞ্জেকশন দেওয়ার কথা ছিল, সেটি নিয়মবহির্ভূতভাবে সাধারণ ওয়ার্ডেই পুশ করেন ইয়াছিন আলী। ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরমুহূর্তে হাবিবা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুতে রাজবাড়ীর বাসিন্দা কামরুজ্জামান ও তার স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শোকবিহ্বল কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার সুস্থসবল মেয়েটার আঙুলের সামান্য সমস্যার চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে এলাম। কিন্তু কলিজার টুকরা মেয়ে সেই হাসপাতালের বেডেই লাশ হয়ে পড়ে আছে! তিনি বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ওর (মেয়ে হাবিবা) একটা আঙুল একটু বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। সেটা সোজা করতেই ১৭ জানুয়ারি এখানে (সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল) ভর্তি করেছিলাম। আজ সকাল ৯টায় অপারেশন (অস্ত্রোপচার) হওয়ার কথা ছিল। সাধারণত ওটিতে নেওয়ার পর অস্ত্রোপচারের রোগীকে অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (অবেদনবিদ) ইঞ্জেকশন দিয়ে সার্জারির জায়গা অবশ করে থাকেন। কিন্তু মেয়েকে ওটিতে নেওয়ার আগেই ওয়ার্ডে থাকা অবস্থায় একজন নার্স ইঞ্জেকশন দেয়। এর পরপরই আমার মেয়েটা চোখের সামনে শেষ হয়ে গেল!’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাবিবা অধ্যাপক ডা. নুরুল্লাহর অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল। অস্ত্রোপচারের আগে সিনিয়র স্টাফ নার্স ইয়াসিন প্রোটোকল ভেঙে ওয়ার্ডের মধ্যেই ইঞ্জেকশন পুশ করেন। ঠিক কী ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো অন্ধকারে।

ঘটনার ভয়াবহতা স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শিহাব যুগান্তরকে বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই একটি অপরাধ (ক্রাইম)। নার্সের ভুল ইঞ্জেকশনের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারের ইঞ্জেকশন কেন ওয়ার্ডে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত নার্সকে পাওয়া গেলেই জানা যাবে তিনি আসলে কোন বিষাক্ত উপাদান পুশ করেছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিলে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। তিনি জানান, বিকালে স্বজনরা শিশুটির লাশ বাড়ি নিয়ে গেছেন।

এদিকে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, শিশুর বাবা থানায় এসেছিলেন এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযুক্ত নার্সকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।