ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo ইরান চুক্তিতে বিশ্ববাজারে উচ্ছ্বাস: ট্রাম্প Logo ইরান চুক্তির নথি দেখতে চেয়েছিল ইসরায়েল, প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র Logo সীমান্তে হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিএসএফকে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে Logo বিভ্রান্তি ছড়াতেই ফ্যামিলি কার্ডের টাকা নিয়ে প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী Logo হ্যাটট্রিকের পর মেসির স্ত্রী বললেন, ‘তুমি অবিশ্বাস্য’ Logo চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo এস আলমের বৈশ্বিক সাম্রাজ্যে তদন্ত জোরদার, নজরে এবার মালয়েশিয়ার দুই বিলাসবহুল হোটেল Logo প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী Logo আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই রেফারি

সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের মধ্যে ২৪ হাজার টন চাল বিতরণ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে চলতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত দেশের সমুদ্রসীমায় ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সরকার।

এ সময়ে উপকূলীয় জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে মোট ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৪টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল।

এ সময় সব ধরনের বাণিজ্যিক ট্রলারের সমুদ্রে যাত্রা বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি বরফকলগুলোতে নিয়ন্ত্রিতভাবে বরফ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিভাগভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়।

 

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৬০টি টাস্কফোর্স কমিটির সভা এবং ২৬০টি সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়া ১২ হাজার ৬৭৮টি ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন এবং ৬৮ হাজার ৭৫টি লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলেদের সহায়তায় ১৪ জেলার ৬৯টি উপজেলায় প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এ কর্মসূচির পরিবহণ ব্যয় বাবদ ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৪০৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে ৩ হাজার ৫০২টি অভিযান এবং ৫৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে ২ হাজার ৪৩৮টি অবতরণ কেন্দ্র, ৯ হাজার ১৫১টি মাছঘাট, ১৭ হাজার ৫৮৫টি আড়ৎ এবং ১৬ হাজার ৪৯৪টি বাজার পরিদর্শন করা হয়।

অভিযানে ১ হাজার ১৯০ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন মাছ এবং ৫৪৩ দশমিক ৪৭ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। এছাড়া ৪৮টি মামলা দায়ের, ৪৫ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় এবং ২৬ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দ করা মালামাল নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে কর্মসূচিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মজুদ বৃদ্ধির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের মধ্যে ২৪ হাজার টন চাল বিতরণ

আপডেট সময় ১২:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে চলতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত দেশের সমুদ্রসীমায় ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সরকার।

এ সময়ে উপকূলীয় জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে মোট ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৪টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল।

এ সময় সব ধরনের বাণিজ্যিক ট্রলারের সমুদ্রে যাত্রা বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি বরফকলগুলোতে নিয়ন্ত্রিতভাবে বরফ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিভাগভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়।

 

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৬০টি টাস্কফোর্স কমিটির সভা এবং ২৬০টি সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়া ১২ হাজার ৬৭৮টি ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন এবং ৬৮ হাজার ৭৫টি লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলেদের সহায়তায় ১৪ জেলার ৬৯টি উপজেলায় প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এ কর্মসূচির পরিবহণ ব্যয় বাবদ ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৪০৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে ৩ হাজার ৫০২টি অভিযান এবং ৫৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে ২ হাজার ৪৩৮টি অবতরণ কেন্দ্র, ৯ হাজার ১৫১টি মাছঘাট, ১৭ হাজার ৫৮৫টি আড়ৎ এবং ১৬ হাজার ৪৯৪টি বাজার পরিদর্শন করা হয়।

অভিযানে ১ হাজার ১৯০ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন মাছ এবং ৫৪৩ দশমিক ৪৭ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। এছাড়া ৪৮টি মামলা দায়ের, ৪৫ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় এবং ২৬ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দ করা মালামাল নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে কর্মসূচিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মজুদ বৃদ্ধির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।