ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ‘মাইন বিস্ফোরণে’ নিহত কিশোরগঞ্জের যুবক

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:২২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই যুবকের নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন।

শুক্রবার (২২ মে) বিকালে রাশিয়া থেকে তার এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর জানান বলে নিশ্চিত করেছেন করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির।

নিহত জাহাঙ্গীর উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল-বাগপাড়া গ্রামের প্রয়াত হাবিবুর রহমানের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যেই ছিলেন জাহাঙ্গীর।

জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জাভেদ বলেন, রাশিয়ায় অবস্থানরত তাদের এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই বন্ধু বর্তমানে একটি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত এবং তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

নিহত অন্য দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।

ভিডিও বার্তায় ওই বন্ধু দাবি করেন, একটি এজেন্সির মাধ্যমে চাকরির প্রলোভনে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়। পরে বিভিন্নভাবে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং যুদ্ধে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ওই এজেন্সিকে দায়ী করা হচ্ছে।

এদিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মা জাকিয়া বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তিনি ছেলের জন্য আহাজারি করে বলেন, “আমি আর কিছু চাই না, আমার ছেলেটাকে ফেরত চাই।”

স্ত্রী মাশুকা হোসাইন বলেন, সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় তিনি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাকে যুদ্ধে পাঠানো হয়। এতে পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

জাহাঙ্গীরের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম জানান, পরে তারা জানতে পারেন তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফেরার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি আর ফিরতে পারেননি।

পরিবার জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সর্বশেষ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের কথা হয়। তখন তিনি নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন বলে জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর এসএসসি পাস করে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতেন। পরে আর্থিক সংকটে ভালো চাকরির আশায় চার মাস আগে শ্বশুরবাড়ির সহায়তায় রাশিয়ায় যান।

এর আগে ২ মে একই উপজেলার আরেক বাংলাদেশি রিয়াদ রশিদ রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ‘মাইন বিস্ফোরণে’ নিহত কিশোরগঞ্জের যুবক

আপডেট সময় ০৫:২২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই যুবকের নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন।

শুক্রবার (২২ মে) বিকালে রাশিয়া থেকে তার এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর জানান বলে নিশ্চিত করেছেন করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির।

নিহত জাহাঙ্গীর উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল-বাগপাড়া গ্রামের প্রয়াত হাবিবুর রহমানের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যেই ছিলেন জাহাঙ্গীর।

জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জাভেদ বলেন, রাশিয়ায় অবস্থানরত তাদের এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই বন্ধু বর্তমানে একটি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত এবং তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

নিহত অন্য দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।

ভিডিও বার্তায় ওই বন্ধু দাবি করেন, একটি এজেন্সির মাধ্যমে চাকরির প্রলোভনে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়। পরে বিভিন্নভাবে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং যুদ্ধে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ওই এজেন্সিকে দায়ী করা হচ্ছে।

এদিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মা জাকিয়া বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তিনি ছেলের জন্য আহাজারি করে বলেন, “আমি আর কিছু চাই না, আমার ছেলেটাকে ফেরত চাই।”

স্ত্রী মাশুকা হোসাইন বলেন, সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় তিনি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাকে যুদ্ধে পাঠানো হয়। এতে পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

জাহাঙ্গীরের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম জানান, পরে তারা জানতে পারেন তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফেরার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি আর ফিরতে পারেননি।

পরিবার জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সর্বশেষ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের কথা হয়। তখন তিনি নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন বলে জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর এসএসসি পাস করে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতেন। পরে আর্থিক সংকটে ভালো চাকরির আশায় চার মাস আগে শ্বশুরবাড়ির সহায়তায় রাশিয়ায় যান।

এর আগে ২ মে একই উপজেলার আরেক বাংলাদেশি রিয়াদ রশিদ রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন।