ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ভুয়া মানসিক হাসপাতাল ও বীমা জালিয়াতি: বার্ধক্য জনসংকটে চীনের লড়াই

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

চীনে ভুয়া মানসিক হাসপাতালের বিস্তার এবং সরকারি স্বাস্থ্য বিমা ব্যবস্থাকে ঘিরে সংঘটিত প্রতারণার ঘটনা দেশটির ক্রমবর্ধমান বার্ধক্য সংকটের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।

আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে বেসরকারি কিছু মনোরোগ হাসপাতাল ভুয়া অজুহাতে রোগী ভর্তি করে সরকারের বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা তহবিল আত্মসাৎ করছে।

চীনের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম বেইজিং নিউজের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, হুবেই প্রদেশের শিয়াংইয়াং ও ইচাং শহরে ডজনেরও বেশি মনোরোগ হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে অতি সামান্য ফি বা কখনো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীদের ভর্তি করানো হচ্ছে। সাধারণত চীনে চিকিৎসা ব্যয় সরকারি স্বাস্থ্য বিমার আওতায় থাকলেও রোগীদের নির্দিষ্ট অংশের খরচ নিজে বহন করার কথা। কিন্তু এই ভুয়া হাসপাতালগুলো সেই ব্যবস্থাকে কৌশলে অপব্যবহার করছে।

এক অনুসন্ধানী সাংবাদিক ছদ্মবেশে তথ্য সংগ্রহ করে দেখেন, প্রতিদিন একজন রোগীর চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১৪০ ইউয়ান খরচ দেখানো হচ্ছে এবং এর বড় অংশই সরকারি বিমা তহবিল থেকে ফেরত নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কম হলেও, কিছু প্রতিষ্ঠানে শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে।

এই রোগীদের বড় অংশই মাদকাসক্ত ও প্রবীণ মানুষ—যাদের বিনামূল্যে খাবার ও আশ্রয়ের লোভ দেখিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভয়াবহ।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এসব হাসপাতালে অমানবিক পরিবেশ বিরাজ করছে, শারীরিক ও মৌখিক নির্যাতন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। রোগীদের দিয়ে জোরপূর্বক হাসপাতাল পরিষ্কার করানো, অন্য রোগীদের গোসল করানোসহ নানা ধরনের শ্রমমূলক কাজ করানো হতো।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—একবার ভর্তি হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের হাসপাতাল ছাড়তে দেওয়া হতো না। কোনো কোনো রোগীকে বছরের পর বছর সেখানে আটকে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনা চীনের বর্তমান প্রবীণ পরিচর্যা ব্যবস্থার মৌলিক সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। দেশটির নীতিগত কাঠামো এখনো ধরে নেয় যে, অধিকাংশ প্রবীণ মানুষ পরিবারেই পরিচর্যা পাবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের প্রবীণরা এই প্রতারণার সবচেয়ে বড় শিকার। সেখানে পেনশনের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য এবং সরকারি সেবাও দুর্বল। উপরন্তু, কাজের সন্ধানে তরুণ প্রজন্ম শহরমুখী হওয়ায় বহু গ্রাম কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে অসংখ্য প্রবীণ মানুষ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, নিঃসঙ্গ এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এই ভুয়া হাসপাতাল ও বিমা কেলেঙ্কারি কেবল একটি আর্থিক প্রতারণা নয়, এটি চীনের দ্রুত বার্ধক্যমুখী সমাজব্যবস্থার গভীর মানবিক সংকটের এক নির্মম দলিল।

দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ানের অনুবাদ

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ভুয়া মানসিক হাসপাতাল ও বীমা জালিয়াতি: বার্ধক্য জনসংকটে চীনের লড়াই

আপডেট সময় ১০:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চীনে ভুয়া মানসিক হাসপাতালের বিস্তার এবং সরকারি স্বাস্থ্য বিমা ব্যবস্থাকে ঘিরে সংঘটিত প্রতারণার ঘটনা দেশটির ক্রমবর্ধমান বার্ধক্য সংকটের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।

আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে বেসরকারি কিছু মনোরোগ হাসপাতাল ভুয়া অজুহাতে রোগী ভর্তি করে সরকারের বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা তহবিল আত্মসাৎ করছে।

চীনের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম বেইজিং নিউজের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, হুবেই প্রদেশের শিয়াংইয়াং ও ইচাং শহরে ডজনেরও বেশি মনোরোগ হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে অতি সামান্য ফি বা কখনো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীদের ভর্তি করানো হচ্ছে। সাধারণত চীনে চিকিৎসা ব্যয় সরকারি স্বাস্থ্য বিমার আওতায় থাকলেও রোগীদের নির্দিষ্ট অংশের খরচ নিজে বহন করার কথা। কিন্তু এই ভুয়া হাসপাতালগুলো সেই ব্যবস্থাকে কৌশলে অপব্যবহার করছে।

এক অনুসন্ধানী সাংবাদিক ছদ্মবেশে তথ্য সংগ্রহ করে দেখেন, প্রতিদিন একজন রোগীর চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১৪০ ইউয়ান খরচ দেখানো হচ্ছে এবং এর বড় অংশই সরকারি বিমা তহবিল থেকে ফেরত নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কম হলেও, কিছু প্রতিষ্ঠানে শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে।

এই রোগীদের বড় অংশই মাদকাসক্ত ও প্রবীণ মানুষ—যাদের বিনামূল্যে খাবার ও আশ্রয়ের লোভ দেখিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভয়াবহ।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এসব হাসপাতালে অমানবিক পরিবেশ বিরাজ করছে, শারীরিক ও মৌখিক নির্যাতন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। রোগীদের দিয়ে জোরপূর্বক হাসপাতাল পরিষ্কার করানো, অন্য রোগীদের গোসল করানোসহ নানা ধরনের শ্রমমূলক কাজ করানো হতো।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—একবার ভর্তি হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের হাসপাতাল ছাড়তে দেওয়া হতো না। কোনো কোনো রোগীকে বছরের পর বছর সেখানে আটকে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনা চীনের বর্তমান প্রবীণ পরিচর্যা ব্যবস্থার মৌলিক সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। দেশটির নীতিগত কাঠামো এখনো ধরে নেয় যে, অধিকাংশ প্রবীণ মানুষ পরিবারেই পরিচর্যা পাবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের প্রবীণরা এই প্রতারণার সবচেয়ে বড় শিকার। সেখানে পেনশনের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য এবং সরকারি সেবাও দুর্বল। উপরন্তু, কাজের সন্ধানে তরুণ প্রজন্ম শহরমুখী হওয়ায় বহু গ্রাম কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে অসংখ্য প্রবীণ মানুষ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, নিঃসঙ্গ এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এই ভুয়া হাসপাতাল ও বিমা কেলেঙ্কারি কেবল একটি আর্থিক প্রতারণা নয়, এটি চীনের দ্রুত বার্ধক্যমুখী সমাজব্যবস্থার গভীর মানবিক সংকটের এক নির্মম দলিল।

দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ানের অনুবাদ