ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিসহ ৪০০ নেতাকর্মীর নামে মামলা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৫১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

বরিশালের বানারীপাড়ায় শ্রমিক দল নেতার বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনিসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।

মামলার এজাহারে বলা হয়, শুক্রবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে গরদ্বার গ্রামে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তার বসতঘরে আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন– উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু ও জিয়াউল হক মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন উর রশিদ স্বপন ও নুরুল হুদা, সদস্য আনিছুর রহমান মিলন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ ফারুক সরদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুল হক মাসুম,সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন মোল্লা, মনির হোসেন ও জাহিদ হোসেন সরদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদার, সাবেক সহসভাপতি মনির বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সুমম রায় সুমন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মহসিন ফকির ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সিকদার।

এ ছাড়া পৌর যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ্,যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান সুমন, সেলিম, জসিম মীর, মাসুম আকন সোহাগ মাল, আতিকুল ইসলাম বাপ্পী, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মাল, বন্দর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সুমন পোদ্দার,বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড, আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ্ ফকির, আওয়ামী লীগ নেতা ও বাইশারীর ইউপি সদস্য শাহাদাত ফকির, বাইশারীর সাবেক ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর বেপারী, সাবেক ইউপি সদস্য রিপন বড়াল, ইউপি সদস্য সাহেব আলী বাইশারীর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কালাম বেপারী,আওয়ামী লীগ কর্মী ছৈয়দ, ইমন ও অলিন কৃষ্ণ শীলকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০-৪০০ জন নেতাকর্মীকে মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এ মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।

মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা, পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও আসামির তালিকায় রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বানারীপাড়া স্টেশনের টিম লিডার আনোয়ার হোসেন জানান, মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেলেও পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়। ফলে তাদের দল ঘটনাস্থলে যায়নি।

মামলার অন্যতম আসামি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম মনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়াতে বিএনপি এ নাটক মঞ্চস্থ করেছে বলে তার দাবি।

অন্যদিকে মামলার আসামি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল বলেন, মামলার বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন যে তাকে আসামি করা হয়েছে। বাদী রাসেলকেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলে দাবি করেন।

বাদী মো. রাসেলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি বোমা বিস্ফোরণের আলামত পেয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আবদুল্লাহ ফকির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিসহ ৪০০ নেতাকর্মীর নামে মামলা

আপডেট সময় ০৪:৫১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:

বরিশালের বানারীপাড়ায় শ্রমিক দল নেতার বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনিসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।

মামলার এজাহারে বলা হয়, শুক্রবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে গরদ্বার গ্রামে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তার বসতঘরে আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন– উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু ও জিয়াউল হক মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন উর রশিদ স্বপন ও নুরুল হুদা, সদস্য আনিছুর রহমান মিলন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ ফারুক সরদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুল হক মাসুম,সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন মোল্লা, মনির হোসেন ও জাহিদ হোসেন সরদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদার, সাবেক সহসভাপতি মনির বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সুমম রায় সুমন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মহসিন ফকির ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সিকদার।

এ ছাড়া পৌর যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ্,যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান সুমন, সেলিম, জসিম মীর, মাসুম আকন সোহাগ মাল, আতিকুল ইসলাম বাপ্পী, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মাল, বন্দর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সুমন পোদ্দার,বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড, আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ্ ফকির, আওয়ামী লীগ নেতা ও বাইশারীর ইউপি সদস্য শাহাদাত ফকির, বাইশারীর সাবেক ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর বেপারী, সাবেক ইউপি সদস্য রিপন বড়াল, ইউপি সদস্য সাহেব আলী বাইশারীর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কালাম বেপারী,আওয়ামী লীগ কর্মী ছৈয়দ, ইমন ও অলিন কৃষ্ণ শীলকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০-৪০০ জন নেতাকর্মীকে মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এ মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।

মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা, পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও আসামির তালিকায় রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বানারীপাড়া স্টেশনের টিম লিডার আনোয়ার হোসেন জানান, মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেলেও পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়। ফলে তাদের দল ঘটনাস্থলে যায়নি।

মামলার অন্যতম আসামি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম মনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়াতে বিএনপি এ নাটক মঞ্চস্থ করেছে বলে তার দাবি।

অন্যদিকে মামলার আসামি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল বলেন, মামলার বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন যে তাকে আসামি করা হয়েছে। বাদী রাসেলকেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলে দাবি করেন।

বাদী মো. রাসেলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি বোমা বিস্ফোরণের আলামত পেয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আবদুল্লাহ ফকির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।