ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘আমরা ইরানে টাকা দিচ্ছি না, তবে অন্যরা চাইলে বিনিয়োগ করতে পারে’ Logo প্রবাসীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিল কাতার, না মানলেই বিপদ Logo পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস Logo গহীন অরণ্যে স্বস্তির আলো: ফ্যামিলি কার্ডে হাসছে বদনীভাঙ্গার নারীরা Logo ‘পঞ্চগড়ে ক্যান্টনমেন্ট চাই’, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারজিসের দাবি Logo পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না ইরান, পাবে বিপুল বিনিয়োগ Logo খালেদা জিয়ার বান্ধবী খালেদা রাব্বানীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী Logo প্রথমার্ধ শেষে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় ডিআর কঙ্গো Logo ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধ/র্ষণ, সংসদে বিতর্ক Logo বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক, ১৩ মুসলিম দেশের অংশগ্রহণ

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধ/র্ষণ, সংসদে বিতর্ক

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্নস্থানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে- জামায়াতে ইসলামীর মেহেরপুর-১ আসনের এমপি মো. তাজউদ্দিন খানের এই বক্তব্যে বুধবার বিতর্ক হয়েছে সংসদের বৈঠকে। বিএনপির আপত্তি জানানোর পর বৈঠকে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ‘ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ’ বক্তব্যকে আপত্তিকর আখ্যা দিয়ে এক্সপাঞ্জ করেন।

তবে দুই দফা বিতর্ক চলে সরকারি ও বিরোধীদলের। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় তাজউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও বলেন, বাজেটে বলা হয়েছে, ৪১ লাখ ফ্যামিলিকে কার্ড দেওয়া হবে। এটা হিসাব করলে ওয়ার্ড প্রতি ৯০টা করে পরিবার কার্ড পাবে। তাহলে বাকি যে দরিদ্র ফ্যামিলিগুলো আছে তাদের অবস্থাটা কী হবে? এবং এটা পাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে সংবাদপত্রগুলাতে ইতোমধ্যেই দেখেছি, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

এই বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির এমপি এম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত না। সংসদে ভাষা জানতে হবে। সেভাবে বলতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের কথা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি। স্পিকারের আসনে থাকা কায়সার কামাল বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করছি।

ডেপুটি স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়ান সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এমপি জামায়াতের হুইপ রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এক্সপাঞ্জ তো হবে; যদি অসত্য তথ্য দিয়ে থাকেন, অথবা অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করে থাকেন।

এরপর আবার ফ্লোর নিয়ে তাজউদ্দিন খান প্রকাশিত সংবাদ এবং পুলিশের বক্তব্যের বরাতে বলেন, ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ফরিদপুরের সোনাগাজী থানায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলা হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে। ওসির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলেছেন। ২৫ এপ্রিল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সহ-সম্পাদক এনামুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এই অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়।

এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর বা এই সরকারের নয়, সারা দেশের মানুষের একটি আশার বিষয়।

মাগরিবের নামাজের বিরতির পর আবারও পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়ান রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, যে ঘটনা পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে এসেছে, একটি দলের নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং অন্য জায়গায় গ্রেপ্তারও করা হয়েছে, তা অসত্য নয়। তাজউদ্দিন খান ফ্যামিলি কার্ডের বিরুদ্ধে বলেননি, বরং ফ্যামিলি কার্ডকে ব্যবহার করে এই অপকর্মের কথা বলেছেন। এটি এক্সপাঞ্জ হওয়ার বিষয় নয়।

উত্তরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তাজউদ্দিন খান পরবর্তীতে মামলা ও তথ্যসূত্র দিয়ে যে কথাগুলো বললেন, তো সংসদীয় রেকর্ডে থাকবে। তখন সরকারি দলের বেঞ্চ থেকে আপত্তি জানালেও, ডেপুটি স্পিকার ঘোষণা করেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমরা ইরানে টাকা দিচ্ছি না, তবে অন্যরা চাইলে বিনিয়োগ করতে পারে’

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধ/র্ষণ, সংসদে বিতর্ক

আপডেট সময় ১২:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্নস্থানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে- জামায়াতে ইসলামীর মেহেরপুর-১ আসনের এমপি মো. তাজউদ্দিন খানের এই বক্তব্যে বুধবার বিতর্ক হয়েছে সংসদের বৈঠকে। বিএনপির আপত্তি জানানোর পর বৈঠকে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ‘ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ’ বক্তব্যকে আপত্তিকর আখ্যা দিয়ে এক্সপাঞ্জ করেন।

তবে দুই দফা বিতর্ক চলে সরকারি ও বিরোধীদলের। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় তাজউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও বলেন, বাজেটে বলা হয়েছে, ৪১ লাখ ফ্যামিলিকে কার্ড দেওয়া হবে। এটা হিসাব করলে ওয়ার্ড প্রতি ৯০টা করে পরিবার কার্ড পাবে। তাহলে বাকি যে দরিদ্র ফ্যামিলিগুলো আছে তাদের অবস্থাটা কী হবে? এবং এটা পাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে সংবাদপত্রগুলাতে ইতোমধ্যেই দেখেছি, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

এই বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির এমপি এম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত না। সংসদে ভাষা জানতে হবে। সেভাবে বলতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের কথা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি। স্পিকারের আসনে থাকা কায়সার কামাল বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করছি।

ডেপুটি স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়ান সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এমপি জামায়াতের হুইপ রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এক্সপাঞ্জ তো হবে; যদি অসত্য তথ্য দিয়ে থাকেন, অথবা অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করে থাকেন।

এরপর আবার ফ্লোর নিয়ে তাজউদ্দিন খান প্রকাশিত সংবাদ এবং পুলিশের বক্তব্যের বরাতে বলেন, ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ফরিদপুরের সোনাগাজী থানায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলা হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে। ওসির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলেছেন। ২৫ এপ্রিল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সহ-সম্পাদক এনামুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এই অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়।

এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর বা এই সরকারের নয়, সারা দেশের মানুষের একটি আশার বিষয়।

মাগরিবের নামাজের বিরতির পর আবারও পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়ান রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, যে ঘটনা পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে এসেছে, একটি দলের নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং অন্য জায়গায় গ্রেপ্তারও করা হয়েছে, তা অসত্য নয়। তাজউদ্দিন খান ফ্যামিলি কার্ডের বিরুদ্ধে বলেননি, বরং ফ্যামিলি কার্ডকে ব্যবহার করে এই অপকর্মের কথা বলেছেন। এটি এক্সপাঞ্জ হওয়ার বিষয় নয়।

উত্তরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তাজউদ্দিন খান পরবর্তীতে মামলা ও তথ্যসূত্র দিয়ে যে কথাগুলো বললেন, তো সংসদীয় রেকর্ডে থাকবে। তখন সরকারি দলের বেঞ্চ থেকে আপত্তি জানালেও, ডেপুটি স্পিকার ঘোষণা করেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।