ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

প্রেমের বিয়ে, ‘খেসারত’ দিতে হলো মাকে হারিয়ে!

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩০ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রেমের বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলের শ্যালকসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হামলায় দিপালী রানী দাস (৫৫) নামে এক নারী নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন ওই নারী।

নিহত দিপালী ওই এলাকার প্রয়াত শৈলেন দাসের স্ত্রী। ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় রাত ৯টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ কনের বাবা-মাসহ তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিবেশী সুকেশ দাসের মেয়ে সুইটি দাসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে শৈলেন দাসের ছেলে সবুজ দাসের। সুইটি দাসের পরিবার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি।

এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয়। দুই বছর আগে সুইটি ও সবুজ গোপনে আদালতে বিয়ে করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে সুইটির পরিবার তাকে জোরপূর্বক ভারতের ত্রিপুরায় তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে সুইটিকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে পালিয়ে সীমান্তের তারকাটা পেরিয়ে দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করে।

কিন্তু তাকে ভারতের পুলিশ আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। বিষয়টি জানতে পেরে সবুজ ত্রিপুরায় তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আইনজীবী নিয়োগ করে সুইটিকে জামিনে মুক্ত করে দেশে নিয়ে আসেন।
দেশে আসার পর তারা দুজন ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিয়ে করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ আরো চরম পর্যায়ে পৌঁছে। সবুজের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি–ধমকি দেয় সুইটির পরিবার।

ফলে সবুজের পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এক মাস আগে তারা নিজ বাড়িতে ফিরে।
এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে সুইটির পরিবারের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় এক যুবক সবুজের পিসাকে হুমকি দেয়। দুপুরে দুই পরিবারের মাঝে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সবুজের বাড়িতে ঢুকে সুইটির ভাই নিলয়সহ আরো কয়েকজন হামলা করে। এ সময় ইটের আঘাতে সবুজের মা দিপালী দাস গুরুতর আহত হলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিব উর রেজা জানান, এ ঘটনায় সুইটির পরিবার মা-বাবাসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

প্রেমের বিয়ে, ‘খেসারত’ দিতে হলো মাকে হারিয়ে!

আপডেট সময় ০১:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রেমের বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলের শ্যালকসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হামলায় দিপালী রানী দাস (৫৫) নামে এক নারী নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন ওই নারী।

নিহত দিপালী ওই এলাকার প্রয়াত শৈলেন দাসের স্ত্রী। ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় রাত ৯টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ কনের বাবা-মাসহ তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিবেশী সুকেশ দাসের মেয়ে সুইটি দাসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে শৈলেন দাসের ছেলে সবুজ দাসের। সুইটি দাসের পরিবার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি।

এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয়। দুই বছর আগে সুইটি ও সবুজ গোপনে আদালতে বিয়ে করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে সুইটির পরিবার তাকে জোরপূর্বক ভারতের ত্রিপুরায় তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে সুইটিকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে পালিয়ে সীমান্তের তারকাটা পেরিয়ে দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করে।

কিন্তু তাকে ভারতের পুলিশ আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। বিষয়টি জানতে পেরে সবুজ ত্রিপুরায় তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আইনজীবী নিয়োগ করে সুইটিকে জামিনে মুক্ত করে দেশে নিয়ে আসেন।
দেশে আসার পর তারা দুজন ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিয়ে করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ আরো চরম পর্যায়ে পৌঁছে। সবুজের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি–ধমকি দেয় সুইটির পরিবার।

ফলে সবুজের পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এক মাস আগে তারা নিজ বাড়িতে ফিরে।
এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে সুইটির পরিবারের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় এক যুবক সবুজের পিসাকে হুমকি দেয়। দুপুরে দুই পরিবারের মাঝে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সবুজের বাড়িতে ঢুকে সুইটির ভাই নিলয়সহ আরো কয়েকজন হামলা করে। এ সময় ইটের আঘাতে সবুজের মা দিপালী দাস গুরুতর আহত হলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিব উর রেজা জানান, এ ঘটনায় সুইটির পরিবার মা-বাবাসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।