ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রাণ ফিরেছে সদরঘাটে, ঈদযাত্রায় স্বস্তি এবার লঞ্চে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

যানজটমুক্ত, আরামদায়ক ও নিরাপত্তার দিক থেকে নৌপথের জনপ্রিয়তা অনেক পুরনো। পদ্মাসেতু, সড়ক ও রেলপথ থাকার পরও দেশের অনেক এলাকার মানুষের কাছে নৌপথ এখনও কাঙ্ক্ষিত ও স্বস্তিময় যোগাযোগ ব্যবস্থা। যদিও পদ্মা সেতু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় স্বাভাবিক সময়ে নৌযাত্রীতে ভাটা পড়েছিল।

কিন্তু এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে যাত্রীর চাপ বেড়েছে রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট নৌ টার্মিনালে। এতে যেন আবারও প্রাণ ফিরেছে সদরঘাট এলাকায়। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের নৌ পথে বাড়ি পৌঁছে দিতে বাড়ানো হয়েছে দৈনিক চলাচলকারী লঞ্চের সংখ্যাও। যাত্রীবোঝাই করে একের পর এক লঞ্চ ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে, যেখানে তিলধারণের জায়গা ছিল না।

বুধবার (১৮ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস হওয়ায় আজ সকাল থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে চিরচেনা উপচেপড়া ভিড় আর ব্যস্ততা। গত কয়েক বছরের নিস্তব্ধতা ভেঙে সদরঘাট যেন আবার তার পুরোনো রূপ ফিরে পেয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই নৌ-বন্দরে ভোর থেকেই যাত্রীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। প্রতিটি লঞ্চ যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে ছেড়ে যাচ্ছে, তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কঠোর নজরদারিতে রেখেছে যেন কোনো লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে না ছাড়ে।

দূরপাল্লার যাত্রীরা পরিবার নিয়ে অনেক আগেই ঘাটে পৌঁছে গেছেন। কেউ টিকিট কাটছেন, কেউ মালপত্র গুছিয়ে লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যাত্রীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা আসন নিশ্চিত করতে ভিড় জমিয়েছেন। পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুরের মতো স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরাও নির্ধারিত লঞ্চ ধরে রওনা দিচ্ছেন।

ঘাটে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনরত ডেক ক্যাডেট মো: গিয়াস সিকদার বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএর অধীনে গত দু’দিন ধরে আমরা এখানে নিয়োজিত আছি। আমাদের টিম শিফটিং অনুযায়ী আগামী ২৯ তারিখ পর্যন্ত এখানে থাকবে। অসুস্থ ও পঙ্গু মানুষদের লঞ্চে উঠতে সাহায্য করা থেকে শুরু করে সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কাজ করছি।’

পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে বরিশাল যাচ্ছেন মুফতিজুল কবির কিরণ। এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঘাটের পরিবেশ বেশ শান্ত। ভাড়া নিয়ে কোনও বাড়তি চাপ নেই। ৪০০ টাকার টিকিট, ১০ পার্সেন্ট ছাড়ে ৩৫০ টাকায় পেয়ে বেশ ভালো লাগছে। ডেক ক্যাডেটদের সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ছেলেগুলো খুব সাহায্য করছে এবং আন্তরিক। বাবাকে লঞ্চে উঠাতে আমার খুব কষ্ট হতো যদি ওরা এগিয়ে না আসতো। এমন উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।

যাত্রীর জন্য পন্টুনে দাঁড়িয়ে নৌযানের স্টাফ জাকির হোসেন মিলন বলেন, ‘আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছি। যাত্রীদের নিরাপত্তা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কর্তৃপক্ষ বারবার মাইকিং করে সতর্ক করছে, যেন অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়া হয়। আমরাও চেষ্টা করছি যাত্রী ধারণক্ষমতার মধ্যে থেকে লঞ্চ ছাড়তে।’

এ বিষয়ে নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে যাত্রীচাপ সামাল দিতে এসব বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের সেবা বাড়াতে বিশেষ কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গতকাল থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১২ দিন টার্মিনাল থেকে লঞ্চ পর্যন্ত যাত্রীদের মালামাল বহনে বিনামূল্যে কুলি বা পোর্টার সেবা দেওয়া হয়েছে। ১০০টি ট্রলি বিমানবন্দর থেকে আনা হয়েছে। অসুস্থ, অক্ষম বা বয়স্কদের জন্য ২০টি গেট এলাকায় মোট ৪০টি হুইলচেয়ার স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবহারে সহায়তা করবেন ক্যাডেট সদস্যরা। সব মিলিয়ে নদী পথের যাত্রাকে সারাদেশে আমরা যানজটমুক্ত আরামদায়ক  ভ্রমণের রোল মডেল হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।’

এ বিষয়ে সদরঘাটের ইজারাদার মোঃ সুমন ভূইয়া বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এক বাংলাদেশ দেখছে সাধারণ জনগণ। গত ৫৪  বছরে সদরঘাটের এমন সুন্দর চিত্র আর কখনো দেখা যায়নি, এমন নিরাপদ পরিবেশ আর কখনো অনুভূত হয়নি। ঈদযাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে কোন ধরনের চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। রায়সাহেব বাজারের পর থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এবং বাংলাবাজার থেকে একমুখী রিক্সা চলাচল করায় যানজট তুলনামূলক কম। নৌপথে বাড়তি ভাড়া কিংবা পার্কিং চার্জ নিয়েও কোন অভিযোগ নেই। দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৫৫ থেকে ৬০টি লঞ্চ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। ইফতারের সময় বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের পক্ষ থেকে। তাছাড়া সদরঘাটের পরিবেশ বর্তমানে অনেক নিরাপদ, সেই বিষয় টা ব্যাপক হারে প্রচার করা হচ্ছে। ট্রেন, বাসে নিয়মিত দূর্ঘটনার সংবাদ শোনা গেলেও, লঞ্চের বড় কোন দূর্ঘটনা এখনো শোনা যায়নি।’

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানিয়েছেন, ঈদের আগে পাঁচ দিন এবং পরে পাঁচ দিনসহ মোট ১০ দিনের জন্য ফ্রি কুলি (পোর্টার) সেবা দেওয়া হয়েছে। কুলিদের বেতন কর্তৃপক্ষ নিজস্বভাবে দিচ্ছে। এবারের ঈদে সদরঘাট হয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষ নদীপথে বাড়ি ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাণ ফিরেছে সদরঘাটে, ঈদযাত্রায় স্বস্তি এবার লঞ্চে

প্রাণ ফিরেছে সদরঘাটে, ঈদযাত্রায় স্বস্তি এবার লঞ্চে

আপডেট সময় ০২:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

যানজটমুক্ত, আরামদায়ক ও নিরাপত্তার দিক থেকে নৌপথের জনপ্রিয়তা অনেক পুরনো। পদ্মাসেতু, সড়ক ও রেলপথ থাকার পরও দেশের অনেক এলাকার মানুষের কাছে নৌপথ এখনও কাঙ্ক্ষিত ও স্বস্তিময় যোগাযোগ ব্যবস্থা। যদিও পদ্মা সেতু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় স্বাভাবিক সময়ে নৌযাত্রীতে ভাটা পড়েছিল।

কিন্তু এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে যাত্রীর চাপ বেড়েছে রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট নৌ টার্মিনালে। এতে যেন আবারও প্রাণ ফিরেছে সদরঘাট এলাকায়। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের নৌ পথে বাড়ি পৌঁছে দিতে বাড়ানো হয়েছে দৈনিক চলাচলকারী লঞ্চের সংখ্যাও। যাত্রীবোঝাই করে একের পর এক লঞ্চ ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে, যেখানে তিলধারণের জায়গা ছিল না।

বুধবার (১৮ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস হওয়ায় আজ সকাল থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে চিরচেনা উপচেপড়া ভিড় আর ব্যস্ততা। গত কয়েক বছরের নিস্তব্ধতা ভেঙে সদরঘাট যেন আবার তার পুরোনো রূপ ফিরে পেয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই নৌ-বন্দরে ভোর থেকেই যাত্রীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। প্রতিটি লঞ্চ যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে ছেড়ে যাচ্ছে, তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কঠোর নজরদারিতে রেখেছে যেন কোনো লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে না ছাড়ে।

দূরপাল্লার যাত্রীরা পরিবার নিয়ে অনেক আগেই ঘাটে পৌঁছে গেছেন। কেউ টিকিট কাটছেন, কেউ মালপত্র গুছিয়ে লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যাত্রীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা আসন নিশ্চিত করতে ভিড় জমিয়েছেন। পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুরের মতো স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরাও নির্ধারিত লঞ্চ ধরে রওনা দিচ্ছেন।

ঘাটে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনরত ডেক ক্যাডেট মো: গিয়াস সিকদার বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএর অধীনে গত দু’দিন ধরে আমরা এখানে নিয়োজিত আছি। আমাদের টিম শিফটিং অনুযায়ী আগামী ২৯ তারিখ পর্যন্ত এখানে থাকবে। অসুস্থ ও পঙ্গু মানুষদের লঞ্চে উঠতে সাহায্য করা থেকে শুরু করে সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কাজ করছি।’

পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে বরিশাল যাচ্ছেন মুফতিজুল কবির কিরণ। এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঘাটের পরিবেশ বেশ শান্ত। ভাড়া নিয়ে কোনও বাড়তি চাপ নেই। ৪০০ টাকার টিকিট, ১০ পার্সেন্ট ছাড়ে ৩৫০ টাকায় পেয়ে বেশ ভালো লাগছে। ডেক ক্যাডেটদের সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ছেলেগুলো খুব সাহায্য করছে এবং আন্তরিক। বাবাকে লঞ্চে উঠাতে আমার খুব কষ্ট হতো যদি ওরা এগিয়ে না আসতো। এমন উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।

যাত্রীর জন্য পন্টুনে দাঁড়িয়ে নৌযানের স্টাফ জাকির হোসেন মিলন বলেন, ‘আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছি। যাত্রীদের নিরাপত্তা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কর্তৃপক্ষ বারবার মাইকিং করে সতর্ক করছে, যেন অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়া হয়। আমরাও চেষ্টা করছি যাত্রী ধারণক্ষমতার মধ্যে থেকে লঞ্চ ছাড়তে।’

এ বিষয়ে নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে যাত্রীচাপ সামাল দিতে এসব বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের সেবা বাড়াতে বিশেষ কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গতকাল থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১২ দিন টার্মিনাল থেকে লঞ্চ পর্যন্ত যাত্রীদের মালামাল বহনে বিনামূল্যে কুলি বা পোর্টার সেবা দেওয়া হয়েছে। ১০০টি ট্রলি বিমানবন্দর থেকে আনা হয়েছে। অসুস্থ, অক্ষম বা বয়স্কদের জন্য ২০টি গেট এলাকায় মোট ৪০টি হুইলচেয়ার স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবহারে সহায়তা করবেন ক্যাডেট সদস্যরা। সব মিলিয়ে নদী পথের যাত্রাকে সারাদেশে আমরা যানজটমুক্ত আরামদায়ক  ভ্রমণের রোল মডেল হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।’

এ বিষয়ে সদরঘাটের ইজারাদার মোঃ সুমন ভূইয়া বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এক বাংলাদেশ দেখছে সাধারণ জনগণ। গত ৫৪  বছরে সদরঘাটের এমন সুন্দর চিত্র আর কখনো দেখা যায়নি, এমন নিরাপদ পরিবেশ আর কখনো অনুভূত হয়নি। ঈদযাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে কোন ধরনের চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। রায়সাহেব বাজারের পর থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এবং বাংলাবাজার থেকে একমুখী রিক্সা চলাচল করায় যানজট তুলনামূলক কম। নৌপথে বাড়তি ভাড়া কিংবা পার্কিং চার্জ নিয়েও কোন অভিযোগ নেই। দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৫৫ থেকে ৬০টি লঞ্চ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। ইফতারের সময় বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের পক্ষ থেকে। তাছাড়া সদরঘাটের পরিবেশ বর্তমানে অনেক নিরাপদ, সেই বিষয় টা ব্যাপক হারে প্রচার করা হচ্ছে। ট্রেন, বাসে নিয়মিত দূর্ঘটনার সংবাদ শোনা গেলেও, লঞ্চের বড় কোন দূর্ঘটনা এখনো শোনা যায়নি।’

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানিয়েছেন, ঈদের আগে পাঁচ দিন এবং পরে পাঁচ দিনসহ মোট ১০ দিনের জন্য ফ্রি কুলি (পোর্টার) সেবা দেওয়া হয়েছে। কুলিদের বেতন কর্তৃপক্ষ নিজস্বভাবে দিচ্ছে। এবারের ঈদে সদরঘাট হয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষ নদীপথে বাড়ি ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481